শিরোনাম

পরীক্ষা দেয়া হলো না সাবরিনার ট্রাকচাপায় জবি ছাত্রী নিহত

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : শনিবার, ডিসেম্বর ১৮, ২০২১ ৮:২৮:১৪ অপরাহ্ণ
পরীক্ষা দেয়া হলো না সাবরিনার ট্রাকচাপায় জবি ছাত্রী নিহত
পরীক্ষা দেয়া হলো না সাবরিনার ট্রাকচাপায় জবি ছাত্রী নিহত

জবি প্রতিনিধি

সড়ক দুর্ঘটনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী সাবরিনা আক্তার মিতুর মৃত্যু হয়েছে। তিনি গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে অধ্যয়নরত ছিলেন। ২০ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া সেমিস্টার পরীক্ষা দিতে ঢাকায় আসছিলেন তিনি। ঢাকায় আসার পথেই দুর্ঘটনার শিকার হন সাবরিনা।

শনিবার (১৮ ডিসেম্বর) বেলা ১২টায় নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলার পৌর এলাকার অন্তর্গত রামপুরে রাস্তা পার হওয়ার সময় ট্রাক চাপায় নিহত হন তিনি। তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মোস্তফা কামাল।

তিনি জানান, নোয়াখালীর সোনাইমুড়িতে রাস্তা পার হওয়ার সময় ওই শিক্ষার্থী (সাবরিনা আক্তার) সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে। আমরা মর্মাহত।

এ ধরনের মৃত্যু কাম্য নয়। তার কিছু সহপাঠী তাকে দেখতে যাবে এইজন্য প্রশাসন পরিবহনের ব্যবস্থা করছে। আমরা তার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছি, থানায় কথা বলেছি। মৃতদেহ যেন পোস্টমর্টেম না করা হয়, সে বিষয়ে কথা বলছি।

এ বিষয়ে সোনাইমুড়ী থানার উপ-পরিদর্শক ইবরাহীম খলিল বলেন, বেলা সাড়ে ১২টার দিকে একটি ইটবোঝাই ট্রাক তাকে চাপা দিলে, তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। আমরা হাইওয়ে থানার পুলিশকে জানিয়েছি, তারা এসে আইনানুগ ব্যবস্থা নিবে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী সোনাইমুড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল আলিম ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশে দুপুর সাড়ে ১২টায় সোনাইমুড়ী পৌরসভার রামপুর নামের স্থানে আসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সাবরিনা। এ সময় তিনি সড়ক অতিক্রম করে রাস্তার পূর্ব পাশ থেকে পশ্চিম পাশে যাচ্ছিলেন। তখন কুমিল্লার দিক থেকে আসা একটি ইটবোঝাই ট্রাক তাঁকে চাপা দেয়।

এতে ঘটনাস্থলে তাঁর মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার এবং ট্রাকটি জব্দ করে। দুর্ঘটনার পরপরই ট্রাকের চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় লক্ষ্মীপুর চন্দ্রগঞ্জ হাইওয়ে থানার পুলিশ পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

সাবরিনা আক্তারের মামা আবিদুর রহমান বলেন, সাবরিনা পরিবারের সঙ্গে ঢাকায় থাকতেন। চার-পাঁচ দিন আগে তাঁর বাবা-মায়ের সঙ্গে বেড়াতে নানার বাড়িতে আসেন সাবরিনা। তাঁর বাবা মর্তুজা ভূঁইয়া ঢাকার একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন।

গতকাল  শুক্রবার তিনি স্ত্রী-সন্তানদের সোনাইমুড়ী পৌরসভা রামপুর এলাকার শ্বশুরবাড়িতে রেখে কর্মস্থলে ফিরে যান। আজ শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সাবরিনা তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন।

আবিদুর রহমান বলেন, সাবরিনা তাঁর নানার বাড়ির পার্শ্ববর্তী নোয়াখালী-কুমিল্লা সড়কের রামপুর নামের স্থানে সড়ক পার হওয়ার সময় কুমিল্লার দিক থেকে উল্টো পথে আসা ইটবোঝাই একটি ট্রাক তাঁকে চাপা দেয়। এতে সাবরিনা মাথায় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যান।

লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মৃদুল কান্তি কুরি বলেন, ট্রাকচাপায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ মামলা না করলে পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করবে। ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক ড. আইনুল ইসলাম বলেন, একজন উঠতি মেধাবী শিক্ষার্থীর এই অকাল মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার শোকাহত।

মৃত সাবরিনা উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের শিলমুদ গ্রামের মো. মোর্তুজা ভুঁইয়ার মেয়ে। তিন বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ২২ বছর।

এদিকে সাবরিনার মৃত্যুতে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভাগের চেয়ারম্যান শাহ নিস্তার জাহান কবির বিভাগের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করেছেন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক এবং ট্রেজারার অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদ তাঁর অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছে।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Facebook Comments

সাম্প্রতিক খবর

Contact Us