শিরোনাম

প্রায় আট হেক্টর অনাবাদি জমি চিহ্নিত করে লাল নিশান টাঙিয়েছে প্রশাসন

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : সোমবার, নভেম্বর ১৪, ২০২২ ৩:৪০:৪৯ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রামে মোট আবাদি জমি দুই লাখ ১৪ হাজার ৮১০ হেক্টর। এর মধ্যে মৌসুমভেদে এক লাখ ২০ হাজার হেক্টর পর্যন্ত জমিতে আবাদ হয় না। এ অবস্থায় প্রায় আট হেক্টর অনাবাদি জমি চিহ্নিত করে লাল নিশান টাঙিয়েছে প্রশাসন। তারা বলছে, সতর্ক করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আর ভূমি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন অনুযায়ী, কোনো জমি পর পর তিন বছর অনাবাদি থাকলে খাস করার বিধান আছে।

দেশে খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শস্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কোনো জমি যেন পতিত না থাকে তার নির্দেশনা দেন। সরকারপ্রধানের এই নির্দেশনার পর তৎপর হয়ে উঠেছে কৃষি অধিদপ্তরসহ স্থানীয় প্রশাসন। অনাবাদি জমিতে কৃষিকাজ শুরুর উদ্যোগও নিচ্ছেন অনেক মালিক।
এদিকে চিনিকল, পাটকল, বস্ত্রকল ও রেলের চাষযোগ্য পতিত জমিতে চাষাবাদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী এবং রেলপথ মন্ত্রীর সহযোগিতা চেয়ে আধা-সরকারিপত্র (ডিও) দিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক। গতকাল রবিবার কৃষি মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। আধা-সরকারিপত্রে বলা হয়, বৈশ্বিক প্রতিকূল অবস্থায় সম্ভাব্য খাদ্যসংকট মোকাবেলায় সরকারি মালিকাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অব্যবহৃত চাষযোগ্য জমিতে চাষের উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ আছে। এ জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট উপজেলা কৃষি অফিসার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবেন।

চট্টগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী চট্টগ্রামে মোট আবাদযোগ্য জমি দুই লাখ ২৮ হাজার ৯৬৬ হেক্টর। এর মধ্যে পতিত জমি (অনাবাদি) ১৪ হাজার ১৫৬ হেক্টর। সে হিসাবে মৌসুমভেদে প্রকৃত আবাদি জমি দুই লাখ ১৪ হাজার ৮১০ হেক্টর।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, দেশে রবি, খরিপ-১ ও খরিপ-২ এই তিন মৌসুমে ফসলের আবাদ হয়। রবি মৌসুমে (প্রধান ফসল বোরো ধান, শীতকালীন সবজি, সরিষা, ডাল, গম, ভুট্টা) মোট এক লাখ ৫৭ হাজার ৩৫৮ হেক্টরে ফসল আবাদ হয়। অনাবাদি থাকছে ৫৭ হাজার ৪৫২ হেক্টর। খরিপ-১ মৌসুমে (আউশ ধান, গ্রীষ্মের সবজি) ৯৩ হাজার ৮৮২ হেক্টরে আবাদ হয়। অনাবাদি থাকছে এক লাখ ২০ হাজার ৯২৮ হেক্টর। খরিপ-২ মৌসুমে (আমন ধান, শরতের সবজি) দুই লাখ ১৩ হাজার ৯৫৪ হেক্টরে আবাদ হয়। অনাবাদি থাকছে ৮৫৬ হেক্টর।
জেলার রাউজানের ঊনসত্তরপাড়া মৌজার প্রিয়তোষ চন্দের প্রায় ৬০ শতাংশ জমিতে গত শনিবার লাল নিশান টাঙায় উপজেলা প্রশাসন। জানতে চাইলে রঞ্জন চন্দ গতকাল বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘১২-১৩ বছর আগে আমাদের জমিতে যথেষ্ট ফলন হতো। পরবর্তী সময়ে ফলন কমে যাওয়ায় চাষাবাদ বন্ধ রাখা হয়। আমি ভূমি অফিসে গিয়ে তহশিলদারকে মৌখিকভাবে এই বিষয়গুলো অবহিত করে চলতি মাস পর্যন্ত সময় নিয়েছি। এক মাসের মধ্যে আমরা আবার ওই জমিতে চাষাবাদ শুরু করব বলেছি। ’

জানা যায়, শুধু প্রিয়তোষ চন্দ নয়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অনাবাদি প্রায় সাত একর জমিতে শনিবার লাল পতাকা টাঙানো হয়। এ ছাড়া গত দু-তিন ধরে চট্টগ্রামের হাটহাজারী, চন্দনাইশ, বাঁশখালী, আনোয়ারা, সন্দ্বীপসহ বিভিন্ন উপজেলায় পতিত জমিতে আবাদ করতে মাইকিংসহ প্রচারপত্র বিলি করছে উপজেলা প্রশাসন।

রাউজান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রিদুয়ানুল ইসলাম বলেন, ‘শনিবার আমরা কার্যক্রম শুরু করেছি। এদিন প্রায় সাত একর পতিত জমিতে লাল পতাকা টাঙিয়ে মালিকদের সতর্ক করেছি। তাঁদের চাষাবাদে এগিয়ে আসতে বলা হয়েছে। আশাব্যঞ্জক সাড়াও পেয়েছি। ’ তিনি বলেন, ভূমি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০-এর ৯২(১)(গ) ধারা অনুযায়ী কোনো কৃষিজমি পর পর তিন বছর অনাবাদি থাকলে তা খাস করার বিধান আছে।
জানতে চাইলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপপরিচালক মো. আক্তারুজ্জামান গতকাল দুপুরে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চট্টগ্রামে চাষযোগ্য পতিত জমি ১৪ হাজার ১৫৬ হেক্টর। পানি, জলাবদ্ধতা, সেচ সুবিধার অভাবসহ নানা কারণে দীর্ঘদিন ধরে এসব জমিতে কোনো চাষাবাদ হচ্ছে না। তবে আমরা বেশি চিন্তিত মৌসুমি পতিত জমিগুলো চাষাবাদের কাজে ব্যবহারের বিষয় নিয়ে। ’ তিনি বলেন, ‘১৪ হাজার ১৫৬ হেক্টর পতিত জমি চাষাবাদের জন্য আমাদের মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নিতে হবে। মৌসুমি পতিত জমিগুলোতে চাষাবাদ করার জন্য আমরা নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। ’

কৃষিবিদ আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘পতিত জমির প্রধান কারণ সেচ সুবিধার অভাব, বোরো ধান দেরিতে বপন ও কর্তন। চট্টগ্রাম ও সিলেটের মতো দেশের অন্য কোনো জেলায় মৌসুমিভিত্তিক এত পতিত জমি নেই। ’

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান বলেন, ‘কৃষিজমিতে সবাইকে চাষাবাদে উদ্যোগী করাসহ কৃষি সহায়তায় গণবিজ্ঞপ্তি স্থানীয় সংবাদপত্রে প্রকাশ করা হবে। দীর্ঘদিন ফেলে রাখা জমির মালিকদের আবার চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ করতে আমরা নানা উদ্যোগ নিয়েছি। ’

অনাবাদি জমি খাস করার বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘পতিত জমির বিষয়ে আইন আছে। তবে আমরা আপাতত সেদিকে যাচ্ছি না। আমরা মানুষকে চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ করছি।

Spread the love
Facebook Comments

সাম্প্রতিক খবর

Contact Us