শিরোনাম

কমেনি সাহেদের দম্ভোক্তি

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : রবিবার, জুলাই ২৬, ২০২০ ১:৪৪:৪২ পূর্বাহ্ণ
কমেনি সাহেদের দম্ভোক্তি
কমেনি সাহেদের দম্ভোক্তি

রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারক সাহেদ ও তার সহযোগীদের কাছ থেকে বেরিয়ে আসছে প্রতারণার নতুন নতুন তথ্য। জিজ্ঞাসাবাদে সাহেদ প্রতারণার কথা স্বীকার করলেও তার দম্ভোক্তি কমেনি। যত তদন্ত বা মামলাই হোক আমাকে সর্বোচ্চ ৬ মাসের বেশি সময় আটকে রাখা যাবে না গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে এমন দম্ভোক্তি প্রকাশ করেন সাহেদ।

এছাড়া গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে সাহেদ ও রিজেন্ট গ্রুপের এমডি মাসুদ পারভেজ প্রতারণার নানা তথ্য প্রকাশ করছেন। সাহেদ ও তার অন্যান্য সহযোগীদের দেয়া তথ্য নিয়ে কাজ করছে একটি গোয়েন্দা সংস্থা। এছাড়া সাহেদ ও তার সহযোগীদের বিষয়ে র‌্যাবের হটলাইনে যেসব অভিযোগ জমা পড়েছে তা তদন্ত করছে র‌্যাব। একই সাথে এসব অভিযোগের ভিত্তিতে সাহেদসহ অন্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন র‌্যাবের কর্মকর্তারা। দায়িত্বশীল সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সাহেদ-মাসুদদের প্রতারণার শিকার হওয়া ব্যক্তিদের আইনি পরামর্শ দেয়া হচ্ছে জানিয়ে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, আমরা প্রত্যেকের সঙ্গে কথা বলেছি। যার যে ধরনের সহায়তা প্রয়োজন, তাদের সেভাবে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে রিমান্ডে থাকা সাহেদ ও মাসুদ পারভেজকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। নমুনা পরীক্ষায় জালিয়াতির ঘটনায় দু’জনকে গ্রেফতারের পর দেশের বাইরে ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ১২০টি মৌখিক ও ৩০টি ই-মেইলের মাধ্যমে অভিযোগ এসেছে। মোট সাড়ে ১২ কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগ এখন পর্যন্ত এসেছে।

রিমান্ডে থাকা অবস্থায় সাহেদকে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন একটি সংস্থার এমন একজন কর্মকর্তা দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, অস্ত্রসহ গ্রেফতার, রিজেন্ট হাসপাতাল সিলগালা করা ও নানা প্রতারণার অর্ধশতাধিক মামলার আসামি হয়েও প্রভাব কমেনি সাহেদের। রিমান্ডে নানা প্রতারণার কথা স্বীকার করলেও সাহেদের মধ্যে কোনো অনুশোচনা নেই। জিজ্ঞাসাবাদে সুযোগ পেলেই প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সাথে অতীতের সম্পর্কের কথা প্রকাশ করছেন তিনি। এমনকি প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিদের সাথে সখ্যতা নিয়েও নানা গল্প শোনাতে ভোলেন না সাহেদ।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সাহেদ রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তার কিছুই হবে না এমন ধরনের কথা উল্লেখ করে বলেন, যত তদন্ত বা মামলাই হোক আমাকে সর্বোচ্চ ৬ মাসের বেশি সময় আটকে রাখা যাবে না। অনেকেই আমাকে সাহায্য করবেন। অনেকের জন্য অনেক কিছু করেছি। তবে তদন্তের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রতারক সাহেদের এসব কথায় মনোযোগ না দিয়ে মামলা তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদের প্রতি বেশি মনোযোগী বলে ওই কর্মকর্তা জানান।

সূত্র জানায়, ছাতকের ব্যবসায়ী এখলাস খান। তিনি সাহেদের কাছে পান এক কোটি ৪৯ লাখ টাকা। আর মাসুদ পারভেজের কাছে পান ৪০ লাখ ৫২ হাজার টাকা। এখলাস খানের কাছ থেকে তারা পূর্বাচলে একটি প্রজেক্টের জন্য বালি ও কক্সবাজারের একটি প্রজেক্টের জন্য পাথর এনেছিলেন। কিন্তু ওয়ার্ক অর্ডার অনুযায়ী, মাল (পাথর ও বালু) আনলোড করার পর থেকেই টাকা দেয়া নিয়ে বাহানা শুরু করে সাহেদ ও মাসুদ।

ব্যবসায়ী এখলাস খান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়েছেন, গত ফেব্রুয়ারি মাসে পাথর ও বালি আনলোড করা হয়। কিন্তু টাকা দেয়নি। টাকা চাইতে গেলে আজ দেবে কাল দেবে শুরু করে। একপর্যায়ে ৩০ লাখ টাকার একটি চেক দিয়েছিল। সেই টাকাও উত্তোলন করা যায়নি।

গত ৬ জুলাই র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলমের নেতৃত্বে রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। এই সময় পরীক্ষা ছাড়াই করোনার সনদ দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা ও অর্থ হাতিয়ে নেয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। এরপর ৭ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্দেশে র‌্যাব রিজেন্ট হাসপাতাল ও তার মূল কার্যালয় সিলগালা করে দেয়। একইদিন উত্তরা পশ্চিম থানায় রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। এরপর থেকে সাহেদ ও মাসুদ পারভেজ পলাতক ছিলেন। ১৪ জুলাই বিকালে গাজীপুরের কাপাসিয়া থেকে মাসুদ পারভেজকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। এর পরদিন ১৫ জুলাই ভোরে সাতক্ষীরা থেকে সাহেদকে গ্রেফতার করা হয়। প্রতারণার মামলাটি প্রথমে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করলেও বর্তমানে মামলাটি র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সাহেদ ও মাসুদ পারভেজ দু’জনই ১০ দিনের রিমান্ডে রয়েছেন।

১০ দিনের রিমান্ডে রিজেন্ট হাসপাতালের এমডি
করোনার নমুনা পরীক্ষা না করে মেট্রোরেলের ৭৬ শ্রমিককে নেগেটিভ প্রতিবেদন দেয়ার মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিজেন্ট হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মিজানুর রহমানকে ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল দুপুরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই ইয়াদুর রহমান তাকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের হেফাজতের আবেদন করেন। শুনানি শেষে মহানগর হাকিম মো. মইনুল ইসলাম তা মঞ্জুর করেন। গতকাল ভোরে গোপালগঞ্জের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ।

উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি তপন চন্দ্র্র সাহা বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। সে মেট্রোরেলের ৭৬ শ্রমিকের ভুয়া করোনা রিপোর্ট দিয়েছিল। গত ২০ জুলাই উত্তরা পশ্চিম থানায় মেট্রোরেলের একটি সাব-কন্ট্রাক্টর প্রতিষ্ঠানের পক্ষে রেজাউল করীম বাদী হয়ে রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদ ও মিজানুরসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন।

অভিযোগে বলা হয়, মেট্রোরেলে কর্মরত ৭৬ কর্মীর করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে রিজেন্ট হাসপাতাল। এজন্য মাথাপিছু সাড়ে ৩ হাজার টাকা নেয়া হয়। কিন্তু পরীক্ষা না করেই নেগেটিভ রিপোর্ট দেয়। এর ফলে মেট্রোরেল কর্মীদের মধ্যে সংক্রমণ বেড়েছে।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Facebook Comments

সাম্প্রতিক খবর