শিরোনাম

নির্বাচনে আবার জয়ী হতে শি জিনপিংয়ের সাহায্য চেয়েছিলেন ট্রাম্প!

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : বৃহস্পতিবার, জুন ১৮, ২০২০ ৮:৩০:০৬ অপরাহ্ণ
নির্বাচনে আবার জয়ী হতে শি জিনপিংয়ের সাহায্য চেয়েছিলেন ট্রাম্প!
নির্বাচনে আবার জয়ী হতে শি জিনপিংয়ের সাহায্য চেয়েছিলেন ট্রাম্প!

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন নিজের নতুন বইতে দাবি করেছেন, দ্বিতীয় দফায় দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাহায্য পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রে শিগগিরই প্রকাশিতব্য বইটিতে বোল্টন দাবি করেছেন, ট্রাম্প চেয়েছিলেন চীন মার্কিন কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য কিনুক। সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়ে

‘দ্য রুম হোয়্যার ইট হ্যাপেনড’ নামের বইটি আগামী ২৩ জুন প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে। গত জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউস বলেছিল বইটিতে ‘টপ সিক্রেট’ তথ্য ও বর্ণনা রয়েছে, যা অবশ্যই বাদ দিতে হবে।

কিন্তু জন বোল্টন সেসময় তা নাকচ করে দিয়েছিলেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিশংসন বিচারের ক্ষেত্রে যেসব প্রশ্ন উঠেছিল, তা  বোল্টনের বইটিতে স্থান পেয়েছে।

অভিযোগটি উঠেছে মূলত জাপানের ওসাকায় গত বছরের জুনে জি-২০ সম্মেলনের ফাঁকে ট্রাম্প ও শির মধ্যে হওয়া এক বৈঠক নিয়ে।

নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত নতুন বইটির সারসংক্ষেপে বোল্টন দাবি করেছেন, চীনের প্রেসিডেন্ট অভিযোগ করেছিলেন, কিছু মার্কিন সমালোচক চান চীনের সঙ্গে যাতে নতুন করে স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হয়।

ট্রাম্প ভেবেছিলেন শি হয়তো তাঁর ডেমোক্রেটিক প্রতিপক্ষের কথা বলছেন।

বোল্টন বলেন, ‘এরপর বিস্ময়করভাবেই ট্রাম্প আলোচনা ২০২০ সালে অনুষ্ঠিতব্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দিকে ঘুরিয়ে দেন। চীনের অর্থনৈতিক সামর্থ্যের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প নির্বাচনে জেতার জন্য শির সাহায্য চান।’

বোল্টন আরো বলেন, ‘তিনি (ট্রাম্প) কৃষকদের গুরুত্বের ওপর এবং দেশটি থেকে চীনের সয়াবিন ও গম ক্রয়ের বর্ধিত হারের ওপর বারবার জোর দিচ্ছিলেন।’

এরপর শি জিনপিং যখন বাণিজ্য আলোচনায় কৃষি উৎপাদনের ওপর জোর দেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেন, ট্রাম্প তখন তাঁকে ‘চীনের ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ নেতা’ বলে মন্তব্য করেন।

বই বিতর্ক

সংবাদদাতারা বলছেন, নতুন বইয়ের তথ্য ট্রাম্পের অভিশংসনের ঘটনা মনে করিয়ে দেয়। ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যেই বইটির প্রকাশনা আটকে দেওয়ার চেষ্টা করছে। মার্কিন বিচার বিভাগের অভিযোগ বইটিতে ‘ক্লাসিফায়েড’ অর্থাৎ ‘রাষ্ট্রীয় গোপনীয়’ তথ্য রয়েছে।

এদিকে, বইটি নিয়ে ইতোমধ্যেই নানা ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মার্কিন ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ রবার্ট লাইথিজার বোল্টনের বক্তব্যকে নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, ‘চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ওই আলোচনায় দ্বিতীয় দফা নির্বাচনে জেতার ব্যাপারে কোনো আলোচনা হয়নি।’

জানুয়ারিতে ডেমোক্রেটিক দলের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেন ও তাঁর ছেলে হান্টারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত শুরু করার জন্য ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে চাপে ফেলার জন্য সামরিক সহায়তা প্রত্যাহারের অভিযোগে অভিশংসনের মুখোমুখি হন ট্রাম্প।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট সব অভিযোগ অস্বীকার করেন, এবং রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত সিনেটে কোনো সাক্ষীর বক্তব্য ছাড়াই দুই সপ্তাহব্যাপী ট্রায়ালের পর নিষ্কৃতি পান ট্রাম্প।

২০১৮ সালের এপ্রিলে হোয়াইট হাউসে যোগ দিয়েছিলেন জন বোল্টন। একই বছরের সেপ্টেম্বরে তিনি জানান যে তিনি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার পদ ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু ট্রাম্প বলেছিলেন, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মতানৈক্য হওয়ার কারণে তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Facebook Comments

সাম্প্রতিক খবর