শিরোনাম

অন্যের গাছের ফল কুড়িয়ে খাওয়া জায়েজ হবে কি?

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : বুধবার, ডিসেম্বর ১৪, ২০২২ ৩:৩২:৫৭ অপরাহ্ণ

আমি যখন ছোট ছিলাম, তখন আমি কখনো কখনো ভোর বেলা অন্যের গাছের নিচে পড়ে থাকা ফল কুড়িয়ে আনতাম। এরকম কাজ আমি বড় হওয়ার পরও করেছি। কিন্তু এখন আমার খারাপ লাগছে যে, কিছু গাছের মালিককে আমি চিনি না; আবার কিছু গাছের মালিক পরিচিত। এখন জানতে চাই যে, এই কারণে কি আমার গুনাহ হবে? আর আমার কী করা উচিত?

এই প্রশ্নের উত্তর হলো- যদি মালিকের পক্ষ থেকে যদি ফল কুড়িয়ে নেওয়ার ব্যাপারে কোনো প্রকার বাধা বা নিষেধ করা না হয়, তাহলে আপনার জন্য ওইসব গাছের নিচে পড়ে থাকা ফল কুড়িয়ে খাওয়া জায়েয হয়েছে। অবশ্য কখনো যদি এ ব্যাপারে মালিকের অসম্মতি বা অসন্তুষ্টি বোঝা যায়, তখন পড়ে থাকা ফলও কুড়িয়ে নেওয়া জায়েয হবে না। (আদ্দুররুল মুখতার : ৪/২৮৪; ফাতাওয়া খানিয়া : ৩/৩৯১; আলমুহিতুল বুরহানি : ৮/৫৪; আন-নাহরুল ফায়েক : ৩/২৮৪)

কোনো অভাবগ্রস্ত ব্যক্তি এমন ফল খেতে পারবে কিনা এ সংক্রান্ত হাদিসে এসেছে- আমর ইবনে শোয়াইব তার পিতার মাধ্যমে তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.)- কে গাছে ঝুলন্ত ফলের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলো। তিনি (সা.) বললেন, যদি কোনো অভাবগ্রস্ত তা থেকে কিছু খায়, তাতে কিছুই নেই; যদি আঁচলে ভরে কিছু না নিয়ে যায়। হ্যাঁ, যদি কিছু নিয়ে যায়, তাহলে তার ওপর দুই গুণ দণ্ড বর্তাবে, তারপর শাস্তিও হবে। আর শস্য মাড়াইয়ের স্থানে বা শস্য উঠান শুকানোর জন্য রাখার পর যে সেখান থেকে একটি ঢাল পরিমাণ মূল্যের কিছু চুরি করবে, তার হাত কাটা যাবে। উল্লেখ্য যে, আমর (রা.)-এর দাদা হারানো উট ও ছাগলের বর্ণনা করেন, যেভাবে অন্যরা উল্লেখ করেছেন।

তিনি আরও বলেছেন যে, আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে হারানো জিনিস সম্পর্কেও জিজ্ঞেস করা হলো। তখন তিনি (সা.) বললেন, যা চলমান পথে-ঘাটে অথবা ঘনবসতি এলাকায় পাওয়া যায়, তবে তার জন্য সে এক বছর প্রচার করবে। তারপর যদি তার মালিক পাওয়া যায়, তবে তো তা তাকে দিয়ে দেবে। আর যদি এর মালিক না আসে, তবে তা তোমার (অধিকার) হবে। আর যা জনমানবহীন জায়গায় পাওয়া যায়, তখন সেটা এবং মাটিতে প্রোথিত গুপ্তধনের এক-পঞ্চমাংশ বায়তুল মালে (সরকারি কোষাগারে) দিতে হবে। (আর অবশিষ্টটা তোমার হবে)। [আবু দাঊদ, হাদিস : ১৭১০, সহিহ আল-জামি, হাদিস : ৫৬৫৮, নাসায়ি, হাদিস : ৪৯৫৮]

অনুমতি ছাড়া জায়েজ হবে না-

এছাড়া অন্যক্ষেত্রে গাছের নিচে পড়ে থাকা ফল মালিকের অনুমতি ছাড়া খাওয়া বৈধ হবে না। যদি মালিকের পক্ষ থেকে অনুমতি থাকে, তাহলে খাওয়া বৈধ হবে। চাই অনুমতি প্রত্যক্ষভাবে থাকুক বা পরোক্ষভাবে থাকুক। (রদ্দুল মুহতার : ৬/৪৪৪; ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া : ৫/৩৯৩; মাজমাউল আনহুর : ২/২৫৬, ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া : ২৩/৩৭৯)

সুতরাং প্রশ্নে উল্লেখিত অবস্থায় যদি উক্ত ফলের মালিকের অনুমতি প্রত্যক্ষভাবে বা পরোক্ষভাবে থাকে, তাহলে আপনার জন্য এই ফলগুলো খাওয়া জায়েয আছে। প্রসঙ্গত, প্রশ্নে উল্লিখিত ছোট থাকার অবস্থায় যেহেতু আপনার জ্ঞান হয়নি, তাই তখনকার বিষয় আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করে দেবেন ইনশাআল্লাহ।

আর যদি মালিকের পক্ষ থেকে মালিকের অসম্মতি বা অসন্তুষ্টি প্রকাশ পায় কিংবা বোঝা যায়, তাহলে প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পর থেকে যতগুলো ফল খেয়েছেন; সেগুলোর জন্য ফলগুলোর মালিকের কাছে গিয়ে যেকোনোভাবেই হোক- মূল্য পরিশোধ করতে হবে বা মাফ চেয়ে নিতে হবে। এই দুইটির কোনোটি নিতান্ত জরুরি। কারণ, বান্দার হক ইসলামে অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। ফলে যতক্ষণ পর্যন্ত বান্দা ক্ষমা করবে না, ততক্ষণ তা আল্লাহও ক্ষমা করবেন না। এমনকি কোনো আমলের মাধ্যমেও তা মাফ হবে না।

আল্লাহ তাআলা আমাদের হারাম খাওয়া থেকে রক্ষা করুন। আমিন।

আরও পড়ুনঃ

মুন্সীগঞ্জ শহরের মানিকপুরে অগ্নিকাণ্ডে একটি বসতঘর পুড়ে ছাই
ব্রাজিল এবার আটলান্টিক মহাসাগরে ডুবিয়ে দিলো নিজেদেরই একটি বিমানবাহী রণতরী
আইএমএফ-এর শর্ত ‘কল্পনার বাইরে’ বলে আখ্যা দিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ
ইউক্রেনকে এবার নতুন ধরনের জিএলএসডিবি বোমা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্র কেনো চীনের বেলুনটিকে ভূপাতিত করতে পারছেন না
সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক পরমাণু শক্তি’র মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের উস্কানিমূলক সামরিক তৎপরতা জবাব দেবে, উত্তর ক...
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু কেন্দ্রগুলোর উপর নজরদারির জন্য গুপ্তচর বেলুন ব্যবহার করছে চীন
আঙ্কারা যদি দু’টি ইউরোপীয় দেশের ন্যাটো জোটে অন্তর্ভুক্তির বিরোধিতা করে তাহলে তুরস্কের এফ-১৬ জঙ্গিবিম...
Spread the love
Facebook Comments

সাম্প্রতিক খবর

Contact Us