শিরোনাম

বাগেরহাটজুড়ে বাড়ছে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ে আতঙ্ক, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : সোমবার, অক্টোবর ২৪, ২০২২ ৭:১১:৪৪ অপরাহ্ণ

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং যতই উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে ততই বাগেরহাটজুড়ে আতঙ্ক বেড়েই চলেছে। বাগেরহাটের ৯টি উপজেলায় ৩৪৪টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে শুকনা খাবারসহ রেডক্রিসেন্ট, সিপিপিসহ ২০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক।

গতকাল রবিবার রাত থেকে বাগেরহাটে অবিরাম বৃষ্টির পাশাপাশি সকাল থেকে বইছে দমকা ও ঝড়ো হাওয়া। বাগেরহাটের নদ-নদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫ থেকে ৭ ফুট পানি বেড়ে জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

মোংলা বন্দর, মোংলা নৌঘাটি, কোস্টগার্ড, সুন্দরবন বিভাগ, রেডক্রিসেন্ট, ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়নে কন্ট্রোল রুম খুলে প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৭৬টি মেডিকেল টিম। মোংলা বন্দরে এলার্ড থ্রি জারি করে বন্দরের চ্যানেল থেকে সব জাহাজ সরিয়ে নিয়ে চ্যানেল ফাঁকা করে ফেলা হয়েছে।

 

মোংলা বন্দরে অবস্থানরত ১৪টি বাণিজ্যিক জাহাজকে জেটি ছেড়ে নিরাপদে আশ্রয় নিয়েছে। সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়েছে বন্দরে পণ্য ওঠানামার কাজ। ঝড়ো হাওয়ার কারণে একটি কার-ক্যারিয়ারসহ পাঁচটি বাণিজ্যিক জাহাজ মোংলা বন্দরে ঢুকতে পারেনি। একইবাবে পণ্য খালাস শেষ হওয়ার পরও তিনটি জাহাজ বন্দর ত্যাগ করতে পারেনি। বন্দর চ্যানেল নিরাপদ রাখতে লাইটার জাহাজগুলোকে পশুর চ্যানেল ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে নির্দেশ দিয়েছে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ।

সোমবার সকালের মধ্যেই ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সাইড সুন্দরবনের দেশি-বিদেশি সব পর্যটকদের নিরাপদে লোকালয়ে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে সুন্দরবনের কর্মকর্তা-বনরক্ষীদের ছুটি। জারি করা হয়েছে সর্বোচ্চ সর্তকতা। দুর্বল অবকাঠামো থাকায় সুন্দরবনের ৩টি বন অফিস বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তাম্বুলবুনিয়া, চরখালী ও শ্যালার এই ৩টি বন অফিস বন্ধ করে কর্মকর্তা-বনরক্ষীদের পার্শ্ববর্তী অফিসগুলোতে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের কারণে ইতিমধ্যেই বাগেরহাটের নদ-নদীর পানি স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৪ থেকে সাত ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি বৃদ্ধির কারণে বাগেরহাটের বিভিন্ন এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হবার খবর পাওয়া গেছে।

বাগেরহাটের উপকূল জুড়ে জনমনে আতঙ্কের মধ্যে জেলার শরণখোলা, মোড়েলগঞ্জ, মোংলা ও রামপাল উপজেলার বিভিন্ন সাইক্লোন শেল্টারে বিকাল থেকেই লোকজন আশ্রয় নিতে শুরু করেছে। বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত এসব সাইক্লোন শেল্টারে ২০ হাজারের অধিক লোকজন আশ্রয় নিয়েছে।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসন বলছে, ঘূর্ণিঘড় শুরু হবার আগেই জেলার ৩৪৪টি সাইক্লোন শেল্টারে ২ লাখ ৮ হাজার ৪৩০ জনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, জেলার ঝুঁকিপূর্ণ ২০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রক্ষায় তারা কাজ করছে। বাগেরহাটের নদ-নদীর পানি স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৬ থেকে সাত ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি বৃদ্ধির কারণে বাগেরহাটের বিভিন্ন এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

এদিকে সিপিপি’র মোংলা উপজেলার টিম লিডার মাহমুদ হাসান বলেন, বিপত সংকেত ৭ জারির পর উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় তারা দুইটি সিগনাল পতাকা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। ঝড় মোকাবেলা ও করণীয় দায়িত্ব পালনে মোংলা ১৩২০ জন স্বেচ্ছাসেবক মাঠে কাজ শুরু করেছেন।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান জানান, ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং মোকাবেলায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। জেলার ৯টি উপজেলায় ৩৪৪টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে শুকনা খাবার। রেডক্রিসেন্ট, সিপিপিসহ ৫ হাজারের অধিক স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রয়েছে।মোংলা বন্দর, মোংলা নৌঘাটি, কোস্টগার্ড, সুন্দরবন বিভাগ, ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়নে কন্ট্রোল রুম খুলে প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৭৬টি মেডিকেল টিম। লোকজনকে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন শাহীন মজিদ জানান, সোমবার সকালে মোংলা বন্দরে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অফিস। এই অবস্থায় মোংলা বন্দরে এলার্ড থ্রি জারি করে পণ্য ওঠানামার কাজ সম্পূর্ন বন্ধ করা হয়েছে।

বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসোন জানান, ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং ধেয়ে আশায় সোমবার সকালের মধ্যেই ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সাইড সুন্দরবনের দেশি-বিদেশি সব পর্যটকদের নিরাপদে লোকালয়ে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে সুন্দরবনের কর্মকর্তা-বনরক্ষীদের ছুটি। জারি করা হয়েছে সর্বোচ্চ সর্তকতা। দুর্বল অবকাঠামো থাকায় সুন্দরবনের ৩টি বন অফিস বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

মোংলা আবহাওয়া অফিসের প্রধান অমরেশ চন্দ্র ঢালী জানান, শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে। এখন সাত নম্বর বিপদ সংকেত জারি করা হয়েছে। পরিস্তিতি বুঝে মহাবিপদ সংকেত জারি করা হতে পারে। আগামীকাল মঙ্গলবার (২৫ অক্টেবার) ভোরের দিকে সিত্রাং বাংলাদেশ অতিক্রম করবে। ওই সময়ে ৭ থেকে ৮ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের সম্ভাবনা রয়েছে।

সূত্র বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন

Spread the love
Facebook Comments

সাম্প্রতিক খবর

Contact Us