শিরোনাম

কুড়িগ্রামে বন্যার পানিতে ১৪ শিশুসহ ১৯ জনের মৃত্যু

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : মঙ্গলবার, জুলাই ২১, ২০২০ ৭:০০:০৮ অপরাহ্ণ
কুড়িগ্রামে বন্যার পানিতে ১৪ শিশুসহ ১৯ জনের মৃত্যু
কুড়িগ্রামে বন্যার পানিতে ১৪ শিশুসহ ১৯ জনের মৃত্যু

কুড়িগ্রাম জেলায় চলতি বন্যায় পানিতে ডুবে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শিশুর সংখ্যা ১৪ জন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া এ মৃত্যুর মিছিল থামানো সম্ভব না।

কুড়িগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কন্ট্রোল রুমের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত ২০ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত বন্যার পানিতে ডুবে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১৪ জন শিশু। যার মধ্যে ৬ জন কন্যা শিশু ও ৮জন ছেলে শিশু।

মৃত শিশুরা হল আরাফাত আলী (৭), শান্ত মিয়া (১০), বেলাল হোসেন (৫), মুক্তাসিন (১৪ মাস), কথা রায় (২), জাহিদ (১২),সুচরিতা (২), মাহিন (১৭মাস), লামিয়া খাতুন (২), কেয়া আক্তার মীম (১০), রাকু (১৫), মুন্নি (১৮ মাস), লাদেন (৭) ও বায়েজিদ (৮)। মৃত অন্যরা হলেন জামাল ব্যাপারী (৫৫), সৈয়দ আলী (৭০), আবদুল আবুয়াল (৪০), নুরুল আমিন (৭০) ও সুরুজ্জামান (৪৩)।

সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমান শুধু পানিতে ডুবে ১৪ জন শিশুর মৃত্যুতে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন শুধুমাত্র জনসচেতনতার মাধ্যমে এ মৃত্যুর মিছিল থামানো সম্ভব। এ জন্য স্বাস্থ্য বিভাগ জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। সব চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য কর্মীদের এ ব্যাপারে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। মাঠ পর্যায়ের সকল কর্মী চিকিৎসা সেবা দেয়ার পাশাপাশি শিশুদের সতর্ক রাখতে অভিভাবকদের সতর্ক থাকতে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

তবে সুধু স্বাস্থ্য বিভাগ প্রচার চালালে চলবে না জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, জনপ্রতিনিধিসহ সকল পক্ষকে সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে সচেতনতার কাজটি করতে হবে। তা হলে ভাল ফলাফল পাওয়া যেতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

কুড়িগ্রাম শিশু ও মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের উপ-পরিচালক শাহানা আক্তার হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, শত চেষ্টা করেও সচেতনতা ধরে রাখা যাচ্ছে না। আমাদের সব উদ্যোগ ভেস্তে যাচ্ছে। বন্যার মধ্যেও মানুষ তার পশু-পাখিসহ সব সম্পদ রক্ষা করতে পারলেও ভালবাসার সব চেয়ে বড় সম্পদ প্রিয় সন্তানকে আগলে রাখতে পারছে না। অবহেলা আর খামখেয়ালিপনার কারণে হয়তো এমনটি ঘটছে। চ্যালেঞ্জ হল দুরন্তপনা শিশুদের আগলে রাখা। আমরা আমাদের সকল কাজের সাথে শিশু সুরক্ষার সচেতনতার প্রচার অব্যাহত রেখেছি।

কুড়িগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কন্ট্রোল রুমের তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, সর্ব শেষ ১৯ জুলাই উলিপুরে গুনাইগাছ ইউনিয়নে গুনাইগাছ পূর্বপাড়া গ্রামের মঞ্জু মিয়ার শিশু পুত্র হোসাইন ওরফে লাদেন (৭) সবার অগোচরে বাড়ির পার্শ্বের পুকুরের পানিতে পড়ে যায়। সে খেলতে গিয়ে অসাবধনতায় পানিতে পড়ে ডুবে যায়।

নাগেশ্বরী উপজেলার মোল্লাপাড়া গ্রামের খোকনের পুত্র আরাফাত আলী (৭) গত ২০ জুন বাড়ির পাশে ডোবার পানিতে ডুবে মারা যায়। সে খেলতে গিয়ে অসাবধানতা বশত পানিতে পড়ে ডুবে যায়। পরে পরিবারের লোকজন মৃত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে। এটি ছিল চলতি বন্যায় পানিতে ডুবে কুড়িগ্রামের প্রথম মৃত্যু।

চিলমারী উপজেলার বড়াইমারি চর গ্রামের শান্ত মিয়া (১০), কুড়িগ্রাম সদরের হলোখানার জাহিদ (১২), নাগেশ্বরী উপজেলার মাদারগঞ্জ, বল্লবেরখাস গ্রামের কেয়া আক্তার মীম (১০), উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা ইউনিয়নের চর বাগুয়া গ্রামের বায়েজিদ (৮) কৌতুহল বশত বন্যার পানি দেখতে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা যায়। সখের বশে মাছ ধরতে গিয়ে মারা যায় চিলমারী উপজেলার সবুজপাড়া গ্রামের রাকু (১৫)।

উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের চিড়া খাওয়া গ্রামের বকুল মিয়ার কন্যা মুন্নি (১৮মাস), নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের চৌদ্দঘুরি গ্রামের আনিছুর রহমানের পুত্র মাহিন (১৭ মাস), ইউনিয়ন দুর্গাপুর, উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের জানজাইগীর গ্রামের সাইফুলের কন্যা মুক্তাসিন (১৪ মাস) এরা পরিবারের লোকজনের চোখের অগোচরে বাড়ির উঠানের পানিতে পড়ে মারা যায়।

নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুরের মোল্লাপাড়া গ্রামের আমির আলী মোল্লার পুত্র বেলাল হোসেন (৫) বন্যার পানিতে গোসল করতে গিয়ে ডুবে মারা যায়।

কুড়িগ্রাম সদরের মোগলবাসা ইউনিয়নের কানা রায়ের মেয়ে কথা রায় (২), চিলমারী উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের বজরা তবকপুর গ্রামের মুকুল চন্দ্র বর্মণের মেয়ে সুচরিতা (২) ও নাগেশ্বরী উপজেলার বল্লবেরখাস ইউনিয়নের ব্রক্ষতর গ্রামের আলমগীর হোসেনের মেয়ে লামিয়া খাতুন (২) বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে সবার অগোচরে বন্যার পানিতে ডুবে মারা যায়।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Facebook Comments

সাম্প্রতিক খবর