শিরোনাম

আরিচা-কাজীরহাট নৌকায় চলছে যাত্রী পারাপার বেশী ভাড়া গুনতে হচ্ছে

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : সোমবার, মে ১০, ২০২১ ৫:১৮:৪৩ অপরাহ্ণ
আরিচা-কাজীরহাট নৌকায় চলছে যাত্রী পারাপার বেশী ভাড়া গুনতে হচ্ছে
আরিচা-কাজীরহাট নৌকায় চলছে যাত্রী পারাপার বেশী ভাড়া গুনতে হচ্ছে

মোঃ লুৎফর রহমান সোনার বাংলা ৩৬৫ সোমবার, ১০ মে, ২০২১ পাবনার কাজীরহাট নৌঘাট দিয়ে আরিচার দিক থেকে শত শত যাত্রী উত্তরের জেলাগুলোতে আসছেন। এসব যাত্রীর বেশির ভাগই আসছেন ফেরিতে।

আর কিছু যাত্রী আসছেন পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে ইঞ্জিনচালিত নৌকায়। ইঞ্জিনচালিত নৌকায় আসা যাত্রীদের কাজীরহাট ফেরিঘাট থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে রাজ ধরদিয়া নামের চরে নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

সেখান থেকে যাত্রীরা পায়ে হেঁটে কাজীরহাট নৌঘাটে এসে বাস, সিএনজিচালিত অটোরিক্সায় চড়ে গন্তব্যে যাচ্ছেন। রোববার,( ৯ মে) সকাল ৭টা থেকে ১০টা পর্যন্ত সরেজমিনে কাজীরহাট নৌঘাট এলাকায় থেকে এ দৃশ্য দেখা গেছে। রোববার সকাল ৭টার কিছু আগে কাজীরহাট ফেরিঘাট থেকে একটি ফেরি কয়েকটি যানবাহন নিয়ে আরিচার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেলেও তাতে সাধারণ যাত্রী ছিল একেবারেই কম।

এর পর সকাল ১০টা পর্যন্ত আরিচার উদ্দেশ্যে আর কোনো ফেরি কাজীরহাট থেকে ছেড়ে যায়নি। তবে সকাল পৌনে ১০টার দিকে আরিচা থেকে কেতকি নামের একটি ফেরি কাজীরহাট ফেরিঘাটে বিভিন্ন যানবাহন ও শতাধিক যাত্রী নিয়ে এসে ভেড়ে। ফেরিতে যানবাহনের মধ্যে যাত্রীরা ঠাসাঠাসি অবস্থায় দাঁড়িয়েছিলেন। সেখানে যাত্রীদের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো লক্ষণই ছিল না। অনেকের মুখে মাস্কও দেখা যায়নি।

সকাল পৌনে ৮টার দিকে কাজীরহাট নৌঘাট থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে রাজ ধরদিয়া চরে গিয়ে দেখা যায় ইঞ্জিনচালিত নৌকা থেকে দ্রুত যাত্রী নামানো হচ্ছে। ছবি তোলার জন্য সেখানে এগিয়ে যেতেই নৌকাটি দ্রুত চলে যায়। যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাঁরা আরিচা থেকে এসেছেন। এমনিতে ইঞ্জিনচালিত নৌকার ভাড়া ৬০ টাকা করে হলেও প্রতিজন যাত্রীর কাছ থেকে ২০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে বলে যাত্রীরা জানান।

যাত্রীদের সরাসরি আরিচা নৌঘাট থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় না তুলে কিছুটা দূরের চর থেকে তোলা হয় বলে জানা যায়। এ ব্যাপারে কথা বলার সময় বেশির ভাগ যাত্রীই কথা বলেতে বিরক্তি প্রকাশ করেন। কাজীরহাট নৌঘাটে কর্মরতদের সূত্রে জানা গেছে, স্বাভাবিক সময়ে এই ঘাট থেকে আরিচার মধ্যে স্পিডবোট, লঞ্চ, ফেরি ও ইঞ্জিনচালিত নৌকায় যাত্রী পারাপার করা হয়ে থাকে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে নিষেধাজ্ঞার কারণে স্পিডবোট ও লঞ্চ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

আর নিয়মিতভাবে ফেরি চলাচল করার পাশাপাশি সুযোগ বুঝে বেশ কয়েকটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা কৌশলে যাত্রী পারাপার করছে। এদিকে কাজীরহাট নৌঘাট এলাকায় আরিচা থেকে আরও দুই-তিনটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় যাত্রী নামিয়ে দিতে দেখা যায় চর এলাকার ফাঁকা জায়গায়। পুলিশ বা সাংবাদিক দেখা মাত্রই নৌকাগুলোকে দিক পরিবর্তন করে অন্য জায়গায় যেতে দেখা যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেশি ভাড়া পাওয়ার লোভে পুলিশি নজর এড়িয়ে কিছু মাছধরা নৌকাও যাত্রী পারাপার করছে। তবে উপজেলার কাজীরহাট থেকে আরিচা যাওয়ার যাত্রী খুব কম দেখা গেছে। যেসব যাত্রীদের দেখা গেছে তাঁরা সবাই ফেরিতে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন।

এর কারণ হিসেবে অবশ্য আরিচা যাওয়ার ক্ষেত্রে ইঞ্জিনচালিত নৌকা না পাওয়ার কারণটিই প্রধান বলে জানা গেছে। আরিচা থেকে যেসব নৌকা যাত্রী নিয়ে এসেছে সেগুলো ফাঁকা জায়গায় দ্রুত যাত্রী নামিয়ে দিয়ে ফিরতি যাত্রী ছাড়াই আবার আরিচার দিকে ফিরে গেছে।

সকাল ৯টার দিকে কথা হয় পাবনার সুজানগর উপজেলার ত্রিমোহিনী গ্রামের রবিউল ইসলামের সঙ্গে তিনি জানান, স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকায় আত্মীয়ের বাসায় যাওয়ার জন্য সকাল ৭টা থেকে দুই ঘন্টা ধরে ঘাটে বসে আছেন। কিন্তু কোনো ফেরি বা ইঞ্জিনচালিত নৌকা না পাওয়ায় ওপারে যেতে পারছেন না। পাবনার আতাইকুলার এক যাত্রী (রাগ করে নাম বলেননি) ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, ‘আপনাদের (সাংবাদিক) লেখালেখির জন্যই আমাগরে এত কষ্ট কইর‌্যা ঢাকা থেকে আসা লাগতেছে। প্রয়োজন আছে দেইখ্যাই এত রিস্ক নিয়া আমরা বাড়ি আসতেছি।

অল্প নৌকা চলার কারণে প্রত্যেক নৌকায় গাদাগাদি কইর‌্যা যাত্রী উঠতেছে। বেশি নৌকা চললি নৌকায় ভিড় ও ভাড়া দুইই কম থাকতো।’ কাজীরহাট নৌঘাটে দায়িত্ব পালন করছিলেন নগরবাড়ী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির বেশ কয়েকজন তাঁদের মধ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) রকিব মোহাম্মদ বলেন, ‘লঞ্চ ও স্পিড বোটতো এমনিতেই বন্ধ আছে। ইঞ্জিনচালিত নৌকা যাতে যাত্রী আনতে বা নিতে না পারে সে ব্যাপারে আমরা কঠোরভাবে পাহারা দিচ্ছি।’

কিন্তু এর মধ্যেও সুযোগ বুঝে দুই-একটি নৌকা যাত্রী নিয়ে আসছে। আমরা যাত্রী নিয়ে আসায় এ ধরনের দুটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা আজ আটক করেছি।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Facebook Comments

সাম্প্রতিক খবর

Contact Us