শিরোনাম

‘গোবরে কোভিডমুক্তি’, চিকিৎসকদের সর্তকতা

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : বুধবার, মে ১২, ২০২১ ৫:০৯:২৯ অপরাহ্ণ
‘গোবরে কোভিডমুক্তি’, চিকিৎসকদের সর্তকতা
‘গোবরে কোভিডমুক্তি’, চিকিৎসকদের সর্তকতা

মো: গোলাম মোস্তফা-মোস্তাক বিশেষ প্রতিনিধি, পাবনা। কোভিড মহামারীতে বিপর্যস্ত ভারতে এর মধ্যেই সোয়া দুই কোটির বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে; ভাইরাস দেশটির প্রায় আড়াই লাখ মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে বলে ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

বিশেষজ্ঞরা অবশ্য এ সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে আসছেন; আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে পাঁচ থেকে ১০ গুণ বেশি হতে পারে বলে ধারণা তাদের। ভারতজুড়ে এখন অসংখ্য নাগরিককে হাসপাতাল শয্যা, অক্সিজেন ও ওষুধ পেতে লড়তে হচ্ছে; চিকিৎসার অভাবে মারা পড়ছেন বহু মানুষ।

এই পরিস্থিতিতে পশ্চিম ভারতের গুজরাট রাজ্যের অনেকে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে কিংবা কোভিড-১৯ থেকে সুস্থ হতে সাহায্য করবে এই বিশ্বাসে সপ্তাহে একদিন করে বিভিন্ন ‘গো আশ্রমে’ হাজির হয়ে নিচ্ছেন ‘গোবর চিকিৎসা’।

হিন্দু ধর্মে গরুকে প্রাণ ও পৃথিবীর পবিত্র প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এ ধর্মে বিশ্বাসীদেরকে ঘর পরিষ্কার ও প্রার্থনার নানান অনুষঙ্গে গোবর ব্যবহার করতে দেখা গেছে। গোবরের ঔষধি ও জীবাণুরোধী বৈশিষ্ট্য আছে বলে ধারণা এই বিশ্বাসীদের। এমনকি চিকিৎসকরাও এখানে আসছেন।

তারা বিশ্বাস করেন, এই চিকিৎসা তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে এবং তারা কোনো ধরনের ভয় ছাড়াই রোগীদের কাছে যেতে ও তাদের পরিচর্যা করতে পারবেন,” বলেছেন একটি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির সহযোগী ব্যবস্থাপক গৌতম মনিলাল বরিষা।

রয়টার্স জানিয়েছে, গোবর ও গরুর প্রস্রাবের মিশ্রণ গায়ে মেখে শুকানোর অপেক্ষায় থাকার সময় এই ‘চিকিৎসা’ গ্রহণকারীরা ‘গো আশ্রমের’ গরুগুলোকে জড়িয়ে ধরেন বা নানান কায়দায় সম্মান জানান ও যোগব্যায়াম করেন। শুকিয়ে যাওয়া মিশ্রণ পরে দুধ বা ঘোল দিয়ে ধুয়ে ফেলা হয়।

অসম বিধান সভার বিজেপি বিধায়ক সুমন হরিপ্রিয়া বলেন “গোমূত্র” এবং “গোবর” করোনা ভাইরাসের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে পারে। এখানেই শেষ নয়, অসম বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তিনি এই দাবিও করলেন যে, গোমূত্র (Gaumutra) এবং গোবর (Gobar) ক্যান্সারের মতো মারাত্মক রোগ নিরাময়েও সহায়ক ভূমিকা নেয়।

গোমূত্র আর গোবরের গুণাবলী বর্ণনা করে অসমের বিধায়ক হরিপ্রিয়া বলেন, “আমরা সবাই জানি, গোরব খুবই উপকারি ৷ এমনকি গোমূত্রও উপকারি ৷ কোনও এলাকা শুদ্ধিকরণ করার জন্য গোমূত্র ব্যবহার করা হয় ৷ তাই আমার মনে হয় করোনা ভাইরাস সারাতে এগুলি ব্যবহার করা যেতে পারে৷” এদিকে হিন্দু মহাসভার সভাপতি স্বামী চক্রপানি মহারাজ বলেছেন, করোনা ভাইরাসের হাত থেকে বাঁচতে গো মূত্র ও গোবর ব্যবহার করা যেতে পারে।

এমনকি করোনা ভাইরাস আতঙ্ক দূর করতে একটি বিশেষ যজ্ঞ নাকি আয়োজন করতে চায় হিন্দু মহাসভা। চক্রপানি মহারাজের কথায়, ‘গো মূত্র ও গোবর খেলে করোনা ভাইরাসের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। যে মানুষটি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত, সেই ব্যক্তি একবার ‘‌ওম নম শিবায়’‌ বলেই গো মূত্র এবং গোবর খেয়ে নিতে পারলেই করোনা ভাইরাসের হাত থেকে মুক্ত হয়ে যাবে। খুব শীঘ্রই একটি বিশেষ যজ্ঞ আয়োজন করা হবে।

এই ভাইরাসের আতঙ্ক দূর করার জন্য।’‌ ভারত ও বিশ্বজুড়ে থাকা চিকিৎসকরা ধারাবাহিকভাবে কোভিড-১৯ এর অপ্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে সতর্ক করে আসছেন। এই ধরনের চর্চা সুরক্ষার একটি ভুয়া বোধ তৈরি ও স্বাস্থ্য সমস্যাকে জটিল করে তুলতে পারে বলে মত তাদের।

‘গোবরে কোভিডমুক্তির’ আশায় ‘গো-আশ্রমে’ দলে দলে মানুষের উপস্থিতি উল্টো করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়াতেও ভূমিকা রাখতে পারে।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Facebook Comments

সাম্প্রতিক খবর

Contact Us