শিরোনাম

ফরিদপুরের সালথায় আমের মুকুলের যত্নে ব্যস্ত সময় পার করছে আম চাষিরা

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : শনিবার, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২১ ১০:১০:২১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের সালথায় আমের মুকুলের যত্নে ব্যস্ত সময় পার করছে আম চাষিরা
ফরিদপুরের সালথায় আমের মুকুলের যত্নে ব্যস্ত সময় পার করছে আম চাষিরা

মোঃ জাকির হোসেন, সালথা (ফ‌রিদপুর) প্রতি‌নি‌ধিঃ আমের মুকুলের যত্নে ব্যস্ত সময় পার করছে আম চাষিরা। এমনি দৃশ্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার সর্বত্র। বসন্তের শুরুতেই আমের মুকুলে ছেয়ে যাচ্ছে সালথা উপজেলার আনাচে কানাচের সমস্ত আমগাছ। এ যেন বসন্তের বার্তা বাহক। গভীর, সুনিষ্কাশিত, উর্বর ও দোয়াঁশ মাটি হওয়ায় এবং মাটির পর্যাপ্ত অম্লতা হওয়ায় প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও সালথা উপজেলার ৮টি ইউনিয়নেই আমের বাম্পার ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গত মৌসুমে প্রচুর কুয়াঁশা থাকায় অনেক আমের মুকুল বিনষ্ট হয়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্থ্য হয়েছে সাধারণ আম চাষিরা। কিন্তু এ মৌসুমে ব্যতিক্রম হবে বলে আশাবাদী আমচাষীরা। সালথা উপজেলার সর্বত্রই আমের ফলন হয়ে থাকে। তবে অত্র উপজেলার দক্ষিণাঞ্চল অর্থাৎ ফুঁলবাড়িয়া, খারদিয়া, যদুনন্দী এলাকাগুলো উল্লেখযোগ্য। এলাকার কৃষকেরা তাদের বাড়ির পাশে পড়ে থাকা পতিত জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির আমগাছ রোপন করেছ। ফলে সৃষ্টি হচ্ছে কর্মসংস্থানের, পূরণ হচ্ছে ভিটামিনের, লাভবান হচ্ছে আম চাষিরা এবং স্বাবলম্বী হচ্ছে অনেকেই। এ বিষয়ে কয়েকজন আম চাষির সাথে কথা বললে তারা জানান, গত মৌসুমে কুঁয়াশার কারনে আমের মুকুল নষ্ট হওয়ায় তেমন ফল পাইনি। কিন্তু এ বছর তেমন সম্ভাবনা না থাকায় আমরা আগে ভাগেই পূর্ব প্রস্তুতি নিচ্ছি। যেমন, আম বাগান পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করছি, গাছের গোড়ায় পানি দিচ্ছি, পোকা দমনের স্প্রে দিচ্ছি, সার ও কীটনাশক দিচ্ছি, প্রতি লিটার পানিতে ০.৫ লিটার মিলি টিল্ট ২৫০ ইসি মিশিয়ে স্পে করছি, বর্ষার শেষে ১০০ গ্রাম হারে সার প্রয়োগ করছি। তারা আরো বলেন, আম এদেশে চাষযোগ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। বর্তমানে দেশের ২২টি জেলায় বাণিজ্যিকভাবে শুরু হয়েছে আমের চাষাবাদ। তবে জনপ্রিয় এই ফলটি দেশের সব যেকোন জায়গায় জন্মাতে ও ফলন দিতে পারে। বৈচিত্র্যপূর্ণ ব্যবহার, পুষ্টিমান এবং স্বাদ- গন্ধে আম একটি অতুলনীয় ফল। জলবায়ুগত পরিবর্তনের ফলে আম বাগানে দেখা যাচ্ছে নতুন নতুন রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ। বর্তমান সময়ে আম বাগানে বালাইনাশকের ব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি করা, কীটনাশক স্প্রের বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি, আম বাগানে রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ রোধসহ ছোট আকারের ফসলের ক্ষেত্রে অন্যান্য দমন পদ্ধতি যেমন-আক্রান্ত পাতা বা গাছের অংশ ছিঁড়ে ফেলা, পোকার ডিম বা কীড়া সংগ্রহ করে ধ্বংস করা, জাল দিয়ে পোকা সংগ্রহ করে নষ্ট করা সম্ভব কিন্তু আমের মতো বৃহৎ গাছে রোগ বা পোকামাকড় দমনের জন্য বালাইনাশক স্প্রে করার পরামর্শ নিচ্ছি। আশা করি এ বছর ফলন ভালো হবে।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Facebook Comments

সাম্প্রতিক খবর

Contact Us