শিরোনাম

ঈদকে সামনে রেখে টুংটাং শব্দে মুখরিত দেবিদ্বারের কামার পল্লী

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : সোমবার, জুলাই ২৭, ২০২০ ১২:৪৫:৪৯ পূর্বাহ্ণ
ঈদকে সামনে রেখে টুংটাং শব্দে মুখরিত দেবিদ্বারের কামার পল্লী
ঈদকে সামনে রেখে টুংটাং শব্দে মুখরিত দেবিদ্বারের কামার পল্লী
শাহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া(দেবিদ্বার,কুমিল্লা প্রতিনিধি)
আর মাত্র কয়েক দিন পরেই উদযাপন হতে যাচ্ছে  পবিত্র ঈদুল আযহা(কুরবানী ঈদ) । আল্লাহ্ নামে পশু কুরবানী করে আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও গরীব দুুঃস্থদের মাঝে পশুর মাংস বন্টন আমাদের মুসলিমদের ধর্ম ও ইসলাম ধর্মের সবচেয়ে বড় দ্বিতীয় ধর্মীয় উৎসব। তাইতো দা, ছুরি, বটিদা, কাঁটাড়ী ধরনের উপকরণ তৈরীতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার কামার  পল্লীর শ্রমিকরা ।
সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দম ফেলার ফুসরত নেই তাদের। লাল টুকটুকে লোহা আর হাতুড়ির টুংটাং শব্দে মুখরিত দেবিদ্বার পুরাতন বাজারের কামার পল্লী,কোম্পানিগঞ্জ বাজারের কামার পল্লী সহ আশেপাশের বাজারের কামার পল্লীগুলো। রাত-দিন হাতুড়ি ও লোহার টুং টাং শব্দে সরগরম এলাকা। আর নাওয়া-খাওয়া ভুলে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন কামাররা। তৈরি করছেন কাটরি, হাঁসুয়া, ছুরি, চাপাতি, দা, বঁটি।
পাশাপাশি চলছে মোটরচালিত মেশিনে পুরাতন সরঞ্জামে শান দেওয়ার কাজ। আগামী ১ আগষ্ট শনিবার  ঈদুল আযহা । যতই দিন ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে কামারদের ব্যস্ততা।সরেজমিনে দেখা যায়,উপজেলার  বিভিন্ন হাট-বাজার ও কামার পল্লীতে ব্যস্ত কামাররা। সারা বছর কাজের চাপ না থাকলেও ঈদুল আযহার আগে কাজের চাপ বাড়ে। কামারদের দাবি, এই কোরবানির মৌসুমেই তাদের সবচেয়ে বেশি কাজ হয়।
তবে কয়লা ও লোহার দাম বেশি হওয়ায় অন্য বারের চেয়ে এবার ছুরি, দা, বটির দাম কিছুটা বেশি বলে জানান কামাররা। আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় কামার শিল্প বিলুপ্তপ্রায়। সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে পারছেন না এ শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা। উল্টো প্রযুক্তির দাপটে ক্রমেই মার খাচ্ছে এ শিল্প। বছরের ১১ মাস কামার পল্লীতে তেমন একটা কাজ থাকে না বললেই চলে।সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে পারছেন না এ শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা। আগুনের শিখায় তাপ দেওয়া লাল টকটকে লোহা হাতুড়ির পেটানোর টুং-টাং শব্দে তৈরী হচ্ছে ছুরি, দা, বটিদাসহ নানা রকমরে অস্ত্র।
দেবিদ্বার পুরাতন বাজারের  কামারপল্লীর শ্রমিকরা জানায়,  পূর্ব পুরুষ থেকে আমি এই পেশা ধরে রেখেছি। সাধারণত স্প্রিং লোহা ও কাঁচা লোহা ব্যবহার করে এই দা, বটি ও ছুরি তৈরী করা হয়। স্প্রিং লোহা দিয়ে তৈরী উপকরণরে মান ভালো, দামও বেশ। আর কাঁচা লোহার তৈরী উপকরণ গুলোর দাম তুলনা মূলকভাবে কম হয়ে থাকে। এছাড়াও লোহার মান অনুযায়ী স্প্রিং লোহা ৫০০ টাকা, সাধারণ লোহার তৈরী ৩০০ টাকা, পশুর চামড়া ছাড়ানো ছুরি ১০০ থেকে ২০০ টাকা, দা ১৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, বটি ২০০ থকেে ৪০০ টাকা, পশু জবাইয়ের ছুরি ৩০০ থকেে ১৫০০ টাকায় বিক্রি হয়।কামার পল্লীর মতি কামার বলেন, বাপ-দাদার আমলে কামারশিল্পের বেশ চাহিদা ছিল।
এ কারণে বংশ পরস্পরায় তিনি নিজেকে এ কাজের সঙ্গে জড়িয়ে রেখেছেন। তবে  আগের সেই র্স্বণ যুগ আর নেই। র্বতমানে প্রযুক্তির ছোঁয়ায় যন্ত্র নির্ভর হয়ে পড়েছে। এতে আমাদের তৈরী করা জিনিস পত্রের চাহিদাও একদম কমে গছে। কিন্তু ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিক্রয়ের সাথে বেড়ে যায় ব্যস্ততাও। , কোরবানিতে ব্যবহৃত এসব অস্ত্রের দাম বাড়লেও প্রভাব পড়েনি ক্রেতাদের মাঝে। অনেকেই স্বাভাবিক ভাবেই নিয়েছে এই দাম বাড়ার বিষয়টি।
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Facebook Comments

সাম্প্রতিক খবর