শিরোনাম

ফকিরহাটে লখপুরের ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যাপক দূর্নীতির অভিযোগ

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : বুধবার, মার্চ ১০, ২০২১ ১২:৫৩:২৬ অপরাহ্ণ
ফকিরহাটে লখপুরের ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যাপক দূর্নীতির অভিযোগ
ফকিরহাটে লখপুরের ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যাপক দূর্নীতির অভিযোগ
মেহেদি হাসান নয়ন 
বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার লখপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ রেজাউল  হক এর বিরুদ্ধে ব্যাপক দূর্নীতির অভিযোগ উঠে এসেছে। সরকারী ঘর প্রদানের নামে অর্থ গ্রহণ,অসুস্থ ব্যক্তির কর্মসূচির টাকা উঠিয়ে গায়েব করা,ভিজিডির কার্ড এর নাম করে অর্থ গ্রহণ সহ নানান অভিযোগ উঠে এসেছে।
একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, লখপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের মৃত আলমগীর শেখ এর স্ত্রী খুরশিদা বেগম (৩২) ২০২০ সালের কোরবানি ঈদের আগে ইউপি সদস্য রেজাউল হক এর কাছে যায় একটি সরকারী ঘর পাবার আশায়। কিন্তু তখন ইউপি সদস্য রেজাউল হক সরকারি উর্ধতন কর্মকর্তাদের দোহায় দিয়ে দাবী করে পাচ হাজার  (৫০০০) টাকা। অসহায় খুরশিদা বেগম নিজের বোনের কাছ থেকে  পাচ হাজার (৫০০০) টাকা ধার করে ইউপি সদস্য রেজাউল হক কে দেয়।কিন্তু আজো সেই ঘর পেলোনা খুরশিদা বেগম। সরকারি ঘরে থাকার সৌভাগ্য হলোনা খুরশিদা বেগমের স্বামীর। ৪৭ দিন আগে খুরশিদা বেগমের স্বামী স্ট্রোক করে মৃত্যুবরণ করেন।
খুরশিদা বেগম বলেন, রেজাউল হক মেম্বার ঘরের জন্য আমার থেকে পাচ হাজার (৫০০০) টাকা নেয় কিন্তু আমি কোন ঘর পায়নি।আমার ঘরে থাকার একটা খাট নাই। ২ ছেলেরপড়ালেখা আর সংসার চলে আমার বোনের সহায়তায়। জানিনা এভাবে আর কতদিন চলা লাগবে। যেহেতু আমি টাকা দিয়ে এখনো কোন ঘর পাইনি সেহেতু আমি আমার টাকা ফেরত চাই।
আরো অভিযোগ উঠেছে দরিদ্র ওমর ফারুকের কর্মসূচির আট হাজার (৮০০০) টাকা ইউপি সদস্য রেজাউল হক নিজেই উত্তোলন করে নেয়।কিন্তু পরোক্ষণে জিজ্ঞাসা করলে অস্বীকার করে। ওমর ফারুক বলেন, আমার চেক রেজাউল মেম্বারের কাছে ছিল।আমি ৩ মাস যাবত অসুস্থ ছিলাম। কিছুটা সুস্থ হবার পর আমি যখন চেক চাই তখন শুরু করে তালবাহানা।পরে এক পর্যায়ে আমাকে চেক দিলেও সেই চেকের পাতা ছিল ছেড়া। পরে আমি কর্মসূচির টাকা উত্তোলন করেছে কিনা জানতে চাইলে সে (রেজাউল হক ) অস্বীকার করে।পরে আমি ব্যাংক স্টেটমেন্ট আনলে দেখি ২০১৯ সালের ৩০ শে জানুয়ারী পাচ হাজার ছয়শত (৫৬০০) টাকা এবং ২০১৯ সালের ১৩ই ফেব্রুয়ারী দুই হাজার চারশত (২৪০০) টাকা উত্তোলন করে। আমি অনেক কষ্টে দিন যাপন করতেছি। অনেক কষ্টের টাকা আমার।আমি আমার টাকা ফেরত চাই।
একজন জনপ্রতিনিধি যখন সাধারণ মানুষের জন্য ভূইফোঁড়ে পরিনত হয়ে যায়।যখন সাধারণ অসহায় মানুষের টাকা লোপাট করে নিজের পকেট ভারী করে তখন সাধারণ মানুষ পড়ে বিপাকে। অতিদ্রুত এমন অসাধু ও দূর্নীতি গ্রস্থ ইউপি সদস্যের শাস্তি দাবী করে এলাকার সাধারণ মানুষ।
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Facebook Comments

সাম্প্রতিক খবর

Contact Us