শিরোনাম

জ্বর-কাশির মৌসুমে প্রথম দফায় ১৪০০০ মানুষ মারা গেছে

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : রবিবার, ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২০ ৬:০০:৩৬ অপরাহ্ণ
জ্বর-কাশির মৌসুমে প্রথম দফায় ১৪০০০ মানুষ মারা গেছে
জ্বর-কাশির মৌসুমে প্রথম দফায় ১৪০০০ মানুষ মারা গেছে

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা শীতে আরও এক দফা ফ্লু বা জ্বর-কাশির মৌসুম মোকাবেলা করার জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন। এই বছর ফ্লুর লক্ষণগুলির সাথে করোনাভাইরাসের লক্ষণগুলির মিল থাকায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়েছে। চীনে এর মধ্যে ১৫০০ এর ও বেশী মানুষ করোনাভাইরাসে মারা গেছে।পুরো বিশ্বে করোনাভাইরাসের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ সংস্থার তথ্য অনুসারে ডিসেম্বরের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্রে ইনফ্লুয়েঞ্জা বি-এর ধরণের ফ্লু বা জ্বরে ভুগেছে অনেকে।তবে এখন কিছুটা কমেছে।

তবে সিডিসি জানায়, জানুয়ারীর শেষের দিকে ফ্লুর দ্বিতীয় দফা শুরু হয়েছে যা বলা হচ্ছে ইনফ্লুয়েঞ্জা- এ এবং এই ইনফ্লুয়েঞ্জা- এর সঙ্গে মিল রয়েছে সোয়াইন ফ্লুর। ২০০৯ সালে সোয়াইন ফ্লুর প্রথম আবির্ভাব ঘটে।

শুক্রবার পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে কেবল ১৫ টি করোনাভাইরাস রোগী সনাক্ত হয়েছে।তবে, স্বাস্থ্য আধিকারিকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে যদি এই ভাইরাসটি দেশে ছড়িয়ে পড়ে তবে প্রাথমিকভাবে এটি মৌসুমী ফ্লুর আকারে ছড়িয়ে পড়ার মতো হতে পারে।

এই ফ্লু দেশে যেন ছড়িয়ে না পড়ে শে লক্ষ্যে, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য আধিকারিকরা ঘোষণা করেছেন তারা যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি শহরে করোনাভাইরাসের জন্য ফ্লু জাতীয় লক্ষণযুক্ত কিছু রোগীর পরীক্ষা শুরু করবেন।

প্রাথমিকভাবে লস অ্যাঞ্জেলেস, সান ফ্রান্সিসকো, সিয়াটেল, শিকাগো এবং নিউইয়র্কের জনস্বাস্থ্য ল্যাবগুলি দ্বারা পরীক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ল্যাবগুলো ইতিমধ্যে মৌসুমী ফ্লুর জন্য মানুষের রক্ত পরীক্ষা করছে।

জাতীয় টিকা এবং শ্বাসকষ্টজনিত রোগের কেন্দ্রের পরিচালক ন্যানসি মেসননিয়ার শুক্রবার টেলিফোনে সাংবাদিকদের বলেন ল্যাবগুলি যে রোগীদের মাঝে ফ্লু জাতীয় শ্বাসকষ্টের লক্ষণগুলি দেখা দিচ্ছে এমন রোগীদের উপর করোনাভাইরাসের পরীক্ষা করবে।

সিডিসির মতে, ফ্লু বা মৌসুমি জ্বর এবং করোনভাইরাস উভয়ই শ্বাসকষ্ট, জ্বর এবং কাশি সৃষ্টি করে। অন্যান্য সাধারণ ফ্লুর লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে গলা ব্যথা, পেশী ব্যথা, নাক দিয়ে সর্দি পরা, ক্লান্ত হয়ে যাওয়া।

বিজ্ঞানীরা যদিও কয়েক দশক ধরে ফ্লু নিয়ে গবেষণা করছেন, তবে এই করোনভাইরাস সম্পর্কে খুব কমই জানা গেছে, কারণ এই ডাভিড সিভিড -১৯ একেবারেই নতুন। স্বাস্থ্য আধিকারিকরা এখনও নতুন ভাইরাস সম্পর্কিত সমস্ত লক্ষণগুলি বোঝার চেষ্টা করছেন, পাশাপাশি এটি কীভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং কতগুলি ক্ষেত্রে গুরুতর হয় তাও বোঝার চেষ্টা করছেন।

করোনাভাইরাস যুক্তরাষ্ট্রে যাতে ছড়িয়ে না পড়ে সে জন্য, যুক্তরাষ্ট্রের রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বা সিডিসির কর্মকর্তারা সম্প্রতি চীন সফরকারী লোকদের জন্য ভ্রমণ বিধিনিষেধ এবং পৃথকীকরণের নীতিমালা প্রয়োগ করেছেন। তবে কর্মকর্তারা বলছেন যে যুক্তরাষ্ট্রে এই ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে কৌশল পরিবর্তন করতে হবে।

জাতীয় টিকা এবং শ্বাসকষ্টজনিত রোগের কেন্দ্রের পরিচালক ন্যানসি মেসননিয়ার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসের প্রকোপ হলে সিডিসি “সামাজিক দূরত্ব” কৌশলগুলির প্রতি আহ্বান জানাবে। ভাইরাসটি যাতে ছড়িয়ে না পড়ে সে লক্ষ্যে অনলাইনে শিক্ষাগ্রহণ, তেলিফনের মাধ্যমে অফিসের কাজ করা এ ধরণের কৌশলগুলো অবলম্বন করতে হবে এবং জনসমাবেশ বাতিল করতে হবে।

স্বাস্থ্য আধিকারিকেরা করোনাভাইরাসের যে কোনও সম্ভাব্য প্রাদুর্ভাবের জন্য পরিকল্পনা করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের চিকিত্সকরা রোগীদের ফ্লু মোকাবেলা করতে প্রানান্তকর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সিডিসির অনুমান মতে চলতি মৌসুমে যুক্তরাষ্ট্রের ২কোটি ৬০ লক্ষ নাগরিক ফ্লুতে আক্রান্ত হয়েছে এবং প্রায় ১৪,০০০ মানুষ মারা গেছে।

স্বাস্থ্য আধিকারিকরা বলছেন যে ফ্লুর প্রথম দফাতে, একটি বি জাতীয় ভাইরাসে শিশুরা মারাত্মক আক্রান্ত হয়েছে যার ফলে ৯২জন শিশু মারা গেছে। বি জাতীয় ভাইরাস বাচ্চাদের মারাত্মক অসুস্থ করে দেয় এবং এতে মৃত্যুর সম্ভাবনা থাকে।

সিডিসি জানিয়েছে যে করোনভাইরাস সম্পর্কে উদ্বেগের কারণে এই মৌসুমে আরও বেশি লোক ফ্লুর লক্ষণ নিয়ে তাদের ডাক্তারের কাছে যাচ্ছে।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Facebook Comments

সাম্প্রতিক খবর

Contact Us