শিরোনাম

কেশবপুর মঙ্গলকোটের কাঁচা রাস্তাটির কারণে জনদুর্ভোগ চরমে

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : সোমবার, আগস্ট ৩১, ২০২০ ১০:২৩:৩২ অপরাহ্ণ
কেশবপুর মঙ্গলকোটের কাঁচা রাস্তাটির কারণে জনদুর্ভোগ চরমে
কেশবপুর মঙ্গলকোটের কাঁচা রাস্তাটির কারণে জনদুর্ভোগ চরমে
আবু হুরাইরা রাসেল যশোর থেকে প্রতিনিধি যশোরের কেশবপুর উপজেলার মঙ্গলকোট বাজার হতে গোলাঘাটা ব্রিজ ভায়া মঙ্গলকোট আকুঞ্জি পাড়া জামে মসজিদ পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তাটি আজও পাকাকরণ হয়নি। এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি দ্রুত পাকাকরণের দাবী জানালেও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় জনদুর্ভোগ চরমে। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, জনগুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন শত শত লোক মঙ্গলকোট, বিদ্যানন্দকাটি, মজিদপুর, সফরাবাজ,আলতাপোলসহ বিভিন্ন গ্রামের লোকজন যাতায়াত করে থাকেন।
একটু বর্ষা হলে কর্দমাক্ত হয়ে চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ফলে কোন ভ্যান, সাইকেল, মোটর সাইকেলতো দূরের কথা মানুষ পর্যন্ত ঠিকমতো চলাচল করতে পারে না। এলাকার মানুষের প্রাণের দাবী, রাস্তাটি পাকাকরণ করা হলে বিভিন্ন গ্রামের ছাত্র-ছাত্রী ও লোকজনের যাতায়াতে ভোগান্তি কমবে। অন্যদিকে মূমুর্ষ রোগী বহন করতে বেগ পেতে হবেনা। শ্রমজীবি মানুষেরা ভ্যান, অটো-রিক্সা চালিয়ে সংসার চালাতে পারবে।
এলাকার কৃষকরা ধান, পাট, কাঁচা ফসল কম খরচে বাজারে নিয়ে যেতে পারবে। ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জহির রায়হান জানান, মঙ্গলকোট ইউনিয়নে একই গ্রামের মধ্যে মঙ্গলকোট বাজার ভায়া গোলাঘাটা ব্রিজ ৭ দশমিক ৬৩ কিলোমিটার রাস্তাটি সবচেয়ে দীর্ঘতম। তার মধ্যে ২ দশমিক ৫ কিলোমিটার কার্পেটিং, ১ কিলোমিটার ইটের হেয়ারিং, ০.৫ কিলোমিটার ইটের সোলিং এবং বাকী প্রায় ৪ কিলোমিটার কাঁচা রয়েছে।
যুগ যুগ ধরে এলাকার জনগণ রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য দাবি জানিয়ে আসছেন। এবার যিনি এমপি হয়েছেন তিনি তাদের প্রাণের দাবিটা পূরণ করবেন বলে তারা বিশ্বাস করেন। ওই এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান গাজী জানান, রাস্তাটি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ। জনদুর্ভোগ লাঘব করতে রাস্তাটি পাকাকরণের প্রয়োজন। সমাজ সেবক মাস্টার আবদুল লতিফ সরদার জানান, কাঁদার ভয়ে মঙ্গলকোট বাজারে যেতে পারিনা। রাস্তাটি অত্যান্ত জনগুরুত্বপূর্ণ। তিনি পাকাকরণের দাবী করেন। মঙ্গলকোট ইউনিয়ন কৃত্রিম প্রজনন টেকনিশিয়ান মফিজুর রহমান জানান, বর্ষা হলে ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকায় যেতে পারি। কিন্তু গোলদার পাড়া থেকে কাঁদার কারণে এই রাস্তায় ঢুকতে পারিনা।
এই জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে। গোলাঘাটা দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার সদ্য অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক এনামুল কাদির জানান, আমার বাড়ির পুকুর পাড় থেকে গোলাঘাটা হয়ে গোলদারপড়া পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তাটির খুব খারাপ অবস্থা। বর্ষা মৌসূমে এলাকার ছাত্র-ছাত্রীদের গোলাঘাটা হাইস্কুল, গোলাঘাটা মাদ্রাসায়, মঙ্গলকোট প্রাইমারী ও হাইস্কুল, কেশবপুর কলেজে যেতে অনেক কষ্ট করতে হয়। মানুষ হাট-বাজারে যেতে পারেনা। কোন মুমূর্ষ রোগি কেশবপুর হাসপাতালে নেওয়ার উপায় থাকেনা। এলাকার লোক জনের বিপদ আপদ হলে বর্ষার সময় কোন এ্যাম্বুলেন্স যেতে পারবে না। ফলে যোগাযোগের অভাবে রোগী মারাও যেতে পারে।
ভ্যান চালক আহম্মদ আলী গাজী, হারুন মোড়ল, আকবর আলী গোলদার জানান, ওই ওয়ার্ডের মধ্যে ২০ থেকে ২৫ জন ভ্যান, করিমন, আলমসাধু চালক আছে। তাদের দাবী মঙ্গলকোট বাজার থেকে গোলাঘাটা হয়ে মঙ্গলকোট ঠাকুর বাড়ি পর্যন্ত পাকা থাকলে তারা কিছু উপার্জন করে সংসার চালাতে পারতো। তাদের প্রাণের দাবী এই রাস্তাটি পাকা হোক। মঙ্গলকোট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বজলুর রহমান সরদার জানান, অবহেলিত জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি পাকা করা অত্যন্ত প্রয়োজন। রাস্তাটি সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদারের মাধ্যমে পাকা হবে বলে আশা করি।
মঙ্গলকোট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন অসুস্থতার কথা জানালে সচিব মোকলেছুর রহমান জানান, ওই রাস্তাটি বড় প্রজেক্ট ছিল। সে কারণে প্রয়াত এমপি ইসমাত আরা সাদেক এর নিকট দেওয়া হয়েছিল। এব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী মুনছুর আলী জানান, ওই রাস্তাটি পাকাকরণের একটি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Facebook Comments

সাম্প্রতিক খবর