শিরোনাম

ফের অনিশ্চয়তা সৌদি আরবের শ্রমবাজার

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : বুধবার, মার্চ ৩, ২০২১ ২:২৯:২৮ পূর্বাহ্ণ
ফের অনিশ্চয়তা সৌদি আরবের শ্রমবাজার
ফের অনিশ্চয়তা সৌদি আরবের শ্রমবাজার

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসে গোটা বিশ্বঅর্থনীতি লন্ডভন্ড। মধ্যপ্রাচ্যসহ প্রভাবশালী দেশগুলোতে কমে এসেছে কর্মক্ষেত্র। বিশ্বের দেশে দেশে চাকরি হারিয়েছেন লাখ লাখ প্রবাসী শ্রমিক। সে প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের প্রবাসী শ্রমিকদের মধ্যেও। এতে করে সউদী গমনেচ্ছু বাংলাদেশি কর্মীরা কর্মস্থলে ফিরে যাওয়া নিয়ে ফের অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে গেছেন। বিদেশের কর্মস্থলে ফিরতে না পেরে চোখের পানি ফেলছেন লাখো শ্রামিক।

আরব ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে জনশক্তি রফতানিকারকদের জমাকৃত হাজার হাজার মার্কিন ডলার উধাও হওয়ায় ‘নতুন ভিসা ইস্যু’ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে অনেক নতুন ভিসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার মেয়াদোত্তর্ণী হয়ে যাচ্ছে। আরব ন্যাশনাল ব্যাংকে বৈধ পন্থায় ডলার জমা দেয়ার প্রক্রিয়া চালু না হওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। সউদীর শ্রমবাজার ধরে রাখার স্বার্থে বৈধ পথে সউদী ব্যাংকে ডলার প্রেরণের প্রক্রিয়া চালু করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

২০১৯ সালে সউদীতে কর্মরত প্রবাসীরা ৩ লক্ষ ৯৯ হাজার কোটি টাকার রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন। অথচ ২০২০ সালে এর পরিমাণ মাত্র ১ লাখ ৬১ হাজার ৭২৬ কোটি টাকা।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত মাসের প্রথম সপ্তাহের পর সউদীস্থ আরব ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে বাংলাদেশি বিপুল সংখ্যক রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর জমাকৃত মার্কিন ডলার উধাও হওয়ায় নতুন ভিসা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।

গালফ উপসাগরের তীরে আরব দেশগুলোতে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ বিদেশি নাগরিক কাজ করে, যাদের বেশিরভাগ এশিয়ান। এমনিতেই এয়ারলাইন্সগুলো সিন্ডিকেট করে বিমানের টিকিটের দাম কয়েকগুণ বৃদ্ধি করায় কর্মীরা টিকিট কিনতে গলদঘর্ম। করোনাকালে অভিবাসন ব্যয়ের অর্থ যোগাতে বিদেশ গমনেচ্ছু কর্মীদের হিমসিম খেতে হচ্ছে।

বৈধ পথে সউদী ব্যাংকগুলোতে ডলার প্রেরণের সুযোগ না থাকায় অনেকেই নানাভাবে ক্রেডিট কার্ড দিয়ে আরব ন্যাশনাল ব্যাংকে অর্থ জমা করে আসছিল। ব্যাংকে জমাকৃত ডলারের বৈধ ডকুমেন্ট হাতে না থাকায় এসব উধাও হওয়ায় অর্থ আদৌ ফেরত পাবে কী না সন্দেহ দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফকিরাপুলের জি-নেট টাওয়ারের একজন জনশক্তি রফতানিকারক এ তথ্য জানান। ঐ জনশক্তি রফতানিকারক বলেন, সউদীতে অভিবাসী কর্মীদের সুরক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চতকরণ এবং সউদী নাগরিকদের বেশি বেশি কর্মসংস্থানে সম্পৃক্তকরণের লক্ষ্যে আগামী জুন মাস থেকে কাফেলা সিস্টেম বাতিল করতে যাচ্ছে দেশটির সরকার। চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে কোনো সউদী নাগরিকের অভিবাসী কর্মী নিয়োগ করতে হলে সরাসরি বিদেশি রিক্রুটিং এজেন্সি বা কোনো ব্যক্তির কাছে ওকালা বিক্রি করতে পারবে না। কর্মী নিয়োগের চাহিদাপত্র সউদী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দিতে হবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় যাচাই-বাছাই করে কর্মী নিয়োগের অ্যাপ্রুভাল অনুমোদন দিবে। এ প্রক্রিয়া কার্যকরী হলে অভিবাসী কর্মীদের পালিয়ে পালিয়ে অন্যত্র কাজ করতে হবে না।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Facebook Comments

সাম্প্রতিক খবর

Contact Us