শিরোনাম

খুনের আসামী সেই চেয়ারম্যানকে বরখাস্তের দাবিতে  ইউএনও-ডিসির কাছে অভিযোগ

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৫, ২০২১ ১০:২০:৪৯ অপরাহ্ণ

রাহাদ সুমন,  বিশেষ প্রতিনিধি॥

বরিশালের বানারীপাড়ায় উপজেলা জাসদের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ হুমায়ুন কবির হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি চাখার ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান সৈয়দ মজিবুল ইসলাম টুকুকে বরখাস্তের দাবি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপন কুমার সাহা ও বরিশাল জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দারের কাছে অভিযোগ আকারে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। হত্যা মামলার বাদী ও নিহতের ভাই সৈয়দ তরিকুল ইসলাম আপনুর ১৫ জুলাই বৃহস্পতিবার সকালে ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ মজিবুল ইসলাম টুকুর বিরুদ্ধে আদালতে দাখিলকৃত বানারীপাড়া থানার অভিযোগপত্র (চার্জশীট),মামলার কপি ও এ সংক্রান্ত পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের কপিসহ বিভিন্ন প্রমানাদি সহকারে লিখিত অভিযোগ করেন।

এতে তিনি উল্লেখ করেন, তার নিরপরাধ রোজাদার ভাইকে সৈয়দ মজিবুল ইসলাম টুকুসহ অপর আসামীরা  প্রকাশ্য দিবালোকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্মম নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করেন। একজন ঘাতকের কাছে এলাকার মানুষের জানমাল নিরাপদ নয় উল্লেখ করে জনস্বার্থে তাকে চেয়ারম্যান পদ থেকে বরখাস্ত করা প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে উপজেলা জাসদের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ হুমায়ুন কবির হত্যা মামলার বাদী সৈয়দ তরিকুল আপনূর বলেন, সন্তানকে হত্যা করে অশীতিপর বৃদ্ধ মায়ের বুক খালি ও ভাই-বোনদের নিঃস্ব করে ঘাতকরা বীরদর্পে দাপিয়ে বেড়াবে আর বিচারের বাণী কি নিরবে নিভৃতে কাঁদবে ? মামলা তুলে নিতে বার বার হুমকি ও হামলার শিকার হয়ে নিজে জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় থাকার কথা উল্লেখ করে শঙ্কিত সৈয়দ তরিকুল ইসলাম আপনূর আরও বলেন, ২০১১ সালে সৈয়দ মজিবুল ইসলাম টুৃকু চাখার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে শপথ ভঙ্গ করে আমার নিরপরাধ ভাইকে হত্যা করেছে, ২০২১ সালের ২১ জুন তিনি দ্বিতীয় বারের মতো নির্বাচিত হয়ে ১৩ জুলাই শপথ নিয়েছেন,এবারও তার হাতে কেউ নির্মম হত্যাকান্ডের শিকার হবেন না তার গ্যারান্টি কি?। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে এ প্রসঙ্গে বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপন কুমার সাহা বলেন,

চাখারের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান সৈয়দ মজিবুল ইসলাম টুকুর ব্যপারে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা চেয়ে চিঠি লেখা হবে। উল্লেখ্য ২০০৯ সালের স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইনের ৩৪ ধারায়  কোন  ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলায় অভিযোগপত্র আদালতে গৃহীত হলে অথবা অপরাধ আদালত আমলে নিলে সেক্ষেত্রে সরকার লিখিত আদেশের মাধ্যমে ওই চেয়ারম্যানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করতে পারবে। সাময়িকভাবে বরখাস্তের আদেশ প্রদান করা হলে আদেশ প্রাপ্তির ৩ (তিন) দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান নির্বাচিত প্যানেল চেয়ারম্যানের নিকট দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন।  উক্ত প্যানেল চেয়ারম্যান সাময়িক বরখাস্তকৃত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আনীত কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত অথবা চেয়ারম্যান অপসারিত হলে তার স্থলে নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন। জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হলে তাকে সাময়িক বরখাস্তের এ বিধান থাকলেও ২০১৩ সালে  চাখারের তৎকালীণ ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ মজিবুল ইসলাম টুকুর বিরুদ্ধে হত্যা মামলায় আদালতে চার্জশীট দাখিলের পরে ওই সময় তিনি বহাল তবিয়তে প্রায় তিন বছর (২০১৩-২০১৬) চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালণ করে তার মেয়াদ শেষ করেন। তখন বরখাস্তের দাবি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করা হলে তিনি নির্দেশনা চেয়ে জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ে ইউনিয়ন পরিষদ শাখায় চিঠি পাঠান। স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের তৎকালীণ সিনিয়র সচিব নুরুল বাছির এ বিষয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসককে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

কিন্তু অজ্ঞাতকারনে তার বিরুদ্ধে তখন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এসব অমিমাংসিত প্রশ্নের মধ্যেই  ১৩ জুলাই মঙ্গলবার  চাখারের দ্বিতীয়বারের মত নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে সৈয়দ মজিবুল ইসলাম টুকু শপথ নেন। বরিশাল সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে  প্রথম দফায় সৈয়দ মজিবুল ইসলাম টুকুসহ বরিশালের নবনির্বাচিত ৪৮ জন চেয়ারম্যানকে শপথবাক্য পাঠ করান জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার। এদিকে প্রশ্ন উঠেছে আগামী ৫ বছর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালণকালীন স্থানীয় সরকার আইনের ওই ধারামতে তার বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে ?  নাকি বহাল তবিয়তে তিনি এবারও তার মেয়াদ পূর্ণ করবেন ।  প্রসঙ্গত  হত্যা মামলার চার্জশীটভূক্ত আসামী ও সাবেক ছাত্রদল নেতা সৈয়দ মজিবুল ইসলাম টুকুকে নৌকার টিকিট দেওয়ায় শুরু থেকেই স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও জাসদে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

ওই সময় টুকুসহ ওই হত্যা মামলার সকল আসামিদের ফাঁসির দাবিতে হত্যা মামলার বাদী ও নিহত সৈয়দ হুমায়ুন কবিরের ভাই সৈয়দ তরিকুল ইসলাম আপনুর এবং তার অশীতিপর বৃদ্ধা মা ও ভাই-বোনসহ জাসদ নেতা-কর্মীরা বানারীপাড়া পৌর শহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এবং বরিশালে টাউন হলের সামনে মানববন্ধন করেছিলেন। তখন বানারীপাড়া ও বরিশালসহ বিভিন্ন এলাকায় আসামীদের ছবির গলায় ‘ফাঁসির দড়ি’ দেওয়া পোষ্টার সাঁটানো হয়। এছাড়া ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনেও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ১৯ জুলাই শুক্রবার জুমার নামাজ পড়তে যাওয়ার পথে উপজেলা জাসদের তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক রোজাদার সৈয়দ হুমায়ুন কবিরকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে লোহার পেরেক ঢুকিয়ে ও অন্ডকোষ থেতলে দেওয়াসহ মধ্যযুগীয় কায়দায় বর্বর নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়। জানা গেছে, মামলাটি বর্তমানে বরিশাল জেলা যুগ্ম জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে এবং টুকুসহ অপর আসামীরা জামিনে রয়েছেন। সৈয়দ মজিবুল ইসলাম টুকু ২০০১ সালে চাখার ইউনিয়ন ছাত্রদল সভাপতি হুমায়ুন কবির সিকদার হত্যা মামলারও আসামি ছিলেন। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় বানারীপাড়া থানায় অপরাধমূলক বেশ কয়েকটি মামলা ও জিডি হয়েছে।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Facebook Comments

সাম্প্রতিক খবর

Contact Us