শিরোনাম

জান্নাত ও জাহান্নাম এর সংবাদপ্রাপ্ত নারী-পুরুষগণ

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : মঙ্গলবার, মার্চ ১৭, ২০২০ ১১:৩০:০৬ অপরাহ্ণ
জান্নাত ও জাহান্নাম এর সংবাদপ্রাপ্ত নারী-পুরুষগণ
জান্নাত ও জাহান্নাম এর সংবাদপ্রাপ্ত নারী-পুরুষগণ

দুনিয়াতে যাদের জান্নাতি বা জাহান্নামী বলে ঘোষণা দেয়া হয়

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুনিয়াতে যে সব নারী ও পুরুষদের জান্নাতি বা জাহান্নামী বলে ঘোষণা করেছেন বা যারা দুনিয়াতে জীবিত থাকতেই জান্নাতলাভের সু-সংবাদ অথবা জাহান্নামের দুঃসংবাদ পেয়েছেন এ নিবন্ধে আমরা তাদের নাম দলিল-প্রমাণ সহকারে উল্লেখ করতে চেষ্টা করব। একটি হাদিসে একত্রে দশজন সাহাবীর কথা উল্লেখ করে তাদের জান্নাতি বলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোষণা দিয়েছেন। অনেকে মনে করেন, দুনিয়াতে কেবল এ দশজন সাহাবীকেই জান্নাতের সু-সংবাদ দেয়া হয়েছে আর কাউকে জান্নাতের সু-সংবাদ দেয়া হয়নি। কিন্তু না, এ দশজনের বাহিরেও আরও কতক পুরুষ ও নারী সাহাবী আছেন, যাদের আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন না কোন কারণে দুনিয়াতে জান্নাতের সু-সংবাদ দিয়েছেন। তিনি তাদের কাউকে জান্নাতি, জান্নাতের সরদার, জান্নাতের বয়স্ক লোকদের সরদার ইত্যাদি বলে ঘোষণা করছেন। নিম্নে আমরা দুনিয়াতে যাদেরকে জান্নাতের সু-সংবাদ এবং জাহান্নামের দুঃসংবাদ দেয়া হয়েছে, এমন পুরুষ ও নারীদের  বিষয়ে একটি আলোচনা দলীল-প্রমাণ সহকারে তুলে ধরার চেষ্টা করব। আল্লাহই তাওফিক দাতা।

এখানে একটি বিষয় খুবই জরুরী যে, যাদেরকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জান্নাতী বলে ঘোষণা করেছেন, তাদের মধ্যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো কোনো সিফাত, কুরবানী ও গুরুত্বপূর্ণ আমল প্রত্যক্ষ্য করেছেন বলেই তাদের বিভিন্ন সময়ে ও বিভিন্ন প্রেক্ষপটে এ ধরনের ঘোষণা দিয়েছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার আমল, কুরবানী ও ত্যাগের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে তাকে বলেছেন যে লোকটি জান্নাতী। এ ধরনের ঘোষণা প্রেক্ষাপটে আমাদের করনীয় হল, যে গুণ, আমল, কুরবানী ও ত্যাগের কারণে লোকটি জান্নাতী হল বা রাসূল তাকে জান্নাতী বলে সু-সংবাদ ও ঘোষণা দিলেন, সে আমল, কুরবানী ও গুণে গুণান্বিত হয়ে আমিও রাসূলের সু-সংবাদের আওতাভুক্ত হতে পারি। আমার জন্যও জান্নাত অবধারিত হতে পারে। কারণ, আমল করার কারণে একজন জান্নাতী হয়, সে আমল যদি উম্মতের কোন লোক করে থাকে তাহলে অবশ্যই সেও জান্নাতী হবে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবেন:

সর্বপ্রথম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য জান্নাতের দরজা উন্মুক্ত করা হবে। তার পূর্বে আর কারও জন্য জান্নাতের দরজা খোলা হবে না। প্রমাণ-

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍرضي الله عنه قَالَ قَالَ رَسُولَ اللهُ صلى الله عليه وسلم«آتِي بَابَ الْجَنَّةِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَأَسْتَفْتِحُ فَيَقُولُ الْخَازِنُ مَنْ أَنْتَ؟ فَأَقُولُ مُحَمَّدٌ! فَيَقُولُ بِكَ أُمِرْتُ لَا أَفْتَحُ لِأَحَدٍ قَبْلَكَ » رواه مسلم

“আনাস ইবন মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহুথেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামবলেছেন, কিয়ামতের দিন আমি (সর্বপ্রথম) জান্নাতের দরজার সামনে আসব এবং তা খুলতে বলব, দ্বাররক্ষী (ফেরেশতা) বলবে কে তুমি? আমি বলব: মুহাম্মদ, তখন সে বলবে আমাকে এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে যে, আপনার পূর্বে আর কারো জন্য দরজা না খুলতে।[1]

আরও হাদিসে বর্ণিত হয়েছে:

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍرضي الله عنه قَالَ قَالَ رَسُولَ اللهُ صلى الله عليه وسلم«أَنَا أَكْثَرُ الْأَنْبِيَاءِ تَبَعًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَأَنَا أَوَّلُ مَنْ يَقْرَعُ بَابَ الْجَنَّةِ»

“আনাস ইবন মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহুথেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামবলেছেন: কিয়ামতের দিন সবচেয়ে বেশি উম্মত আমার হবে। আর আমি সর্ব প্রথম জান্নাতের দরজায় করাঘাত করব।[2]

আবু বকর ও ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা জান্নাতি বয়স্কদের সরদার:

আবু বকর ও ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমাঐ সমস্ত জান্নাতিদের সরদার হবেন, যারা বয়স্ক বয়সে ইন্তেকাল করেছেন। প্রমাণ-

عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍرضي الله عنه قَالَكُنْتُ مَعَ رَسُولِ اللهُصلى الله عليه وسلمإِذْ طَلَعَ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ فَقَالَ رَسُولَ اللهُ صلى الله عليه وسلم«هَذَانِ سَيِّدَا كُهُولِ أَهْلِ الْجَنَّةِ مِنْ الْأَوَّلِينَ وَالْآخِرِينَ إِلَّا النَّبِيِّينَ وَالْمُرْسَلِينَ يَا عَلِيُّ لَا تُخْبِرْهُمَا»

“আলী ইবন আবু তালেব রাদিয়াল্লাহু আনহুথেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামএর সাথে ছিলাম হঠাৎ করে আবু বকর ও ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমাও চলে আসলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামবললেন, তারা উভয়ে বৃদ্ধ বয়সে মৃত্যুবরণকারী মুসলিমদের সরদার হবে- তারা পূর্ববর্তী উম্মতের লোক হোক আর পরবর্তী উম্মতের। তবে নবী রাসূলগণ ব্যতীত। হে আলী, তুমি এ সংবাদ তাদেরকে দিও না।[3]

হাসান ও হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুমা জান্নাতি যুবকদের সরদার:

হাসান ও হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুমাজান্নাতে ঐ সমস্ত লোকদের সরদার হবে যারা যৌবনকালে মৃত্যুবরণ করেছে। প্রমাণ-

عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّرضي الله عنه قَالَ قَالَ رَسُولَ اللهُ صلى الله عليه وسلم«الْحَسَنُ وَالْحُسَيْنُ سَيِّدَا شَبَابِ أَهْلِ الْجَنَّةِ»

“আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহুথেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামবলেছেন: হাসান হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুমাজান্নাতি যুবকদের সরদার হবে।[4]

দশজন জান্নাতি সাহাবী যাদের রাসূল সা. জান্নাতি বলে ঘোষণা দেন:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামদশজন সাহাবীকে নাম উল্লেখপূর্বক দুনিয়াতেই জান্নাতি হওয়ার সুসংবাদ দিয়েছেন। তাদেরকে আশারা মুবাশ্শারা বলা হয়। প্রমাণ-

عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍرضي الله عنهقَالَ قَالَ رَسُولَ اللهُ صلى الله عليه وسلم«أَبُو بَكْرٍ فِي الْجَنَّةِ وَعُمَرُ فِي الْجَنَّةِ وَعُثْمَانُ فِي الْجَنَّةِ وَعَلِيٌّ فِي الْجَنَّةِ وَطَلْحَةُ فِي الْجَنَّةِ وَالزُّبَيْرُ فِي الْجَنَّةِ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ فِي الْجَنَّةِ وَسَعْدُ بْنُ أَبِيْ وَقَّاصٍ فِي الْجَنَّةِ وَسَعِيدُ بْنُ زَيْدٍ فِي الْجَنَّةِ وَأَبُو عُبَيْدَةَ بْنُ الْجَرَّاحِ فِي الْجَنَّةِ»

“আব্দুর রহমান ইবন আওফ রাদিয়াল্লাহু আনহুথেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামবলেছেন: আবুবকর জান্নাতি, ওমর জান্নাতি, ওসমান জান্নাতি, আলী জান্নাতি, তালহা জান্নাতি, যুবাইর জান্নাতি, আবদুর রহমান ইবন আওফ জান্নাতি, সা‘দ ইবন আবূ ওক্কাস জান্নাতি, সাঈদ ইবন যায়েদ জান্নাতি, আবু ওবাইদা ইবনুল জাররাহ জান্নাতি।[5]

ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জান্নাতে একটি প্রাসাদের সু-সংবাদ প্রদান:

ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামজান্নাতে একটি ঘরের সুসংবাদ দিয়েছেন এবং তিনিজান্নাতে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু’র প্রাসাদ ও ঠিকানা দেখে এসেছেন।

عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ الْعَوَّامِرضي الله عنه قَالَ بَيْنَا نَحْنُ عِنْدَ رَسُولَ اللهُ صلى الله عليه وسلمإِذْ قَالَ:«بَيْنَا أَنَا نَائِمٌ رَأَيْتُنِي فِي الْجَنَّةِ فَإِذَا امْرَأَةٌ تَتَوَضَّأُ إِلَى جَانِبِ قَصْرٍ فَقُلْتُ لِمَنْ هَذَا الْقَصْرُ فَقَالُوا لِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فَذَكَرْتُ غَيْرَتَهُ فَوَلَّيْتُ مُدْبِرًا فَبَكَى عُمَرُ وَقَالَ أَعَلَيْكَ أَغَارُ يَا رَسُولَ اللهُ»

“আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহুথেকে বর্ণিত। তিনি বলেন আমরা একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামএর নিকট ছিলাম তখন তিনি বললেন: আমি ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলাম হঠাৎ করে আমি আমাকে জান্নাতে দেখতে পেলাম? আমি একটি অট্টালিকার পাশে এক মহিলাকে ওজু করতে দেখে জিজ্ঞেস করলাম যে, এ অট্টালিকাটি কার? তারা বলল: এটা ওমর ইবন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু’র। আমি তখন তার আত্মমর্যাদা বোধের কথা চিন্তা করলাম। তাই আমি ফিরে গেলাম। ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুকেঁদে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি আপনার ওপর আত্মমর্যাদা বোধ দেখাব?[6] (বুখারী)

তালহা ইবন ওবাইদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু জান্নাতি:

তালহা ইবন ওবাইদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামজান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন। প্রমাণ-

عَنْ الزُّبَيْرِ بْنِ الْعَوَّامِرضي الله عنه قَالَ كَانَ عَلَى النَّبِيِّصلى الله عليه وسلميَوْمَ أُحُدٍ دِرْعَانِ فَنَهَضَ إِلَى الصَّخْرَةِ فَلَمْ يَسْتَطِعْ فَأَقْعَدَ طَلْحَةَ تَحْتَهُ فَصَعِدَ النَّبِيُّصلى الله عليه وسلمعَلَيْهِ حَتَّى اسْتَوَى عَلَى الصَّخْرَةِ فَقَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّصلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلميَقُولُ «أَوْجَبَ طَلْحَةُ»

“যুবায়ের ইবনুল ‘আওয়াম রাদিয়াল্লাহু আনহুথেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উহুদের যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামদুটিবর্ম পরিধান করেছিলেন। তিনি একটি পাথরের উপর আরোহণ করতে চাচ্ছিলেন কিন্তু তিনি তাতে চড়তে পারছিলেন না। তখন তিনি তালহা রাদিয়াল্লাহু আনহুকে তাঁর নীচে বসালেন এবং তার ওপর আরোহণ করে তিনি তাতে ছড়লেন। যুবায়ের বলেন, এসময় আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি তিনি বলেন, তালহার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে গেছে।[7]

সাদ ইবন মুআয রাদিয়াল্লাহু আনহু জান্নাতি:

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, জান্নাতে সা‘দ ইবন মোয়াযের রুমাল উন্নতমানের রেশমী কাপড়ের চেয়েও অধিক উন্নতমানের হবে। প্রমাণ-

عَنْ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍرضي الله عنه قَالَ أُتِيَ رَسُولُ اللهُصلى الله عليه وسلمبِثَوْبٍ مِنْ حَرِيرٍ فَجَعَلُوا يَعْجَبُونَ مِنْ حُسْنِهِ وَلِينِهِ فَقَالَ رَسُولَ اللهُ صلى الله عليه وسلم: «لَمَنَادِيلُ سَعْدِ بْنِ مُعَاذٍ فِي الْجَنَّةِ أَفْضَلُ مِنْ هَذَ »ا رواه البخاري

“বারা ইবন ‘আযেব রাদিয়াল্লাহু আনহুথেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামএর নিকট একটি রেশমি কাপড় আনা হল। লোকেরা এর সৌন্দর্য এবং মিহি-সূক্ষ্নতা অবলোকনে আশ্চর্য বোধ করল। তখন রাসূলুল্লাহ বললেন: জান্নাতে সা‘দ ইবন মু‘আয এর রুমাল এর চেয়েও উন্নত মানের।[8]

বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী এবং বৃক্ষের নীচে বাইয়াত গ্রহণকারী সাহাবীগণ জান্নাতি

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামবলেছেন, বদরের যুদ্ধে এবং হুদাইবিয়ার সন্ধিতে অংশগ্রহণকারী সাহাবীগণ কখনোই জাহান্নামে প্রবেশ করবে না। প্রমাণ-

عَنْ جَابِرٍرضي الله عنهقَالَ قَالَ رَسُولَ اللهُ صلى الله عليه وسلم:«لَنْ يَدْخُلَ النَّارَ رَجُلٌ شَهِدَ بَدْرًا وَالْحُدَيْبِيَةَ »

“জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহুথেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামবলেছেন: বদরের যুদ্ধে এবং হুদাইবিয়ার সন্ধিতে অংশগ্রহণকারী কোন লোক জাহান্নামী হবে না।[9]

হুদাইবিয়ার সন্ধি ৬ হিজরি যিলকাদ মাসে সংঘটিত হয়। সাহাবিগণ হুদাইবিয়ার ময়দানে একটি গাছের নীচে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’র হাতে হাত রেখে তাঁর আনুগত্যে জীবন দেয়ার ওপর বাইয়াত গ্রহণ করেন। আর ঐ বাইয়াতে অংশগ্রহণকারী সমস্ত সাহাবিগণকে আসহাবুস-সাজারা বলা হয়। তারা সবাই জান্নাতি তাদেরকে দুনিয়াতেই জান্নাতের সু-সংবাদ দেয়া হয়।

আবদুল্লাহ ইবন সালাম রাদিয়াল্লাহু আনহু জান্নাতি:

আবদুল্লাহ ইবন সালামকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামজান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন।

عَنْ سَعْدٍرضي الله عنهيَقُولُ مَا سَمِعْتُ رَسُولَ اللهُ صلى الله عليه وسلميَقُولُ لِحَيٍّ يَمْشِي إِنَّهُ فِي الْجَنَّةِ إِلَّا لِعَبْدِ اللهُ بْنِ سَلَامٍ

“সা‘দ রাদিয়াল্লাহু আনহুথেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কোনো জীবিত চলমান ব্যক্তির ব্যাপারে একথা বলতে শুনি নাই যে সে জান্নাতি, তবে শুধু আবদুল্লাহ ইবন সালামকে একথা বলেছেন।[10]

সা‘দ রাদিয়াল্লাহু আনহুশুধু আবদুল্লাহ ইবন সালাম রাদিয়াল্লাহু আনহুকেই এ সুসংবাদ দিতে শুনেছেন তাই তিনি তার ব্যাপারেই বর্ণনা করেছেন। আর কারও ব্যাপারে তিনি শুনেন নি। তার না শোনার অর্থ এ নয় যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আর কাউকে জান্নাতের সু-সংবাদ দেননি। কিন্তু অন্যান্য সাহাবিগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামথেকে অন্য সাহাবীদেরকেও জান্নাতের সু-সংবাদ দিতে শুনেছেন তাই তারা অন্যদের কথাও বর্ণনা করেছেন।

যায়েদ ইবন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু জান্নাতি:

যায়েদ ইবন আমর ইবন নুফাইলের জন্য জান্নাতে দু’টি স্তর নির্মাণ করা হয়েছে। প্রমাণ-

عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها قَالَتْ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم«دَخَلْتُ الْجَنَّةَ فَرَأَيْتُ لِزَيْدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ نُفَيْلٍ دَرَجَتَيْنِ»

“আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন: আমি জান্নাতে প্রবেশ করে যায়েদ ইবন আমর ইবন নুফাইলের দু’টি স্তর দেখতে পেলাম।[11]

আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন হারাম রাদিয়াল্লাহু আনহু জান্নাতি

প্রমাণ-

عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهُرضي الله عنه يَقُولُ لَمَّا قُتِلَ عَبْدُ اللهُ بْنُ عَمْرِو بْنِ حَرَامٍ يَوْمَ أُحُدٍ قَالَ يَا جَابِرُ أَلَا أُخْبِرُكَ مَا قَالَ اللهُ لِأَبِيكَ قُلْتُ بَلَى قَالَ مَا كَلَّمَ اللهُ أَحَدًا إِلَّا مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ وَكَلَّمَ أَبَاكَ كِفَاحًا فَقَالَ يَا عَبْدِي تَمَنَّ عَلَيَّ أُعْطِكَ قَالَ يَا رَبِّ تُحْيِينِي فَأُقْتَلُ فِيكَ ثَانِيَةً فَقَالَ الرَّبُّ سُبْحَانَهُ إِنَّهُ سَبَقَ مِنِّي أَنَّهُمْ إِلَيْهَا لَا يَرْجِعُونَ قَالَ يَا رَبِّ فَأَبْلِغْ مَنْ وَرَائِي قَالَ فَأَنْزَلَ اللهُ تَعَالَى {وَلَا تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللهُ أَمْوَاتًا بَلْ أَحْيَاءٌ عِنْدَ رَبِّهِمْ يُرْزَقُونَ}

“জাবের ইবন আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুথেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উহুদ যুদ্ধের দিন যখন আবদুল্লাহ ইবন হারাম রাদিয়াল্লাহু আনহুশহীদ হলেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামবললেন: হে জাবের! আমি কি তোমাকে ঐ কথা বলব না, যা আল্লাহ তোমার পিতা সম্পর্কে বলেছেন? আমি বললাম: কেন নয়? তিনি বললেন: আল্লাহ্‌ কোন ব্যক্তির সাথে পর্দার আড়াল ব্যতীত কথা বলেন নি। কিন্তু তোমার পিতার সাথে কোনো পর্দা ব্যতীত কথা বলেছেন এবং বলেছেন হে আমার বান্দা তুমি যা চাওয়ার তা চাও, আমি তোমাকে দিব। তোমার পিতা বলেছেন হে আমার রব? আমাকে দ্বিতীয় বার জীবিত কর যাতে আমি তোমার রাস্তায় শহীদ হতে পারি। আল্লাহ বললেন: আমার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আগেই সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, মৃত্যুর পর দুনিয়াতে আর ফেরত আসা যাবে না। তোমার পিতা বলল: হে আমার রব! তাহলে তুমি আমার পক্ষ থেকে দুনিয়া-বাসীকে আমার এ পয়গাম শুনিয়ে দাও যে, (আমি দ্বিতীয়বার শহীদ হয়ে মৃত্যুবরণের আকাঙ্ক্ষা করছিলাম) তখন আল্লাহ এ আয়াত অবতীর্ণ করলেন: “যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে তাদেরকে মৃত মনে কর না। বরং তারা জীবিত। তারা তাদের পালনকর্তার নিকট রিজিক প্রাপ্ত হয়”।[12] (সূরা আল ইমরান: ১৬৯)

আম্মার ইবন ইয়াসের এবং সালমান ফারেসী রাদিয়াল্লাহু আনহুমা জান্নাতি:

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:« إِنَّ الْجَنَّةَ تَشْتَاقُ إِلَى ثَلَاثَةٍ: عَلِيٍّ، وَعَمَّارٍ، وَسَلْمَانَ»

“আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহুথেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামবলেছেন: জান্নাত তিন ব্যক্তির প্রতি আসক্ত। আলী, আম্মার, সালমান রাদিয়াল্লাহু আনহুম।[13]

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Facebook Comments

সাম্প্রতিক খবর