শিরোনাম

ইউরোর সেমিফাইনালে ২৯ বছর পর ডেনমার্ক!!

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : রবিবার, জুলাই ৪, ২০২১ ২:৫১:০২ পূর্বাহ্ণ
ইউরোর সেমিফাইনালে ২৯ বছর পর ডেনমার্ক
ইউরোর সেমিফাইনালে ২৯ বছর পর ডেনমার্ক

শুরুতেই আগ্রাসী ফুটবল খেলে দুই গোলে এগিয়ে গিয়েছিল ডেনমার্ক। বিরতির পর গোল শোধ করে খেলায় ফেরার তীব্র চেষ্টা চালিয়েও পেরে উঠেনি চেক প্রজাতন্ত্র। তাদের স্বপ্নযাত্রা থামিয়ে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে উঠে গেল ডেনমার্ক। শেষ চারের লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড বা ইউক্রেন। ১৯৯২ সালে ইউরোর মুকুট পরা ডেনিশরা ২৯ বছর পর সেমিফাইনালে উঠেছে।

আজারবাইজানের বাকু অলিম্পিক স্টেডিয়ামে শনিবার তৃতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে ২-১ গোলে জিতেছে ডেনমার্ক। টমাস ডেলানি ও কাসপের ডলবার্গের গোলে দলটি এগিয়ে যাওয়ার পর ব্যবধান কমান পাত্রিক শিক।

প্রথমার্ধে আক্রমণে আধিপত্য করে ডেনমার্ক, দ্বিতীয়ার্ধে চেক রিপাবলিক। বল দখলে কিছুটা এগিয়ে থাকা চেকরা ম্যাচে গোলের জন্য শট নেয় ১৬টি, ৫টি ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে ডেনমার্কের ১১ শটের ৭টি লক্ষ্যে ছিল।

ডেনিশদের শুরুটা হয় দুর্দান্ত। পঞ্চম মিনিটেই এগিয়ে যায় তারা। ম্যাচের প্রথম কর্নারে হেডে বল জালে পাঠান অরক্ষিত মিডফিল্ডার ডেলানি।

চতুর্দশ মিনিটে আরেকটি ভালো সুযোগ পায় ডেনমার্ক। সতীর্থের লম্বা করে বাড়ানো বল ধরে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন মিকেল ডামসগার্ড। এগিয়ে আসা গোলরক্ষককে ফাঁকি দিতে চেয়েছিলেন তিনি, কিন্তু শটে জোর ছিল না তেমন। গোললাইন থেকে ফেরান এক ডিফেন্ডার।

দুই মিনিট পর আবার সুযোগ পান ডেলানি। ডান দিক থেকে সতীর্থের নিচু ক্রসে ডি-বক্সে তার ভলি লক্ষ্যে থাকেনি।

২২তম মিনিটে গোলরক্ষক কাসপের স্মাইকেলের ভুলে বিপদে পড়তে বসেছিল ডেনমার্ক। তিনি বল তুলে দেন প্রতিপক্ষের লুকাস মাসোপুস্টের পায়ে। পরে এই মিডফিল্ডারের পাসে কাছ থেকে তমাস হোলেসের প্রচেষ্টা ঠেকান স্মাইকেল।

বিরতির আগে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ডলবার্গ। বাঁ দিক থেকে ইওয়াখিম মেইলের দারুণ ক্রসে ছয় গজ বক্সের মুখে ভলিতে ঠিকানা খুঁজে নেন ২৩ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।

আসরে ডলবার্গের গোল হলো তিনটি। শেষ ষোলোয় ওয়েলসের বিপক্ষে দলের ৪-০ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে করেছিলেন জোড়া গোল।

দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম তিন মিনিটে তিনটি সুযোগ তৈরি করে চেক রিপাবলিক। মিকায়েল ক্রমেনচিকের শট সহজেই ঠেকানোর পর বারাকের শট ডান দিকে ঝাঁপিয়ে ফেরান স্মাইকেল। আর ডি-বক্সে শিকের বাইসাইকেল কিক এক ডিফেন্ডারের গায়ে লাগে।
৪৯তম মিনিটে চেকদের আর আটকে রাখতে পারেনি ডেনিশরা। ডান দিক থেকে ভ্লাদিমির কুফলের নিচু ক্রসে ডি-বক্সে ভলিতে ব্যবধান কমান শিক। পাঁচ ম্যাচে শিকের গোল হলো পাঁচটি।

৬১তম মিনিটে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের সঙ্গে সংঘর্ষে মাথায় আঘাত পান চেক রিপাবলিকের তমাস সুচেক। মাথায় ব্যান্ডেজ নিয়ে খেলা চালিয়ে যান এই মিডফিল্ডার।

৭৮তম মিনিটে ব্যবধান বাড়তে পারতো ডেনমার্কের। প্রায় ২০ গজ দূর থেকে ইউসুফ পোলসেনের নেওয়া শট ঝাঁপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন গোলরক্ষক তমাস ভাসিলিক।

যোগ করা সময়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে চেক রিপাবলিকের বারাকের ভলি পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে গেলে পরের ধাপে যাওয়ার আশা শেষ হয়ে যায় তাদের। উৎসবে মাতে ডেনিশরা।

১৯৯২ সালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর এই প্রথম মহাদেশীয় প্রতিযোগিতাটির সেমিফাইনালে উঠল ডেনমার্ক। অথচ প্রথম দুই ম্যাচ হেরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায়ের শঙ্কায় পড়েছিল তারা। শেষ রাউন্ডে রাশিয়াকে ৪-১ গোলে হারিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হিসেবে জায়গা করে নেয় শেষ ষোলোয়। যেখানে ওয়েলসকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে নিশ্চিত করে শেষ আটের টিকেট। স্বপ্নময় পথচলায় দলটি এগিয়ে গেল আরো এক ধাপ।

চেক রিপাবলিক নকআউটে আসে তৃতীয় হওয়া সেরা চার দলের একটি হয়ে। শেষ ষোলোয় তারা অবিশ্বাস্যভাবে হারিয়ে দেয় গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচের সবগুলো জিতে উড়তে থাকা নেদারল্যান্ডসকে।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Facebook Comments

সাম্প্রতিক খবর

Contact Us