শিরোনাম

চনপাড়ায় ফারদিনকে হত্যা করা হয়নি। হত্যাকাণ্ড ঘটেছে অন্য কোথাও

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : শুক্রবার, নভেম্বর ১৮, ২০২২ ৪:৩৫:৩০ অপরাহ্ণ

বুয়েট শিক্ষার্থী ফারদিন নূর পরশ গত ৪ নভেম্বর রাত সোয়া ২টার দিকে যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে লেগুনায় ওঠেন। এরপর চারজন যাত্রীর সঙ্গে তাঁকে নিয়ে লেগুনাটি তারাব বিশ্বরোডের দিকে চলে যায়। সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এই চিত্র দেখতে পেয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সেখান থেকে ফারদিনের পক্ষে রাত আড়াইটায় চনপাড়ায় যাওয়া সম্ভব নয়।

ডিবির কর্মকর্তারা মনে করছেন, চনপাড়ায় ফারদিনকে হত্যা করা হয়নি। হত্যাকাণ্ড ঘটেছে অন্য কোথাও। ফারদিনের বাবা কাজী নূরউদ্দিন রানাও দাবি করছেন, তাঁর ছেলে চনপাড়ায় খুন হননি। তবে র‌্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ফারদিন হত্যায় চনপাড়ার রায়হান গ্যাং জড়িত। চনপাড়া বা এর আশপাশে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এই তথ্য মেনে নিতে পারছেন না ফারদিনের বাবা।
গতকাল বৃহস্পতিবার কাজী নূরউদ্দিন রানা মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদ ও কাজী নূরউদ্দিন রানা।

ফারদিনকে লেগুনায় জোর করে তেলা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সিসিটিভির ফুটেজে দেখা গেছে, একটি সাদা গেঞ্জি পরা লোক তাঁর সঙ্গে কথা বলছে। কথা বলার পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে লেগুনায় তোলা হয়। অন্য পারিপার্শ্বিকতা, তাঁর মোবাইল ফোন, বুশরাকে জিজ্ঞাসাবাদ, তিনি ঢাকা শহরের কোথায় কোথায় গেছেন—এই সব কিছু আমরা তদন্ত করে দেখছি। ’

হারুন অর রশীদ বলেন, চনপাড়ায় নয়, ফারদিনকে অন্য কোথাও হত্যা করা হয়েছে বলে মনে করছে ডিবি। সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘটনার দিন রাত সোয়া ২টার দিকে ফারদিনকে যাত্রাবাড়ীতে দেখা গেছে। সাদা পোশাক পরা এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে লেগুনায় ওঠেন তিনি। এরপর লেগুনা তারাব বিশ্বরোডের দিকে চলে যায়। ওই লেগুনায় আরো চার ব্যক্তি ছিল। সাদা পোশাক পরা ব্যক্তি, লেগুনার চালক এবং লেগুনায় আগে থেকে বসা চারজনকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, ‘ওখান থেকে চনপাড়ার দিকে রওনা দিলেও রাত আড়াইটার মধ্যে পৌঁছানো সম্ভব নয়। এই হত্যাকাণ্ড চনপাড়ায় নয়, অন্য কোথাও হতে পারে বলে আমরা ধারণা করছি। ঘটনা উদঘাটনে ডিবি কাজ করছে। ’
হারুন অর রশীদ বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে ঘটনাটি কিভাবে ঘটেছে, সেই কংক্রিট তথ্যে এখনো আসা যায়নি। তবে এটা আমরা বুঝতে পেরেছি, রাত সোয়া ২টার পর ফারদিনকে যে লেগুনায় তোলা হলো তাতে ১৮ জন লোক থাকার কথা। কিন্তু ছিল চারজন। আর ফারদিনকে লেগুনায় তুলে সুলতানা সেতু পার হয়ে বিশ্বরোডের দিকে নিয়ে যাওয়া হলো। সেখানেই ঘটনাটি ঘটেছে কি না তা-ও আমরা তদন্ত করছি। ’

ফারদিনের বাবা কাজী নূরউদ্দিন রানা বলেন, ‘রায়হান গ্যাংয়ের সঙ্গে আমার ছেলের কী নিয়ে বিরোধ থাকবে? বুঝলাম সে (রায়হান) একটা খারাপ মানুষ। কিন্তু আমাকে বোঝান, আমার ছেলেটাই কেন তার টার্গেটে পড়বে? সে কেন ওখানে (চনপাড়ায়) যাবে? কিভাবে সম্ভব সেটা! কোন তথ্যের ভিত্তিতে দেখাবেন সেখানে আমার ছেলেটা মুভ করেছে? সে যদি সেখানে না থেকে থাকে তাহলে এসব বলার অর্থ কী?’
তিনি আরো বলেন, ‘আমার ছেলে হত্যার শিকার হয়েছে। আর মামলাটা কী? এসব বলে মামলাটাই পাল্টে দিচ্ছেন। আগাম কথাবার্তা বলা উচিত নয়। ’

আপনি আগে বলেছিলেন, হলে যাওয়ার কথা বলে ফারদিন বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। কিন্তু সিসিটিভির ফুটেজে দেখা গেছে, ফারদিন হলে না গিয়ে যাত্রাবাড়ীতে গেছেন। আগেও তিনি এ রকম করেছেন কি না, জানতে চাইলে ফারদিনের বাবা বলেন, ‘অতীতে এমন রেকর্ড নেই। পরিবারের সঙ্গে পরামর্শ করে বা জানিয়ে সে সব করত। কিন্তু এখন বুঝতে পারছি না সে কেন যাত্রাবাড়ীতে গিয়েছিল। ’

মাদকে জড়ানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মাদকে জড়ানোর বিষয়ে ডিবি কিছু বলেনি আমাকে। মাদকের সংশ্লিষ্টতাও পাওয়া যায়নি। আমি আগেও বলেছি, আমার ছেলে কখনো ধূমপান করত না। এমনকি ধোঁয়াও সহ্য করতে পারত না। ’

তদন্তসংশ্লিষ্ট সবাই নিশ্চিত করেছেন ফারদিন হত্যায় বান্ধবী বুশরা জড়িত নন। এ ব্যাপারে প্রশ্ন করলে কাজী নূরউদ্দিন রানা বলেন, ‘এই মেয়ে এতটা সময় কাটানোর কথা নয়। আমি নিশ্চিত করে বলতে পারছি না বুশরা জড়িত নয়। ’

তিনি বলেন, ‘তথ্য সংগ্রহের জন্য র‌্যাব থেকে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। তবে মামলা দায়েরের পর তারা আর কোনো আপডেট দেয়নি। ’

এদিকে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন গত মঙ্গলবার ও বুধবার বলেছেন, ‘হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত তাদের আমরা প্রায় শনাক্ত করতে পেরেছি। চনপাড়ার আশপাশে হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হতে পারে। আমরা অনেকটাই নিশ্চিত যে চনপাড়ার রায়হান গ্যাংয়ের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এখানে।

Spread the love
Facebook Comments

সাম্প্রতিক খবর

Contact Us