শিরোনাম

কেশবপুরে গাছিদের খেজুরের রস সংগ্রহে প্রস্তুতি শুরু

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : মঙ্গলবার, নভেম্বর ১৭, ২০২০ ৯:৩৮:৩৬ অপরাহ্ণ
কেশবপুরে গাছিদের খেজুরের রস সংগ্রহে প্রস্তুতি শুরু
কেশবপুরে গাছিদের খেজুরের রস সংগ্রহে প্রস্তুতি শুরু
যশোরের কেশবপুরে শীতের আমেজ আসার সাথে সাথে গাছিরা খেজুরের রস সংগ্রহে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন।প্রকৃতির পালা বদলে আসে শীত। প্রভাতে শিশির ও ঘন কুয়াশা জানান দিচ্ছে শীতের আগমণী বার্তা।শীতের মৌসুম শুরু হতে না হতেই রস ও গুড়ের চাহিদা মেটাতে গাছিরা খেজুর গাছ কাটা শুরু করেছেন। খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহের জন্য এখন গাছের আগায় বিশেষ পদ্ধতিতে কাটা চলছে। ধারালো দা (গাছিদা) দিয়ে খেজুর গাছ কাটা হয়।যাকে বলে চাঁচ দেওয়া। সপ্তাহ খানেক পর নোলন স্থাপনের মাধ্যমে শুরু হয় সুস্বাদু খেজুর রস সংগ্রহের কাজ। তার কিছুদিন পরই গাছে লাগানো হবে মাটির পাতিল বা ভাড়।এই মাটির পাতিল বা ভাড়ে সংগ্রহ করা হবে খেজুরের রস। তা দিয়ে তৈরি হবে লোভনীয় গুড় ও পাটালি। কেশবপুরের বেশির ভাগ গ্রামে চোখে পড়ে খেজুর গাছের বিশাল সমারোহ। জমির আইলে ও পতিত জায়গায় অসংখ্য খেজুর গাছ দেখা যায়। কেশবপুর উপজেলার হাসানপুর, বরনডালি, মৃর্জানগর, চাঁদড়া, বড়েঙ্গা, মঙ্গলকোট, মজিদপুর, দোরমুটিয়া ও সাতবাড়িয়াসহ প্রভৃতি গ্রাম জুড়ে রয়েছে খেজুরের গাছ।শীত মৌসুমে খেজুরের রস দিয়েই গ্রামীণ জনপদে শুরু হয় শীতের আমেজ। শীত যত বাড়বে, খেজুরের রস তত বেশি পরিমাণে হবে। শীতের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ দিনের শুরুতে খেজুরের রস, সন্ধ্যা রস ও সুস্বাদু গুড়-পাটালী। বাড়ীতে বাড়ীতে খেজুুরের রস জ্বালিয়ে পিঠা পায়েসসহ হরেক রকমের মুখরোচক খাবার তৈরির ধুম পড়ে শীতকালে। সুস্বাদু পিঠা ও পায়েস তৈরীতে আবহমান কাল থেকে খেজুর গুড় ওতপ্রোতভাবে জড়িত। শীতকালে খেজুরের রস বিক্রি ও গুড় তৈরির কাজ এলাকায় চলে পুরোদমে। এখন চলছে প্রস্তুতি। কৃষকরা জানান, খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহের জন্য বিশেষ পদ্ধতিতে গাছের আগা কাটা হয়। গাছের আগা কাটা শ্রমিকও সহজে পাওয়া যায় গ্রামে। ২৫০ থেকে ৩০০টাকা মজুরি নিয়ে তারা গাছ কাটেন। শীতের পুরো মৌসুমে তারা বাড়িতে খেজুরের গুড় ও পাটালি তৈরি করেন। ওই সময় তাদের প্রতিদিন আয় হয় এক থেকে দুই হাজার টাকা। অনেক কৃষকের খেজুর গাছ কেটেও সংসার চলে‌। এখানকার কারিগরদের দানা পাটালি তৈরিতে ব্যাপক নাম।খেজুরের গুড়-পাটালীর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে অন্যান্য জেলা ও দেশের বাইরেও।অনেকে দেশের বাইরেও সরবরাহ করেন সুস্বাদু গুড়-পাটালী।
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Facebook Comments

সাম্প্রতিক খবর