শিরোনাম

‘তোর দোকানে চুরি হয়নি, তুই মিথ্যা কথা বলতেছস’

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২০ ১১:০৬:১৩ অপরাহ্ণ
'তোর দোকানে চুরি হয়নি, তুই মিথ্যা কথা বলতেছস'
‘তোর দোকানে চুরি হয়নি, তুই মিথ্যা কথা বলতেছস’

‘তোর দোকানে কোনো চুরি হয়নি, তুই মিথ্যা কথা বলতেছস, ওদের সঙ্গে আপস হয়ে যা। অন্যথায় এ মামলাসহ আরো ১০টি মামলায় তোকে ভরে দেব’- হাটহাজারী মডেল থানার এসআই আরিফুজ্জামান এমন হুমকি প্রদান করেছেন দাবি করে চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার বরাবর অভিযোগ করেছেন মামলার বাদী ভুক্তভোগী মো. নুরুল ইসলাম। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) ভুক্তভোগী নিজে লিখিত অভিযোগটি দায়ের করেন।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ব্যবসায়ী নুরুল ইসলামের দোকানে গত জানুয়ারিতে স্থানীয় কিশোর গ্যাংয়ের অন্যতম নেতা কামালের নেতৃত্বে তার ছেলে আরমান ও সজিব ৩০/৩৫ জন কিশোর নিয়ে বাকি টাকা পাওনাকে কেন্দ্র করে দোকান ভাঙচুর ও তাঁর মাসহ ভাইদের ওপর হামলা করে। এতে গুরুতর আহত হয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়ে থানায় অভিযোগ করলেও কোনো সুরাহা পায়নি। উল্টো ওই কিশোররা তাঁকে অভিযোগ তুলে নিতে কামালের নেতৃত্বে হুমকি দেয়।

এর কয়েক মাস পর ১০ জুন সংঘবদ্ধ কিশোরের দল রাতে আমার দোকানে চুরি করে গ্যাসসিলিন্ডার, চুলা ও দোকানে রক্ষিত টাকাসহ মোট এক লাখ ৫৬ হাজার টাকার জিনিসপত্র চুরি করে নিয়ে যায়। এরপর থানায় অভিযোগ করলে তারও কোনো সুরাহা (বিচার) পাইনি।
এ অবস্থায় অভিযুক্তরা থানায় অভিযোগ করার কারণে দোকান কিভাবে করি দেখে নেবে বলে হুমকি দেয়। লিখিত অভিযোগে ইসলাম বলেন, দুঃখের বিষয় হলো- গত আগস্ট মাসে আবারও দোকানের টিন খুলে ৩৫ হাজার টাকার মোবাইল কার্ড ও বিকাশের টাকাসহ দোকানের ক্যাশ থেকে ৫৫ হাজার টাকা চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় আমি নিজের চোখে দেখেছি।

ভয়ে তাদের বাধা দিতে পারিনি। কেননা তাদের সঙ্গে দেশীয় দা, ছুরি ও রড ছিল। পরে থানায় অভিযোগ দিলে সেটা মামলা হিসেবে রুজু হয়। এ মামলায় একজন আসামিকে আটক করে পুলিশ। সে জামিনে এসে প্রকাশ্যে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করলে আমি আবারও নিরাপত্তার জন্য থানায় জিডি করি।

অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মডেল থানার এসআই আরিফুজ্জামান, তিনি বিভিন্ন সময় মামলার খরচ লাগবে বলে টাকা নিয়েছেন। পরে চার্জশিট লেখার জন্য আবারও ২০ হাজার টাকা দাবি করলে আমি অপারগতা প্রকাশ করি। এ সুযোগে ওই মামলার বিবাদীগণের সঙ্গে যোগসাজশ করে আমাকে উল্টো ওই মামলাসহ আরো ৮-১০টি মামলায় ঢুকিয়ে দেবেন বলে প্রকাশ্যে হুমকি দেন।

নোংরা ভাষায় গালাগাল দিয়ে হুমকি দেন, আমি যেন এ মামলা প্রত্যাহার করি। আমার দোকানগুলো এ পর্যন্ত তিনবার চুরি, একবার হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করার পরও ভুক্তভোগী হয়ে এখন ওই পুলিশ কর্মকর্তার হুমকির ভয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। একদিকে উল্লিখিত আসামীগংয়ের হুমকি, অন্যদিকে পুলিশ অফিসার আরিফুজ্জামানের প্রকাশ্যে হুমকির বিচারের দাবি করছে ভুক্তভোগী পরিবার।

এদিকে একই তারিখে সংবাদ সংগ্রহের কাজে থানায় গেলে ডিউটিরত অবস্থায় ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় থানা ডিউটিরুমে প্রকাশ্যে হাটহাজারীতে কর্মরত দৈনিক খবরপত্রের হাটহাজারী প্রতিনিধি সংবাদিক মাহমুদ আল আজাদকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে এসআই আরিফুজ্জামানের বিরুদ্ধে। ওই সাংবাদিকও চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এসআই আরিফ অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করেন আজাদকে। সাংবাদিকতা তোরে ঢুকাই দেব, তোর কোন বাপেরে কল দিবি দে। আমি থানায় এমনে আসিনি। ঘুষি মেরে মুখের সব দাঁত ফেলে দেব। দালালি করতে আসিস কেন? নিউজে কোন (!) করবিসহ নানা অশালীন আচরণ করেন এসআই। অভিযোগে প্রকাশ, আরিফুজ্জামান এর আগেও একই থানায় ছিলেন কয়েক বছর। সে সুবাদে অভিযুক্তদের যোগসাজশে স্থানীয়দের থেকে গণস্বাক্ষর নিয়ে উল্টো সাংবাদিককে ফাঁসাতে অভিযোগ দায়ের করতে শিখিয়ে দেন। বর্তমানে ওই সাংবাদিক পরিবারও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে অভিযোগ সূত্রে প্রকাশ।

এ বিষয়ে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) মসিউদদৌলা রেজার কাছে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সাংবাদিক লাঞ্ছিত ও ব্যবসায়ী বাদীকে উল্টো হুমকির অভিযোগ পাওয়া গেছে। দোকানে চুরির ঘটনার বিষয়ে আমি অবগত আছি, চুরির ঘটনা ও সাংবাদিক লাঞ্ছিতের বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পেলে ওই পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Facebook Comments

সাম্প্রতিক খবর