শিরোনাম

চীন হবে তালেবানের প্রধান অংশীদার

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৩, ২০২১ ১১:৪৫:৫৪ অপরাহ্ণ

সোনারবাংলা আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

আফগানিস্তানের নতুন শাসকগোষ্ঠী তালেবানের প্রধান অংশীদার হবে চীন। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির পুনর্গঠনে সহায়তাও করবে বেইজিং। তালেবানের মুখপাত্র এ তথ্য জানিয়েছেন।

এদিকে আফগানিস্তানে মানবিক সহায়তা পাঠানো শুরু করেছে জাতিসংঘ। বিশ্ব সংস্থাটির মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক গত বৃহস্পতিবার বলেন, রোববার থেকে এ পর্যন্ত তিনটি উড়োজাহাজ সহায়তাসামগ্রী নিয়ে সে দেশে অবতরণ করেছে। এএফপি, আল-জাজিরা ও দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের খবর।

জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেন, চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভকে মূল্য দেয় তালেবান। কেননা, এ প্রকল্প প্রাচীন সিল্ক রোডকে পুনরুজ্জীবিত করবে। তিনি বলেন, চীন আফগানিস্তানের সমৃদ্ধ খনিজ তামার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করতে ও বিশ্ববাজারে দেশটিকে প্রবেশে সহায়তা করবে।

রাশিয়াও এ অঞ্চলে আফগানিস্তানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হবে বলে সাক্ষাৎকারে মতামত প্রকাশ করেন তালেবান মুখপাত্র। তিনি বলেন, তাঁর সংগঠন মস্কোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখবে।

কাবুল বিমানবন্দরের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে মুজাহিদ বলেন, এটি তাঁদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে বিমানবন্দরটি ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পত্রিকাটিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, বিমানবন্দরের কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব দিচ্ছে কাতার ও তুরস্ক। তিনি বলেন, ‘আগামী তিন দিনের মধ্যে এটি পরিষ্কার করা হবে এবং অল্প সময়ে তা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে। আশা করি, চলতি মাসেই বিমানবন্দরটি চালু হবে।’

ইতালির সঙ্গে সম্পর্ক প্রশ্নে মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেন, তালেবানের আশা, ইতালি তাদের সরকারকে স্বীকৃতি দেবে ও কাবুলে আবার দূতাবাস খুলবে।

গত ১৫ আগস্ট তালেবানের হাতে কাবুলের পতন ঘটে। এরপর দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনপুষ্ট প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি ও তাঁর সরকারের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা। তালেবান একটি নতুন সরকার গঠনের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। আজ শনিবার এ-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।

কাশ্মীরিদের পক্ষে কথা বলার অধিকার রাখে তালেবান

তালেবানের একজন মুখপাত্র ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসিকে বলেছেন, ভারতের অবৈধভাবে দখলে থাকা জম্মু ও কাশ্মীরের মুসলিমদের পক্ষে কথা বলার অধিকার রয়েছে তালেবানের। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সুহাইল শাহীন এ কথা বলেন।

গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তালেবানের সম্পাদিত দোহা চুক্তির কথা উল্লেখ করে সাক্ষাৎকারে সুহাইল শাহীন বলেন, চুক্তির শর্তে বলা আছে, কোনো দেশের বিরুদ্ধে সশস্ত্র অভিযান পরিচালনার নীতি তাঁদের নেই। কিন্তু একজন মুসলিম হিসেবে ভারতের কাশ্মীর ও অন্য যেকোনো দেশের মুসলিমদের পক্ষে কথা বলার অধিকার তালেবান সদস্যদের রয়েছে।

সুহাইল বলেন, ‘মুসলিমদের পক্ষে আমাদের কণ্ঠ সোচ্চার থাকবে। (ভারতকে) আমরা বলতে চাই, মুসলিমরা আপনাদেরই জনগণ, আপনাদেরই নাগরিক। আপনাদের আইন অনুযায়ী, সমান অধিকার ভোগ করা তাঁদের প্রাপ্য।’

সমালোচকেরা বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের অধীন ২০১৪ সাল থেকে ভারতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণাসূচক অপরাধ বাড়ছে। তবে তাঁর দল বিজেপি ও এর মিত্ররা এই অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Facebook Comments

সাম্প্রতিক খবর

Contact Us