শিরোনাম

আমাকে ক্ষমা করে দিবেন হে বীর’ ফেনীর মুকুট বিহীন সম্রাট খ্যাত জয়নাল হাজারীর সমাধিতে ভক্তের চিরকুট

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : শনিবার, জানুয়ারি ৮, ২০২২ ৮:০৩:৫৮ অপরাহ্ণ
আমাকে ক্ষমা করে দিবেন হে বীর' ফেনীর মুকুট বিহীন সম্রাট খ্যাত জয়নাল হাজারীর সমাধিতে ভক্তের চিরকুট
আমাকে ক্ষমা করে দিবেন হে বীর’ ফেনীর মুকুট বিহীন সম্রাট খ্যাত জয়নাল হাজারীর সমাধিতে ভক্তের চিরকুট

পেয়ার আহাম্মদ চৌধুরী, ফেনী জেলা প্রতিনিধিঃ
‘আমাকে ক্ষমা করে দিবেন হে বীর নেতা যাদের ভয়ে গত ২০টি বছর আপনার সাথে দেখা করতে পারিনি মৃত্যু পরও তাদের বৃত্তের কারণে ভালো করে আপনার মুখ খানা দেখতে পারিনি। ইতি আপনার ভক্ত।’

সদ্যপ্রয়াত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক সাংসদ বীর মুক্তিযোদাধা জয়নাল আবদীন হাজারীর সমাধিতে এক ভক্তের আবেগঘন চিরকুট পাওয়া গেছে। চিরকুটটি লিখে ওই ভক্ত ফুল এবং পাথর চাপা দিয়ে মুজিব উদ্যানের হাজারী সমাধিতে রেখে যান।

গত ২৭ ডিসেম্বর সোমবার রাজধানী ঢাকার ল্যব এইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তিন দিন আগে তিনি হৃদরোগসহ নানা সমস্যা নিয়ে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি হন। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সোহরাব উজ্জামানসহ একাধিক চিকিৎসকের অধীনে মেডিকেল বোর্ড গঠন করে তার চিকিৎসা চলছিল। সোমবার সকালে তিনি আরেক দফা হৃদরোগে আক্রান্ত হন এবং লাইফ সাপোর্টে থাকাবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যু কালে তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর।

এককালের ফেনীর মুকুট বিহীন সম্রাট খ্যাত জয়নাল আবেদীন হাজারীর জন্ম ২৪ আগষ্ট ১৯৪৫ সালে ফেনীর মাষ্টার পাড়ায়। পিতা গনী হাজারী ও মাতা রিজিয়া বেগম। ব্যাক্তিগত জীবনে তিনি অবিবাহিত ছিলেন। জয়নাল হাজারী ১৯৮৬, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে টানা তিনবারের জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৮৪ সাল থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০১ সালের ১৬ আগস্ট রাতে জয়নাল হাজারীর বাড়িতে অভিযান চালায় যৌথবাহিনী। তিনি তখন পালিয়ে আত্মগোপনে ভারতে চলে যান। ২০০৪ সালে হাজারীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় এলে তিনি ভারত থেকে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। পরে সব মামলা থেকে একে একে অব্যাহতি পান প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ।

রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়া জয়নাল হাজারী ধানমন্ডির ফ্ল্যাটেই বেশির ভাগ সময় কাটাতেন। সেখানে নিজের সম্পাদিত পত্রিকা ‘হাজারিকা প্রতিদিন’ নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন।
তার চার-পাঁচজন ব্যক্তিগত কর্মচারীও থাকেন ওই ফ্ল্যাটে। আর নিরাপত্তার জন্য চারজন আনসার সদস্য । ২০১০ সাল থেকে এই নিরাপত্তা পাচ্ছিলেন তিনি।
হাজারিকা সম্পাদনা ছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সব সময়ই সক্রিয় এই রাজনীতিক। মাসে দু’বার ফেসবুক লাইভে এসে বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে বক্তব্য দিতেন তিনি।
সেখানে ফেনীর রাজনৈতিক, সামাজিক বিভিন্ন সমস্যা নিয়েও কথা বলতেন। আর তার অবসর কাটাতেন লেখালেখি করে, ইন্টারনেট আর ক্রিকেট খেলা দেখে। মাঝে মাঝে দেশের বাহিরে গিয়ে।

দেড় দশক পর ২০১৯ সালে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা পদ পান তিনি।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Facebook Comments

সাম্প্রতিক খবর

Contact Us