শিরোনাম

ফুলছড়িতে হত্যা মামলার অভিযুক্ত দুই আসামী ইউপি সদস্য প্রার্থী

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : সোমবার, ডিসেম্বর ২৭, ২০২১ ১০:০৬:০৮ অপরাহ্ণ
ফুলছড়িতে হত্যা মামলার অভিযুক্ত দুই আসামী ইউপি সদস্য প্রার্থী
ফুলছড়িতে হত্যা মামলার অভিযুক্ত দুই আসামী ইউপি সদস্য প্রার্থী

(গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: আগামী ৫ জানুয়ারী পঞ্চম ধাপের ইউপি নির্বাচনে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

নির্বাচনে দুইটি ইউনিয়নে হত্যা মামলায় অভিযুক্ত দুইজন আসামী সাধারণ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। একজন হচ্ছেন, এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমান ইউপি সদস্য শাহজামাল মন্ডল, অপরজন উড়িয়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডে আব্দুছ ছালাম খাঁন। ইতোমধ্যে তারা প্রতীক পেয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। শাহজামাল পেয়েছেন মোরগ প্রতীক ও আব্দুছ ছালাম খাঁন পেয়েছেন টিউবওয়েল প্রতীক।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ফুলছড়ি উপজেলার ডাকাতিয়ারচর গ্রামের পাশ্ববর্তী জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার লংকারচর গ্রামের কৃষক সুমার আলীর সাথে ডাকাতিয়ারচর গ্রামের শাহজামালের জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল।

গত ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২১ তারিখে সুমার আলী তার বোন জামাই চাঁন মিয়াকে নিয়ে ওই জমিতে সেচ দিতে গেলে শাহজামালের নেতৃত্বে তার লোকজন ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে মারধর করে দুইজনকে গুরুতর আহত করে।

পরে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চাঁন মিয়া মারা যান। এ নিয়ে ১২ ফেব্রুয়ারী নিহতের শ্যালক সুমার আলী বাদী হয়ে শাহজামালকে প্রধান আসামি করে দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এ মামলায় আরও ১৪ জনকে আসামী করা হয়। চলতি বছরের ৩১ জুলাই পুলিশ শাহজামালসহ ১১ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে। মামলার বাদী সুমার আলী বলেন, শাহজামাল একজন হত্যা মামলার পলাতক আসামী। পুলিশের কাছে তিনি পলাতক হয়েও এলাকায় প্রকাশ্যে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন।
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য প্রার্থী শাহজামাল মন্ডলের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি ফোন ব্যবহার করছেন না।
অপরদিকে উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য লাল মিয়াকে গত ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২১ তারিখ সকালে পাশ্ববর্তী উড়িয়া ইউনিয়নের সাদেক খাঁ বাজারে প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

এ হত্যাকান্ডের পরের দিন নিহতের ছেলে মুরশিদ আলী বাদী হয়ে ২৬ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ২০/২৫ জনকে আসামী করে ফুলছড়ি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। উক্ত মামলার ১১ নম্বর আসামী আব্দুছ ছালাম খাঁন উচ্চ আদালত থেকে জামিনে বেড়িয়ে এসে উড়িয়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য প্রার্থী হয়েছেন। আব্দুছ ছালাম খাঁনের পিতা বর্তমান ইউপি সদস্য সাদেক খাঁনও ওই হত্যা মামলার ১২ নম্বর আসামী।
নিহত লাল মিয়ার ছেলে মুরশিদ আলী বলেন, ‘মামলাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে আমার বাবার হত্যাকারী আব্দুছ ছালাম খাঁন নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। তিনি ভয়ভীতি দেখিয়ে এলাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছেন।

এমনকি আমরা পাশ্ববর্তী ইউনিয়নের লোক হলেও আব্দুছ ছালাম খাঁন ভোটকে কেন্দ্র করে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানির চেষ্টা করছেন। এনিয়ে আমাদের নিকট আত্মীয়রা ভীতিকর অবস্থার মধ্যে আছেন। খুনের আসামীকে জনগণ প্রত্যাখান করবে।’
এবিষয়ে উড়িয়া ইউপি’র ৯নং ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য প্রার্থী আব্দুছ ছালাম খাঁন বলেন, ‘আমি সুষ্ঠ নির্বাচনের জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তা কার্যালয়ে আবেদন জানিয়েছি। লাল মিয়ার পরিবারের লোকজনের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করিনি।’

ফুলছড়ি থানার পুলিশ পরিদর্শক কাওছার আলী বলেন, ‘লাল মিয়া হত্যা মামলার আসামী আব্দুছ ছালাম খাঁন জামিনে আছেন। আর
এরেন্ডাবাড়ী ইউপির ৪নং ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য প্রার্থী শাহজামালের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি

Spread the love
Facebook Comments

সাম্প্রতিক খবর

Contact Us