শিরোনাম

বাংলাদেশ-দ.কোরিয়া যৌথ উদ্যোগে স্টার্টআপদের নিয়ে “আইডিয়াথন” কনটেস্টের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২০ ২:৫৭:৫৫ পূর্বাহ্ণ
বাংলাদেশ-দ.কোরিয়া যৌথ উদ্যোগে স্টার্টআপদের নিয়ে “আইডিয়াথন” কনটেস্টের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত
বাংলাদেশ-দ.কোরিয়া যৌথ উদ্যোগে স্টার্টআপদের নিয়ে “আইডিয়াথন” কনটেস্টের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশের স্টার্টআপদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম বিকশিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ-দক্ষিণ কোরিয়া যৌথ উদ্যোগে আয়োজন করতে যাচ্ছে “আইডিয়াথন (ideaTHON)” কনটেস্ট। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আওতায় বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের অধীনে iDEA প্রকল্প আয়োজন করছে এই প্রতিযোগিতা। এই আয়োজনের সহ-আয়োজক হিসেবে রয়েছে কোরিয়া প্রোডাক্টিভিটি সেন্টার (কেপিসি) এবং কোরিয়া ইনভেনশন প্রমোশন অ্যাসোসিয়েশন (কাইপা)। এছাড়া, বাংলাদেশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ও বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মিনিস্ট্রি অফ জাস্টিস ও গ্লোবাল স্টার্টআপ ইমিগ্রেশন সেন্টার এই আয়োজনের সহোযোগিতায় পাশে থাকছে। “Let’s Start You Up” স্লোগান নিয়ে আয়োজিতব্য এই কনটেস্টের চূড়ান্ত বাছাই শেষে সেরা ৫ উদ্ভাবনী স্টার্টআপকে বিজয়ী হিসেবে ঘোষনা করা হবে। বিজয়ীরা পাবে দক্ষিণ কোরিয়াতে ৬ মাসের বিশেষ প্রশিক্ষণ, ইনকিউবেশন, ফান্ডিং, আন্তর্জাতিক পেটেন্টসহ কপিরাইট ও ট্রেডমার্ক পাবার সহযোগিতা। এছাড়া সেরা ২৫টি টিম পাবে বিশেষ মেনটরিং এবং সম্মাননাপত্র।

অনলাইনের মাধ্যমে ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ (শনিবার) বিকাল ৩ টায় প্রধান অতিথি হিসেবে আইডিয়াথন (ideaTHON) কনটেস্টটির শুভ উদ্বোধন করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক, এমপি তিনি বলেন যে, তরুণদের উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করাই হল এই ধরনের আয়োজনের মূল লক্ষ্য। এই আয়োজনের ফলে বাংলাদেশ ও কোরিয়ার মধ্যে যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আছে, সেটাকে একটা ভিন্ন মাত্রায় উন্নীত করবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক মাননীয় উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ এর সঠিক পরামর্শে ও অনুপ্রেরণায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের বিসিসি এর অধীনে iDEA প্রকল্প প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছিল, সেটি আজকে ধীরে ধীরে আমাদের বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে গড়ে তুলতে একটি ঐতিহাসিক ভুমিকা পালন করছে। মাননীয় প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন যে, আমরা জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্নের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করছি। বিশ্বের বুকে আমরা প্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞানভিত্তিক একটি উন্নত অর্থনীতির বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করছি। এই যাত্রাটা আমরা শুরু করেছিলাম ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে নির্বাচনের পর থেকেই। ২০০৯ সাল থেকে ধাপে ধাপে আমরা যে আইসিটি ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে পেরেছি যার ফলাফল হিসেবে এখন আমাদের দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি হচ্ছে এবং ১০ লক্ষ তরুণ তরুণীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরো বলেন, দেশে প্রায় ১০ কোটি ৩৬ লক্ষ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা তৈরি হয়েছে এবং একেবারে ইউনিয়ন পর্যায়ে ফাইবার অপটিক্যাল ক্যাবল আমরা নিয়ে যেতে পেরেছি। আমাদের সরকারের ডিজিটাল সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য জননেত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা জনাব সজীব ওয়াজেদ এর সু-পরামর্শে প্রায় নয় শতাধিক সেবা জনগণের হাতের মুঠোয় আমাদের মাই গভ অ্যাপসহ বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে এনে দিতে পেরেছি। একই সাথে একটি আইসিটি ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তুলতে পেরেছি যেটা প্রায় ১১ বছর আগে মাত্র ২৬ মিলিয়ন ডলারের একটি আইসিটি এক্সপোর্ট ইন্ডাস্ট্রি ছিল। বর্তমানে সেটা প্রায় বিলিয়ন ডলার ক্রস করেছে এবং আমাদের টার্গেট হল আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে আমরা পাঁচ বিলিয়ন ডলার ক্রস করতে সক্ষম হব। আর এসব কিছুর মূল যে অনুপ্রেরণা এবং যে দর্শন রয়েছে, সেটা কিন্তু আমাদেরকে দিয়েছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইসিটি বিভাগের সিনিয়র সচিব জনাব এন এম জিয়াউল আলম পিএএ, তিনি এ ধরনের আয়োজনের জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান। বিশ্বের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের সাথে বাংলাদেশকে সংযুক্ত করে বৈদেশিক বিনিয়োগ নিয়ে আসা এবং স্টার্টআপগণকে বৈদেশিক বিনিয়োগ আনতে সক্ষম করে তোলা সম্ভব হবে বলেও তিনি আশা ব্যক্ত করেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) এর নির্বাহী পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) জনাব পার্থপ্রতিম দেব উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি বলেন যে, এই আয়োজনের ফলে এবার আমাদের বাংলাদেশের স্টার্টআপরা দেশের বাইরে প্রশিক্ষণ নেবার সুযোগ পাবেন। কোরিয়ান সরকার আমাদেরকে ব্যাপকভাবে সহোযোগিতা করেছেন, তাই কোরিয়ান সরকারের প্রতি তিনি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব টিনা এফ জাবিন তিনি বলেন যে, দেশের সেরা স্টার্টআপগুলো দক্ষিণ কোরিয়াতে যাবে, তাই যোগ্য স্টার্টআপগুলো যেন যেতে পারে সেদিকটা নজর রেখে কনটেস্টের বাছাইপ্রক্রিয়া, বিচারক এবং সিলেকশন ক্রাইটারিয়াগুলোর দিকে বিশেষ লক্ষ্য রাখতে হবে।

এছাড়া, গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)-এর সভাপতি ড. রুবানা হক তিনি স্টার্টআপদের কল্যাণে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রশংসা করেন এবং দেশের স্টার্টআপদের শুভ কামনা জানান।

অনুষ্ঠানটিতে সভাপতিত্ব করেন iDEA প্রকল্পের পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব সৈয়দ মজিবুল হক তিনি জানান যে আইডিয়াথন (ideaTHON) তরুণ উদ্ভাবকদের তথ্য-প্রযুক্তি ভিত্তিক উদ্ভাবনী সমাধান তৈরিতে উৎসাহিত করবে। এছাড়া, উদ্যোক্তাদের বৈদেশিক পরিবেশে এ ধরণের আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ও মেনটরিং প্রদানের মাধ্যমে তাদেরকে আরো দক্ষ করে তুলবে যা পরবর্তীতে তাদের ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখ থেকে আইডিয়াথন (ideaTHON) কনটেস্টটির রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম শুরু হল। দেশের সবগুলো বিভাগেই প্রচারণাসহ অনলাইনে ক্যাম্পেইন আয়োজন করা হবে। এই ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে দেশের প্রায় ৩০ টির বেশি সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই এবং বেসিস, বাক্য, বিসিএস, ইক্যাব, আইএসপিএবি-সহ বিভিন্ন ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনকে সংযুক্ত করা হচ্ছে। এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে সর্বপ্রথমে বাংলাদেশের তথ্য-প্রযুক্তিভিত্তিক আগ্রহী স্টার্টআপগণ অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করবেন। তবে কোন ব্যাক্তি একক ভাবে অংশ নিতে পারবেন না। একটি দলে দলনেতাসহ সর্বনিম্ন ২ জন এবং সর্বোচ্চ ৪ জন সদস্য অংশগ্রহণ করতে পারবেন। এছাড়া, শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে যারা ব্যাচেলর ডিগ্রী বা মাস্টার্স বা এমফিল বা পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন অথবা ইউজিসি কর্তৃক স্বীকৃত বাংলাদেশের যেকোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্নাতক বা সমমান পরীক্ষায় অবতীর্ণ (Appeared) হয়েছেন, এমন আগ্রহীগণ আবেদন করতে পারবেন। উল্লেখ্য যে, আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখে বয়স ২২ থেকে ৩৯ বছরের মধ্যে হতে হবে। আইডিয়াথনে অংশ নেবার জন্য রেজিস্ট্রেশনের শেষ তারিখ আগামী ২১ নভেম্বর ২০২০ (শনিবার)। বিস্তারিত জানতে এবং আবেদনের জন্য ভিজিট করতে হবে– http://ideathon.startupbangladesh.gov.bd/

রেজিস্ট্রেশনের পর প্রাথমিক বাছাই শেষে সেরা ১০০টি দল নির্বাচন করে তাদেরকে প্রাথমিকভাবে মেনটরিং প্রদান করা হবে। এরপর, বাছাইকৃত টিমগুলো থেকে সেরা ২৫ টি দলকে চূড়ান্ত বাছাই পর্বের জন্য মনোনীত করা হবে। চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেবার পূর্বেই বাছাইকৃত সেরা ২৫ টি দলকে বিশেষ মেনটরিং প্রদান করা হবে। সবশেষে বিচারকদের জাজিং সেশন সম্পন্ন হবার পর সেরা ৫ দল অর্থাৎ স্টার্টআপকে বিজয়ী হিসেবে সম্মাননা দেওয়া হবে। বিজয়ী ৫টি টিমের প্রতি টিম হতে ২ জন করে মোট (৫ x ২=১০ জন) দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠেয় প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রায় ৩০ টির বেশি সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই ও বিভিন্ন ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের সম্মানিত প্রতিনিধিগণ অনলাইনে সংযুক্ত হন। এছাড়া, iDEA প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক (উপসচিব) কাজী হোসনে আরা, প্রকল্পের সিনিয়র পরামর্শক আর এইচ এম আলাওল কবির, প্রকল্পের পরামর্শক দেওয়ান আদনান, সোহাগ চন্দ্র দাস সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণ, বিসিসি ও আইসিটি বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তাগণ এসময় অনলাইনে উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি সরাসরি ফেইসবুক লাইভের মাধ্যমে সম্প্রচার করা হয় আইসিটি বিভাগের idea প্রকল্পের অফিসিয়াল ফেইসবুক পেইজ “স্টার্টআপ বাংলাদেশ” ( https://www.facebook.com/LetsStartupBD/ ) এর মাধ্যমে।

উল্লেখ্য যে, গত বছর সিউল ইন্টারন্যাশনাল ইনভেনশন ফেয়ার ২০১৯-এ মিনিস্ট্রি অব জাস্টিস কোরিয়া, আইসিটি ডিভিশন (বাংলাদেশ), কোরিয়া প্রোডাক্টিভিটি সেন্টার ও কোরিয়া ইনভেনশন প্রমোশন এসোসিয়েশন এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী গ্লোবাল স্টার্টআপ টু এন্ট্রাপ্রেনার নেটওয়ার্ক (G-SEN) প্রোগ্রামের আওতায় বাংলাদেশের ৫টি স্টার্টআপ কেপিসি কর্তৃক কম্প্রিহেনসিভ ইনকিউবেশন সাপোর্ট পাবে। iDEA প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক কাজী হোসনে আরার নেতৃত্বে স্টার্টআপ বাংলাদেশ থিম নিয়ে iDEA প্রকল্পের একটি প্রতিনিধিদল এতে অংশগ্রহণ করে।

আরও পড়ুনঃ

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Facebook Comments

সাম্প্রতিক খবর