শিরোনাম

বাঘারপাড়ার একমাত্র একসময়ের ঐতিহ্যবাহী খানপুর গ্রামের শিব মন্দিরটি আজ নিশ্চিহ্ন হতে বসেছে

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : বুধবার, এপ্রিল ১৪, ২০২১ ৮:৫৩:০৫ অপরাহ্ণ
বাঘারপাড়ার একমাত্র একসময়ের ঐতিহ্যবাহী খানপুর গ্রামের শিব মন্দিরটি আজ নিশ্চিহ্ন হতে বসেছে
বাঘারপাড়ার একমাত্র একসময়ের ঐতিহ্যবাহী খানপুর গ্রামের শিব মন্দিরটি আজ নিশ্চিহ্ন হতে বসেছে

মুন্সী হাবিবুল্লাহঃ যশোরের বাঘারপাড়ার খানপুর গ্রামে অবস্থিত উপজেলার একমাত্র একসময়ের ঐতিহ্যবাহী শিব মন্দিরটি অযত্ন অবহেলায় আজ নিশ্চিহ্ন হতে বসেছে।প্রায় পাঁচশত বছর পুর্বে খাজুরার জমিদার বোস বাবুদের আমলে এই শিব মন্দিরের পুজাঅর্চনা,রক্ষনাবেক্ষন,ভক্তসেবা ও বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি পরিচালনার জন্য জমিদারেরা ফরিদপুর কোটালিপাড়া থেকে একজন পুজারীকে নিয়ে এসে তাকে দায়িত্ব বুঝে দেন।

ঐসময় এই শিব মন্দিরের আওতায় প্রায় ৮ একর দেবোত্তর সম্পত্তিও রেখে যান। কালক্রমে ঐ পুজারীর মৃত্যুর পর তার পুত্র হেমন্ত ভট্টাচার্য্য পুরোহিত হিসাবে দায়িত্ব পালন করতেন।সেইআমলে এখানে বছরের বিভিন্ন পর্বে ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি, চৈত্রসংক্রান্তিতে শিবপুজা ও জমজমাট গ্রামীনমেলা ও গানের আসর বসতো।প্রায় ৭০ বছর পুর্বে হেমন্ত ভট্টাচার্য্যরে মৃত্যুর পর তার ৪ পুত্র বাবুলাল ভট্টাচার্য্য,হরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য্য,বদ্দিনাথ ভট্টাচার্য্য ও আদ্যনাথ ভট্টাচার্য্য দায়িত্বে থাকেন।

৪৭এর আগে ব্রিটিশ আমলে বাবুলাল ভট্টাচার্য্য নড়াইল জমিদারের কাছারীর দায়িত্বে থাকাকালীন তিনি ভারতে চলে যান। দেশ স্বাধীনের পর পর্যায়ক্রমে বদ্দিনাথ ভট্টাচার্য্য ও আদ্যনাথ ভট্টাচার্য্য তাদের পরিবারের সবাইকে নিয়ে কলিকাতা চলে যান।

ঐসময় মন্দিরের কোষ্টি পাথরের শিবলিঙ্গটি চুরি হয়ে যায়।পরবর্তীতে একটি পাথরের শিবলিঙ্গ বসানো হয়েছিল।এদেশেই দেহ রেখেছেন হেমন্ত ভট্টাচার্য্যরে মেঝে ছেলে হরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য্য।তবে তার বড় ছেলে দুলাল ভট্টাচার্য্য ভারতে গেলেও ছোট ছেলে গোপাল ভট্টাচার্য্য এদেশেই বড় পদে(সচিব/পাটও বস্ত্র মন্ত্রনালয়)চাকরি করেন এবং মাগুরাতে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন।

উপরোক্ত এসব কথাগুলো বললেন খানপুর গ্রামের আশির উর্ধে বয়স মৃত সিতানাথ পালের ছেলে নরেন্দ্রনাথ পাল(৮২)। তিনি আরো বলেন“বিভিন্ন জরিপের সময়ে ঐসব দেবোত্তর সম্পত্তি তারা নিজ নামে রেকর্ড করে নিয়ে ধীরে ধীরে বিক্রি করে ফেলেন। বাড়িতে কিছু জায়গাজমি হরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য্যরে তথা তার ছেলে গোপাল ভট্টাচার্য্যরে আছে বলে জানি।

তবে শিব মন্দিরের আওতায় ৬ শতক জমি আছে বলে শুনেছি”। যশোর –মাগুরা মহাসড়কের পুর্বদিকে গাইদঘাট-নারিকেলবাড়ীয়া এবং সীমাখালী- নারিকেলবাড়ীয়া সড়কের পার্শ্বে খানপুর বাজারের পশ্চিমপাশ লাগোয়া এই শিব মন্দিরের অবস্থান। মোগল সম্রাট শেরশাহের আমলে অথবা তারও পুর্বে প্রাচীন রাজা বাদশাহের আমলে এই শিব মন্দিরটি নির্মিত হয়েছিল বলে অনেকের ধারনা।

প্রাচীন আমল থেকে এই শিব মন্দিরে পুজা অর্চনা হয়ে আসলেও বর্তমানে সেটি একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে। ভগ্ন মন্দিরের ভিতর এখন হাজারো চামচিকা বসতি গেড়েছে। আর মন্দিরের জায়গায় এখন ময়লা ফেলার আস্তানাও প্রসাববখানায় পরিনত হয়েছে।

মন্দিরের সীমানা প্রাচীরটি ঠিক করে মন্দিরটি যদি পুর্নাঙ্গ সংস্কার করা হয় তাহলে প্রাচীন আমলের ঐতিহাসিক পুরাকৃত্বির নির্দশনের বিষয়টিও রক্ষনাবেক্ষন ও সংরক্ষিত হবে। স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মহিলারা মাঝে মধ্যে এখানে পুজা দিতে আসতো।

নোঙরা ও দুর্গন্ধের কারনে তাও বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয় লোকজন কয়েক বছর আগে পার্শ¦বর্তী বাসিন্দা রবিন অধিকারীকে সভাপতি ও অশোক কুমার রজককে সাধারন সম্পাদক করে একটি কমিটি গঠন করেছিল্। কিন্তু সে উদ্যোগেও কোন সুফল বয়ে আসেনি।।

ঐ কমিটির সাধারন সম্পাদক অশোক কুমার রজক জানান- “সে সময় কিছু চাল বরাদ্ধ পাওয়ার পর তা বিক্রি করে যে টাকা পাওয়া যায় তা দিয়ে উল্লেখযোগ্য কোন কাজ করা সম্ভব নয় বলে আমার কাছেই তা গচ্ছিত রয়েছে”। গ্রামের অধিকাংশ হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন অনুযোগের সুরে জানান –“

ঐ জায়গার মালিক গোপাল ভট্টাচার্য্য যদি গ্রামে এসে সকলকে নিয়ে একটা উদ্যোগ নিতেন তাহলেই মন্দিরে আবার সেকালেরমত পুজার ঘন্টা বাজতো।”

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Facebook Comments

সাম্প্রতিক খবর

Contact Us