শিরোনাম

গ্রেফতার, পদত্যাগে হেফাজত এখন বেসামাল,সরকারের সঙ্গে গোপনে সমঝোতার পথ খুঁজছে

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : শুক্রবার, এপ্রিল ১৬, ২০২১ ১২:৩০:২০ পূর্বাহ্ণ
গ্রেফতার, পদত্যাগে হেফাজত এখন বেসামাল,সরকারের সঙ্গে গোপনে সমঝোতার পথ খুঁজছে
গ্রেফতার, পদত্যাগে হেফাজত এখন বেসামাল,সরকারের সঙ্গে গোপনে সমঝোতার পথ খুঁজছে

বজ্র আঁটুনি ফসকা গেরো’- প্রবাদের মতোই তর্জন-গর্জন থেমে গিয়ে চুপসে গেছে হেফাজতে ইসলাম। সারাদেশে তা-বের ঘটনায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে গত তিনদিনে হেফাজত, বিএনপি, জামায়াত-শিবিরের আড়াই শতাধিক নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এরমধ্যে হেফাজতের শীর্ষ নেতা রয়েছেন অন্তত ৩০ জন। সরকার হার্ডলাইন বেছে নেয়ার পর নেতাদের পদত্যাগ আর গ্রেফতারে বেসামাল হয়ে সরকারের সঙ্গে গোপনে সমঝোতার পথ খুঁজছে হেফাজতে ইসলাম নামের সংগঠনটি। বৃহস্পতিবার সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব মুফতি শাখাওয়াত হোসাইন রাজীসহ তিনজনকে রাজধানীর শাপলা চত্বরের হেফাজতের তা-বের মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য ৫ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

হেফাজতের তা-বের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া নেতাদের রিমান্ড শুনানির সময়ে হেফাজত নেতাদের পক্ষে আদালতে দাঁড়াননি কোন আইনজীবী। হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদীকে ৭ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। নারী কেলেঙ্কারির ঘটনায় অভিযুক্ত হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম-মহাসচিব মামুনুল হককে সোনারগাঁও রয়েল রিসোর্টে সহিংস তা-বসহ বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতারের জন্য খোঁজা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দফতর সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

২০১৩ সালে রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে ঘিরে তা-বের ঘটনায় পল্টন থানার মামলায় সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব মুফতি শাখাওয়াত হোসাইন রাজীসহ তিনজনের ৫ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার ১৫ এপ্রিল রিমান্ডের এই আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোর্শেদ আল মামুন ভূঁইয়া। রিমান্ডে যাওয়া অপর আসামিরা হলেন মুফতি ফখরুল ইসলাম এবং মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম।

ডিবি পুলিশের পরিদর্শক তদন্ত কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ পল্টনের নাশকতার মামলার তিনজনকে আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদন করেন। তবে এ সময় আসামিপক্ষে কোন আইনজীবী ছিলেন না। আসামিরা নিজেরাই নিজেদের পক্ষে শুনানি করেন। এরপর আদালত তাদের পাঁচদিন করে রিমান্ডের আদেশ দেন। বুধবার, ১৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় লালবাগ থেকে ডিবির একটি টিম মুফতি শাখাওয়াত হোসাইন রাজীসহ তিনজনকে আটক করে। পরে তাদের ২০১৩ সালের মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে রিমান্ড আবেদন করে ডিবি পুলিশ।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, হেফাজতে ইসলামের আদর্শ বিচ্যুতি হয়েছে অভিযোগ করে পদত্যাগ করছেন হেফাজতের শীর্ষ নেতারা। অন্যদিকে হেফাজতের উগ্রবাদীরা বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেফতার হচ্ছেন। গ্রেফতার আর পদত্যাগে হেফাজত এখন বিপর্যস্ত হয়ে টাল মাটাল অবস্থায় সংগঠনটি। সামনে হেফাজতে গণপদত্যাগ আসছে। এই পরিস্থিতিতে হেফাজত অস্তিত্বের সঙ্কটে ভুগছে। শেষ পর্যন্ত সংগঠনটি থাকবে কি থাকবে না এ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিনে হেফাজতের নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল্লাহ মোহাম্মাদ হাসানসহ অন্তত ১২ জন নেতা পদত্যাগ করেছেন। বিভিন্ন জেলা থেকে তারা পদত্যাগের ঘোষণা দিচ্ছেন।

হেফাজতের আমির জুনায়েদ বাবুনগরী পদত্যাগের হুমকি দানকারী নেতাদের অনুরোধ করছেন, তাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছেন, কিন্তু তার অনুরোধের সত্ত্বেও পদত্যাগ অব্যাহত আছে। সর্বশেষ পদত্যাগ করা হেফাজতের নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হাসান বলেছেন যে, হেফাজতকে একটি রাজনৈতিক সংগঠনে রূপান্তরিত করা হচ্ছে এবং বিতর্কিত করা হচ্ছে। এজন্যই তিনি হেফাজতের সঙ্গে আর সম্পর্ক রাখতে চান না। তিনি এ কারণেই পদত্যাগ করেছেন।

জুনায়েদ বাবুনগরী হেফাজতের আমির হওয়ার পরেই হেফাজতের মধ্যে টানাপোড়েনের সৃষ্টি হয়েছিল। বিশেষ করে জুনায়েদ বাবুনগরী সরকারের বিরুদ্ধে উগ্রবাদী অবস্থান গ্রহণ করেন, তা হেফাজতের বিভিন্ন মহল গ্রহণ করতে পারেনি। আর গ্রহণ না করার কারণেই তারা মনে করছেন যে হেফাজতে ইসলাম এবং কওমি মাদ্রাসা দুটোর জন্যই নিরাপদ নয়। আর জুনায়েদ বাবুনগরী দায়িত্ব গ্রহণের পরই বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে বিরোধিতা, তারপর বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী নিয়ে বিরোধিতা করে হেফাজতকে সরকারের মুখোমুখি দাঁড় করান। এই সময় বিশেষ করে ২৬ মার্চ, ২৭ মার্চ ও ২৮ মার্চে ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতের নেতৃত্বে নারকীয় তা-ব হয়। তা-বগুলোকে অনেকে একাত্তরের বর্বরতাকেও হার মানাচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের অপরাজনীতির কাছে বিক্রি হয়ে গেছে জুনায়েদ বাবুনগরী, মামুনুল হক ও তাদের সহযোগীরা।

দুর্বার আন্দোলন নয়, আল্লাহর গজব পড়বে ॥ বাংলাদেশ হেফাজতে ইসলামের নেতাদের গ্রেফতার ও দেশের বিভিন্ন স্থানে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের নির্যাতন ও হয়রানির প্রতিবাদ জানিয়েছেন সমমনা ওলামা-মাশায়েখরা। গ্রেফতার হেফাজত নেতাদের রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতনের তীব্র নিন্দা ও আলেমদের হয়রানি বন্ধ না করলে আল্লাহর গজব পড়বে বলে তারা এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল এক টেলিকনফারেন্সে এসব কথা বলেন ওলামা-মাশায়েখরা।

সূত্র দৈনিক জনকন্ঠ

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Facebook Comments

সাম্প্রতিক খবর

Contact Us