শিরোনাম

পুলিশ পকেটে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : বুধবার, সেপ্টেম্বর ২, ২০২০ ১:৪০:২৬ অপরাহ্ণ
পুলিশ পকেটে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা
পুলিশ পকেটে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী সখিপুর উপজেলার রাজাবাড়ী এলাকার বজলুর রহমান নামে এক ব্যক্তির পকেটে ইয়াবা দিয়ে আটক করার চেষ্টা করায় এক পুলিশ কনস্টেবল (পরে সাময়িক বরখাস্ত) এবং পুলিশের এক সোর্সকে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

সাজাপ্রাপ্তরা হলেন ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার মোজাটি চরপাড়া গ্রামের মো. আক্তারুজ্জামানের ছেলে ও মির্জাপুরের বাঁশতৈল পুলিশ ফাঁড়ির সাময়িক বরখাস্তকৃত কনস্টেবল রাসেলুজ্জামান ওরফে রাসেল এবং বাঁশতৈল নয়াপাড়া গ্রামের বাচ্চু মিয়ার ছেলে ও পুলিশের সোর্স হাসান মিয়া। তাদের মধ্যে কনস্টেবল রাসেলকে দেড় বছর ও সোর্স হাসানকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার পর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। আসামিদের উপস্থিতিতে টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রুপন কুমার দাস গতকাল মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) এ রায় দেন। বুধবার সকালে টাঙ্গাইলের কোর্ট পরিদর্শক (প্রশাসন) তানভীর আহমেদ ও জেলা রেজিস্ট্রার অফিসার (জিআরও) লুৎফুননাহার নিশ্চিত করেন।

বাঁশতৈল ফাঁড়ির সাময়িক বরখাস্তকৃত এএসআই রিয়াজুল ইসলাম, কনস্টেবল গোপাল চন্দ্র সাহা, তোজাম্মেল হক ও আব্দুল হালিম এবং সোর্স আল আমিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় তাদের বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, কনস্টেবল রাসেলসহ মির্জাপুর থানার বাঁশতৈল পুলিশ ফাঁড়ির এ পাঁচ পুলিশ সদস্য এবং হাসানসহ দুই সোর্স গত বছর ২৮ নভেম্বর পার্শ্ববর্তী সখিপুর উপজেলার রাজাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় এলাকায় যান। তারা ওই এলাকার বজলুর রহমান নামে এক দিনমজুরের পকেটে ইয়াবা দিয়ে তাকে জোর করে অটোরিকশায় তোলেন। এ সময় বজলুর রহমানের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে গিয়ে অটোরিকশাটি আটক করে। বজলুর কাছ থেকে ঘটনার বিবরণ শুনে উপস্থিত লোকজন পুলিশ ও সোর্সদের দেহ তল্লাশি করে কিছু ইয়াবা পান। এতে সাধারণ মানুষ বিক্ষুদ্ধ হয়ে পুলিশ ও সোর্সদের একটি দোকানে আটকে রাখেন। পরে খবর পেয়ে সখিপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যান। তবে তার আগেই তিনজন কৌশলে সটকে পড়েন। পরে সেখান থেকে চারজনকে আটক করে পুলিশ সখিপুর থানায় নিয়ে যায়। সেই সময়ে সখিপুর থানায় কর্মরত এসআই মোহাম্মদ আয়নুল হক বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

তদন্তশেষে সখিপুর থানার এসআই ওমর ফারুক গত ২ জানুয়ারি পাঁচ পুলিশ সদস্য ও দুই সোর্সের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। আদালত মামলার আটজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও নথিপত্র বিশ্লেষণশেষে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ায় এ রায় দেন। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ হয়নি, তাদের খালাস দেওয়া হয়।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Facebook Comments

সাম্প্রতিক খবর