শিরোনাম

ছেলের লাশ টয়লেট ট্যাংকিতে বালু দিয়ে পুতে রেখে ভোটারদের দ্বারে ভোট প্রার্থনা করছেন মা-বাবা, বাবা-মা আটক

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : শুক্রবার, নভেম্বর ২৬, ২০২১ ১০:৫৫:১৭ অপরাহ্ণ
ছেলের লাশ টয়লেট ট্যাংকিতে বালু দিয়ে পুতে রেখে ভোটারদের দ্বারে ভোট প্রার্থনা করছেন মা-বাবা, বাবা-মা আটক
ছেলের লাশ টয়লেট ট্যাংকিতে বালু দিয়ে পুতে রেখে ভোটারদের দ্বারে ভোট প্রার্থনা করছেন মা-বাবা, বাবা-মা আটক
মির্জা হুমায়ুন, শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ থেকে :
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার নরিনা ইউনিয়নের নরিনা পুর্ব বাতিয়া (হানিফনগর) গ্রামে মাদকাসক্ত পিকাপ চালক ছেলে আব্দুল করিমের (১৮) নিজ বাড়ির টয়লেটের টাংকিতে বালুভর্তি পুঁতে রাখা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সরেজমিনে গিয়ে খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায় এবং অনেকেই ধারণা করে বলেন যে, নিহত করিমের বাবা-মা নিজের সন্তান গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করার পর ঝামেলা এড়াতে গত ৩-৪ দিন লাশ টয়লেটের ট্যাংকিতে ফেলে বালু ভর্তি বস্তা চাপা দিয়ে নির্দ্বিধায় এলাকার জনগণের কাছে গিয়ে আসন্ন ইউপি নির্বাচনে মহিলা সংরক্ষিত আসনে  ভোট প্রার্থনায় বেড়িয়েছে মা-বাবা।
তবে এলাকাবাসী জানান, নিহত করিম একজন মাদকাসক্ত যুবক। সে নিয়মিত ড্যান্ডি নামে এক ধরনের আঠা যুক্ত মাদক সেবন করত। ইউটিউবে প্রায় ২ বছর আগে ডাউনলোডকরা “সত্য ঘটনা” নামক একটি ভিডিওতে “সিএনজি চালক করিমের জীবনের গল্প” তে করিমকে ড্যান্ডি নামক মাদক খাওয়া দেখা যাচ্ছে। ভিডিও ফুটেজটিতে তাকে তার পরিবার তার উপর বিরক্ত এবং পরিবারের কিছু নির্যাতন ও তার ব্যক্তিগত আবেগের কথা বলতে দেখা যাচ্ছে।
শুক্রবার (২৬ নভেম্বর) সকালে হঠাৎ বিষয়টি জানাজানি হলে সকাল থেকে হাজার হাজার উৎসুক জনতার ভীড় জমে নিহতের বাড়িতে। চাঞ্চল্যকর এবং নির্মম এ ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার নরিনার পূর্ব বাতিয়া (হানিফ নগর) গ্রামে।
 কৃষক আলহাজের ছেলে ১৮ বছর বয়সী যুবক করিম কয়েকদিন আগে রাতে কোন এক সময় নিজের টিনের ছাপড়া ঘরের শয়নকক্ষে আত্মহত্যা করে বলে বাবা-মা সবাইকে কান্নাকাটি করে বলার চেষ্টা করেন। ছেলে ফাসি নিয়েছে টের পেয়ে নিহত করিমের মা নাজমা খাতুন তাৎক্ষণিক স্বামীকে জানায় বলে কান্না জড়িত কন্ঠে বারবার বলতে থাকে। পরে তারা ঝামেলা এড়াতে তারা ছেলের লাশ টয়লেটের ট্যাংকিতে ফেলে দিয়ে বালুচাপা দিয়ে সকাল থেকে ইউপি নির্বাচনের ভোট প্রার্থনায় বের হয় স্বামী স্ত্রী।
 উল্লেখ্য, দুই বছর আগে আলহাজের অন্য এক ছেলের বৌ আত্মহত্যা করে। অনেকের ধারনা, পুর্বে ছেলের বউয়ের আত্মহত্যার সেই ঝামেলা শেষ করতে প্রায় ২ লাখ ৭০-৮০ হাজার টাকা খরচ হয় আলহাজ্ব নাজমা পরিবারের, সেই টাকাও পরিশোধ করতে বাড়ি বিক্রি করে। হতে পারে এখন ছেলে আত্মহত্যা করার পর লোক জানাজানি হলে যদি আবারও কোনঝামেলা হয় সেই শংকায় ছেলের লাশ টয়লেটের ট্যাংকিতে চাপা দেয় দিতে পারে।
অপরদিকে, এলাকাবাসীর কিছু লোক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জানান, নিহত করিমের পিতা আলহাজ এবং মাতা নাজমা খাতুন খুব ঝগড়াটে ও খারাপ প্রকৃতির মানুষ তারা তার ছেলেকে হত্যার পর লাশ গুম করার চেষ্টা করার জন্য টয়লেটে ফেলে দিয়ে বালি চাপা দিতে পারে বলে ধারনা করেন।
জানা যায়, ছেলের লাশ টয়লেটে চাপা দিয়ে ফেলে রেখে আসন্ন নরিনা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে সংরক্ষিত ১,২,৩ নং ওয়ার্ডে মহিলা সদস্য প্রার্থী হিসেবে এলাকার ভোটারদের কাছে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন নিহতের মা নাজমা খাতুন ওরফে করুনা।
এদিকে, ঘটনা জানাজানির পর শাহজাদপুর থানা পুলিশ উপস্থিত হয়ে শুক্রবার বিকেলে নিহতের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেন। সেই সাথে নিহতের পিতা আলহাজ মাতা নাজমা খাতুনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন।
এ বিষয়ে নরিনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল হক মুন্ত্রী জানান, গত কয়েক দিন ধরে ছেলের লাশ গুম করে রেখে নির্বাচনে ভোট প্রার্থনা করছে সত্যি এটা আশ্চর্যজনক। আমরা একবারের জন্যও অনুমান করতে পারিনি তারা এমন ঘটনা ঘটাতে পারে।
শাহজাদপুর থানার পরিদর্শক (অপারেশন এন্ড কমিনিউটিং পুলিশিং) আব্দুল মজিদ বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসেছি। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট আসার পর নিহতের মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।’ এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
Spread the love
Facebook Comments

সাম্প্রতিক খবর

Contact Us