শিরোনাম

করোনার দ্বিতীয় ডেউয়ের কবলে প্রতিদিনই সংক্রমনের নতুন রেকর্ড তৈরী হচ্ছে !!

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : সোমবার, এপ্রিল ৫, ২০২১ ১১:২৪:২৭ অপরাহ্ণ
করোনার দ্বিতীয় ডেউয়ের কবলে প্রতিদিনই সংক্রমনের নতুন রেকর্ড তৈরী হচ্ছে !!
করোনার দ্বিতীয় ডেউয়ের কবলে প্রতিদিনই সংক্রমনের নতুন রেকর্ড তৈরী হচ্ছে !!

মো: গোলাম মোস্তফা-মোস্তাক বিশেষ প্রতিনিধি:করোনার দ্বিতীয় ডেউয়ের কবলে প্রতিদিনই সংক্রমনের নতুন রেকর্ড তৈরী হচ্ছে !! প্রথমের চেয়ে দ্বিতীয় বড়।

বাংলাদেশের করোনা ভাইরাসের প্রথম বারের সংক্রমনের চেয়ে দ্বিতীয় ডেউয়ের সংক্রমনের মাত্রা অনেক বেশী । গতকাল 01 এপ্রিল 24 ঘন্টায় অতীতের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে সংক্রমিত হয়েছে 6469 জন। সংক্রমনের এই ভয়াবহতা আরো বাড়তে পারে।

মাননীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রী পরিস্থিতি আয়ত্বের বাইরে চলে চাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন । ঢাকার কোভিড বিষেশায়িত প্রায় সব হাসপাতালের আইসিইউ সহ কোন ধরনের শয্যা খালি নাই। গতকাল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে অনেক সিরিয়াস রোগীকে ফেরত যেতে দেখা গেছে।

সরকার ইতিমধ্যে 18 দফা নির্দেশনা জারি করেছে। রাজপথ, নৌপথ, রেলপথ সহ বিমানের যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রেও বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গত কালের সংসদ অধিবেশনে সবাইকে কঠোরভাবে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলাসহ জনসমাগম এড়িয়ে চলতে বলেন এবং বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক ও হাতে স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে বলেন।

বিএনপি মহাসচিব দলের সমস্ত কর্মসুচী স্থগিত করেছেন এবং সবাইকে নিরাপদে অবস্থান করতে বলেছেন। এতোকিছুর পরও জনগনের মধ্যে সচেতনতার লেশমাত্র দেখা যাচ্ছে না। অবাদে সবকিছু চলছে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোন লক্ষন নাই। গতকাল ঢাকায় দুজনের বেশী বাইকে না উঠানোর প্রতিবাদে বাইক রাইডারদের সড়ক অবরোধ করতে দেখা গেছে। কথায় আছে,

বাঙালী নাকি শক্তের ভক্ত, নরমের যম । জনগন সরকারের নির্দেশনা না মানলে সরকারকে শক্ত হাতে তা কার্যকর করার ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে না হলে করোনা মহামারি আমাদের মহা বিপদে ফেলবে। এদিকে করোনা ভাইরাসের টিকার কার্যকারিতা নিয়ে মানুষের মনে সন্দেহ সংশয় তো রয়েছেই এমনকি নানা ধরণের নেতিবাচক প্রচার প্রপাগন্ডারও অন্ত নাই।

এরই মধ্যে আগামী ৮ই এপ্রিল থেকে করোনা ভাইরাসের টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেয়া শুরুর কথা থাকলেও নতুন করে টিকা পাওয়া নিয়ে সংকটের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। এমনকি প্রথম ডোজ পাওয়া সবাইকে দ্বিতীয় ডোজ দেয়ার মতো পর্যাপ্ত টিকাও এ মূহুর্তে স্বাস্থ্য বিভাগের হাতে নেই।

পাশাপাশি ভারতে তৈরি অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা রপ্তানির ক্ষেত্রে দেশটি সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারির পর এ নিয়ে আশঙ্কা আরও তীব্রতর হয়েছে। জানুয়ারি থেকে গত তিন মাসে বাংলাদেশের কেনা টিকার মধ্যে দেড় কোটি ডোজ আসার কথা থাকলেও স্বাস্থ্য বিভাগের হিসেবেই এখন পর্যন্ত সে টিকা থেকে বাংলাদেশে পেয়েছে অর্ধেকেরও কম।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, সেরাম ইন্সটিটিউট থেকে যথাসময়ে টিকা না এলে তারা ‘অন্য পরিকল্পনা’ করবেন । তবে বাস্তবতা হলো সেরাম ইন্সটিটিউট ছাড়া অন্য কোন সূত্র থেকে টিকা আনার জন্য আনুষ্ঠানিক কোনো চুক্তি এখন পর্যন্ত করতে পারেনি বাংলাদেশ।

এমন পরিস্থিতিতে সেরাম ইন্সটিটিউট চুক্তি অনুযায়ী টিকা দিতে ব্যর্থ হলে করোনার টিকা দেয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বিভাগ। গভীর সংকটে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সাবধানতার মার নেই, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোন বিকল্প নেই।

দল মত নির্বিশেষে আমাদের সকলকেই সচেতন হয়ে সামনের মহামারি মোকবেলায় প্রস্ত্তুত থাকতে হবে। শুধুমাত্র কোন প্রতিষ্ঠান বা সরকারের একক প্রচেষ্টায় এই মহাসংকট থেকে উত্তরনের সুযোগ নেই।

দেশের সুনাগরিক হিসাবে করোনা মোকাবেলায় যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে না পারলে আমাদের অনেক বড় খেসারত দিতে হত পারে

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Facebook Comments

সাম্প্রতিক খবর

Contact Us