শিরোনাম

কলাপাড়ায় পৌর শহরের নদীর পাড়ের সরকারী খাস জমি প্রকাশ্যে দখল, দখলদারদের হুমকী প্রশাসন সব ম্যানেজ ॥

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : শনিবার, মে ২৯, ২০২১ ৭:৫৯:২১ অপরাহ্ণ
কলাপাড়ায় পৌর শহরের নদীর পাড়ের সরকারী খাস জমি প্রকাশ্যে দখল, দখলদারদের হুমকী প্রশাসন সব ম্যানেজ ॥
কলাপাড়ায় পৌর শহরের নদীর পাড়ের সরকারী খাস জমি প্রকাশ্যে দখল, দখলদারদের হুমকী প্রশাসন সব ম্যানেজ ॥

রাসেল কবির মুরাদ , কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি   ঃ   কলাপাড়ায় পৌরশহরের
ফেরীঘাট এলাকার নদীর পাড় পর্যন্ত বিস্তৃত চর এলাকার সরকারী খাসজমি দখল
করে প্রকাশ্য দিবালোকে অবৈধ স্থাপনা তুললেও নির্বিকার  স্থানীয়
প্রশাসনের। প্রভাবশালীদের খাস জমি দখলের প্রবনতা দিন দিন বেড়ে যাওয়ায়
কোটি কোটি টাকার সরকারী জমি হাত ছাড়া  হয়ে যাচ্ছে । কখনও কখনও স্থানীয়
প্রশাসন আই ওয়াশমূলক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দু/একটি অভিযান চালালেও
অধিকাংশ সময়ই রহস্যজনকভাবে তাদের নিরব ভূমিকায় দেখা যায় । কেননা
দখল-দৌরাত্ম্যে যারা জড়িত তারা রাঘব-বোয়াল, এজন্য তাদের টিকিটিও ছুঁতে
পারে না প্রশাসন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কলাপাড়া পৌরশহরের বড় কলবাড়ী এলাকা থেকে ফেরীঘাট
চৌরাস্তা, হ্যালিপ্যাড, লঞ্চঘাট, বাদুরতলি হয়ে বালিয়াতলি খেয়াঘাট পর্যন্ত
পাউবো’র কয়েক কিলোমিটার ওয়াপদা সড়কের দু’পাশে আধা পাকা কিংবা পাকা
স্থাপনা তুলে প্রভাবশালীদের দখল থেকে অদ্যবধি কোন সরকারী জমি উদ্ধার করতে
পারেনি পাউবো কর্তৃপক্ষ। শত কোটি টাকার এ সম্পত্তিতে প্রভাবশালীরা
স্থাপনা তুলে লক্ষ লক্ষ টাকা অগ্রিম ও মাসিক হাজার হাজার টাকা ভাড়া পেলেও
সিকি আধুলিও রাজস্ব পাচ্ছে না সরকার এ থেকে। বছর কয়েক আগে পাউবো
কর্তৃপক্ষ অবৈধ স্থাপনা অপসারনে দখলদারদের উচ্ছেদ নোটিশ দিলেও বেশীদূর
এগোয়নি তা। এছাড়া শহরের অভ্যন্তরে প্রভাবিত সরকারী খালের দু’পাড়ে
প্রভাবশালীদের হাজার হাজার অবৈধ স্থাপনা দৃশ্যমান থাকলেও তা চোখে পড়ছেনা
স্থানীয় প্রশাসনের। তবে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ
থেকে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট নিযুক্ত না করার কথা দীর্ঘদিন ধরে বলছে পৌর
প্রশাসন। চিংগড়িয়া খালের দু’পাড়ের অবৈধ দখল উচ্ছেদে পরিবেশবাদী সংগঠন
বেলা উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দাখিল করার পর স্থানীয় ভূমি প্রশাসন নোটিশ
ইস্যু করে দখলদারদের। এরপর এক প্রভাবশালী কলাপাড়া সিনিয়র সহকারী জজ
আদালতে প্রশাসনকে বিবাদী করে মামলা করায় আর এগোয়নি এটি। দীর্ঘবছর ধরে
মামলাটি ঝুলে আছে, অদ্যবধি নিস্পত্তি হয়নি। রাষ্ট্রের সকল ভাতাদি ভোগ
করার পরও রাষ্ট্রের পক্ষে রহস্যজনক ভাবে কথা বলছেনা সরকারী কৌশুলী।
লঞ্চঘাট সংলগ্ন আন্ধারমানিক নদীর পাড় বেদখল হয়ে ভবন উত্তোলনের পর
দখলদারদের নোটিশ ইস্যু করেও টিকিটিও ছুঁতে পারেনি ভূমি প্রশাসন, কারন
উচ্চ আদালতের আদেশ দখলদারদের পক্ষে।

এদিকে কলাপাড়া ফেরীঘাট এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে নদীরপাড় পর্যন্ত বিস্তৃত
এলাকার সরকারী খাসজমি দখল করে গত ক’দিন ধরে বেশ ক’টি স্থাপনা তুলছে ক’জন
প্রভাবশালী। ঘটনাস্থলের ছবি তুলতে গেলে দখলদারদের বক্তব্য, কি হবে ফালতু
এসব ছবি তুলে ও লিখে, প্রশাসন সব ম্যানেজ। এনিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের
সাথে কথা বলে শোনা যায়, তারা এ বিষয়ে অবগত নন। কেউ তাদের জানায়নি।

পরিবেশবাদী সংগঠন বেলা’র স্থানীয় নেট মেম্বার ও কলাপাড়া প্রেসক্লাবের
সাবেক সভাপতি মেজবাহ উদ্দীন মাননু এ প্রতিবেদককে বলেন, নদী, খাল দখলদার
উচ্ছেদ করতে হবে। এটি আমরা বলে আসছি এবং এখনও এ দাবী জানাচ্ছি। নতুবা নদী
কেন্দ্রিক আমাদের যে সভ্যতা রয়েছে তা হারিয়ে যাবে।

কলাপাড়া পৌরসভার মেয়র বিপুল চন্দ্র হাওলাদার গনমাধ্যমকে বলেন, পৌরশহরের
অভ্যন্তরে প্রবাহিত খালের দু’পাড় দখল মুক্ত করার বিষয়টি আমার নির্বাচনী
প্রচারনার অঙ্গীকার ছিল। যেকোন মূল্যেই খাল দখলদার মুক্ত করা হবে। তাতে
যত বাঁধাই আসুক।

পাউবো’র উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী শওকত ইকবাল মেহেরাজ প্রধান প্রকৌশলী’র সাথে
স্পীডবোটে বেড়িবাঁধ পরিদর্শনে আছেন বলে এ নিয়ে কোন বক্তব্য দেননি।

কলাপাড়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) জগৎবন্ধু মন্ডল সাংবাদিকদের বলেন, ভূমি
প্রশাসন ও পাউবো থেকে যেসব দখলদারদের অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে ইতোপূর্বে
নোটিশ করা হয়েছে তাদের তালিকা করা হয়েছে। যা ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক
কার্যালয়ে উচ্ছেদ পরিচালনায় কেস নথি হিসেবে তৈরী করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক
কার্যালয় থেকে উচ্ছেদ পরিচালনায় নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট নিযুক্ত হলেই
উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে সকল অবৈধ স্থাপনা অপসারন করা হবে।
নতুন করে ফেরীঘাট এলাকায় নদীরপাড় পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় স্থাপনা তুলে
অবৈধ দখল বিষয়ে অবগত নই, খোঁজ নিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে
বেলে তিনি জানান।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Facebook Comments

সাম্প্রতিক খবর

Contact Us