শিরোনাম

ফরিদপুরের সালথার কয়েকটি ইউনিয়ন পুরুষশূন্য, নতুন করে ৪ মামলা দায়ের

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : শনিবার, এপ্রিল ১০, ২০২১ ৭:২১:০৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের সালথার কয়েকটি ইউনিয়ন পুরুষশূন্য, নতুন করে ৪ মামলা দায়ের
ফরিদপুরের সালথার কয়েকটি ইউনিয়ন পুরুষশূন্য, নতুন করে ৪ মামলা দায়ের

ফরিদপুর প্রতিনিধি ফরিদপুরের সালথায় লকডাউন না মানাকে কেন্দ্র করে সহিংসতার পর অব্যাহত জোরদার পুলিশি অভিযানের কারণে উপজেলার আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়নের গ্রামগুলো পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে।

শুক্রবার (৯ এপ্রিল) সরেজমিন ওই সব এলাকার বাড়িঘরে নারী আর শিশু ছাড়া কোনো পুরুষ সদস্যকে দেখতে পাওয়া যায়নি। বাড়ির নারী ও শিশুদের চোখ-মুখে ভয়ের ছাপ স্পষ্ট দেখা যায়। বাইরের মানুষ দেখলেই তারা ভয়ে দৌড়ে সরে যাচ্ছেন।

গত ৫ এপ্রিলের ঘটনার পর থেকে এ পর্যন্ত মামলা হয়েছে ৫টি। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে ২৬১ জনের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাত ১৬ হাজার ৮০০ জনকে। বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত আটক করা হয়েছে ২৭ জনকে। নতুন যে চারটি মামলা হয়েছে তার একটি করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা বাচ্চু মাতুব্বর।

এ মামলায় ২৫ জনের নামোল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত আরো ৭০০ থেকে ৮০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। আরেকটি মামলা করেছেন সালথা উপ‌জেলা নির্বাহী কর্মকতা মোহাম্মাদ হা‌সিব সরকা‌রের গাড়িচালক মো. হাশমত আলী।

এ মামলায় ৫৮ জনের নামোল্লেখ এবং ৩ থেকে ৪ হাজার অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। অপর মামলাটি করেছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের নিরাপত্তারক্ষী সমীর বিশ্বাস। এ মামলায় ৪৮ জনের নামোল্লেখ করা হয়েছে এবং ৩ থেকে ৪ হাজার ব্যক্তিকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। আরেকটি মামলা করেছেন উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) গাড়িচালক মো. সাগর সিকদার।

এ মামলায় ৪২ জনের নামোল্লেখ করে তিন থেকে চার হাজার ব্যক্তিকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। এর আগে গত বুধবার সালথা থানার এসআই (উপ-পরিদর্শক) মিজানুর রহমান বাদী হয়ে ৮৮ জনের নামোল্লেখ করে এবং প্রায় চার হাজার ব্যক্তিকে অজ্ঞাত আসামি করে থানায় হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে প্রথম মামলাটি করেন। ফুকরা বাজার এলাকার করিমন বেগম জানান, সব সময় ভয়ে রয়েছি। পুলিশ দেখতে দেখতে সারাদিন কেটে যাচ্ছে। বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য নেই। সবাই পালিয়ে রয়েছে বলে জানান তিনি। নূরজাহান নামে একজন জানান, ওই দিন অন্য এলাকা থেকে লোকজন এসে হামলা করছে। আমাদের গ্রামের কোনো লোক ছিল না।

তিনি বলেন, শুনেছি ফুকরা বাজারে এসিল্যান্ডের সাথে থাকা সদস্যদের সাথে বাজারের লোকজনের গণ্ডগোলকে কেন্দ্র করে ওই ঘটনা ঘটেছে। ঘট্রি এলাকার মনির নামে একজন জানান, বালিয়া গট্রি এলাকা ও উপজেলাকেন্দ্রিক এলাকার বাড়িগুলোতে কোনো পুরুষ সদস্য নেই।

ঘটনার পর থেকে ওই সব এলাকার লোকজন পলাতক রয়েছে বলেও তিনি জানান। তবে তার দাবি, কোনো নিরীহ লোক যেন হয়রানির শিকার না হন। ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান বলেন, এ ঘটনার পর দায়েরকৃত মামলার আসামিদের ধরতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে দিন-রাত পুলিশি অভিযান চালানো হচ্ছে। পুলিশি অভিযানের কারণে বেশিরভাগ এলাকা পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। তারপরও পুলিশ তাদের ধরতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। তিনি আরো বলেন, ওই ঘটনায় যে-ই জড়িত থাকুক না কেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে পুলিশ।

এ ব্যাপারে কোনো ধরনের ছাড় দেয়া হবে না। এরই মধ্যে ২৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় গুলিবৃদ্ধ দুজনের মৃত্যু হয়েছে বলেও জানান তিনি। উল্লেখ্য, লকডাউন না মানাকে কেন্দ্র করে গত সোমবার বিকেলে সালথার ফুকরা বাজারে এসিল্যান্ডের সাথে থাকা সদস্য এবং স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ

রপরই বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ এসে সালথা উপজেলা পরিষদ, এসিল্যান্ড অফিস ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায়।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Facebook Comments

সাম্প্রতিক খবর

Contact Us