শিরোনাম

বানারীপাড়ায় দুই বীর মুক্তিযোদ্ধার লড়াই…আনারসের ভারে দুলছে নৌকা

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : সোমবার, নভেম্বর ৮, ২০২১ ৯:০৫:০৬ অপরাহ্ণ
বানারীপাড়ায় দুই বীর মুক্তিযোদ্ধার লড়াই...আনারসের ভারে দুলছে নৌকা
বানারীপাড়ায় দুই বীর মুক্তিযোদ্ধার লড়াই…আনারসের ভারে দুলছে নৌকা

রাহাদ সুমন, বিশেষ প্রতিনিধি: আ.রাজ্জাক মাষ্টার ও আনোয়ার হোসেন মৃধা দু’জন ৭১’র রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা।

এর মধ্যে আ. রাজ্জাক মাষ্টার যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা । মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বহস্তে লেখা প্রশংসাপত্র ও ৫০০ টাকা পুরস্কারও পেয়েছিলেন।

১৯৭১ সালে একটি লাল-সবুজ পতাকা ও স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ পেতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিরবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে তারা দুজনই মৃত্যুকে পায়ের ভৃত্য মনে করে সন্মুখ সমরে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন।

সেই সময় দেশমাতৃকাকে রক্ষায় শত্রু পাক সেনাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধে তারা মরণপণ যুদ্ধে অবর্তীণ হয়েছিলেন । যুদ্ধে দু’জনই জয়লাভ করেছিলেন।  স্বাধীনতার ৫০ বছর পরে সূবর্ণজয়ন্ততীতে তারা আবারও যুদ্ধে অবর্তীণ হয়েছেন। তবে তাদের এ যুদ্ধ পাকসেনাদের বিরুদ্ধে নয় একে অপরের বিরুদ্ধে তারা ভোট যুদ্ধে লড়ছেন।

৭১’র যুদ্ধে তারা দু’জন জয়লাভ করলেও ভোটের এ যুদ্ধে একজনকে পরাজয় বরণ করতেই হবে। আগামী ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার সৈয়দকাঠি ইউপি নির্বাচনে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান আ.রাজ্জাক মাষ্টার ও আনোয়ার হোসেন মৃধা ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে লড়ছেন। সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে  আ. রাজ্জাক মাষ্টারসহ মনোনয়ন প্রত্যাশী ১১ জন আওয়ামী লীগ নেতাকে ধরাশয়ী করে বিএনপি থেকে এসে আনোয়ার হোসেন মৃধা নৌকা প্রতিক ভাগিয়ে নিয়ে চমক সৃষ্টি করেন।

অপরদিকে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে তৃনমূল আওয়ামী লীগ,মুক্তিযোদ্ধা ও সর্বস্তরের জনতার দাবির প্রেক্ষিতে আ.রাজ্জাক মাষ্টার স্বতন্ত্র ব্যানারে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। সৈয়দকাঠি ইউপির বর্তমান জনপ্রিয় চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আ. মন্নান মৃধা বিদ্রোহী প্রার্থী আ.রাজ্জাক মাষ্টারের পক্ষে মাঠে নেমেছেন।

এছাড়া  উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য তারিকুল ইসলাম তারেক প্রথমে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে পরে তা প্রত্যাহার করে এবং অপর বিদ্রোহী প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য মটরসাইকেল প্রতিকের আ. রহিম খান মুক্তিযোদ্ধা রাজ্জাক মাষ্টারের পক্ষ নিয়েছেন।

বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান ও দু’বিদ্রোহী প্রার্থীসহ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের বিশাল একটি অংশ আনারস প্রতিকের প্রার্থী আ.রাজ্জাক মাষ্টারের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় এখানকার ভোটের রাজনীতিতে নয়া মেরুকরনের সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে , প্রচার-প্রচারণার শেষ মুহুর্তে বিএনপি অধ্যুষিত এ ইউনিয়নে নানা মেরুকরণে ভোটের হিসেবে বিদ্রোহী প্রার্থীর পাল্লাটা ভারী হয়ে উঠছে। ফলে বিদ্রোহী প্রার্থীর আনারসের ভারে নৌকা দুলছে। এদিকে নৌকা প্রতিকের প্রার্থী আনোয়ার হোসেন মৃধা এ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান।

এলাকার উন্নয়নে তার বিশেষ ভূমিকা থাকলেও জাপা ছেড়ে বিএনপি আবার বিএনপি ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করায় ক্ষমতার স্বাদ নিতে তার সবসময় সরকার দলে থাকার বিষয়টি নেতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

তার নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত করতে বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস,কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা আনিসুর রহমান,জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক ও বানারীপাড়া পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট সুভাষ চন্দ্র শীল,উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম সালেহ মঞ্জু মোল্লা,সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাওলাদ হোসেন সানাসহ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের একাংশ উঠান বৈঠক ও গণসংযোগসহ প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন।

এদিকে বাঘে-সিংহের লড়াইয়ে অবর্তীণ হওয়া আওয়ামী লীগ প্রার্থী আনোয়ার হোসেন মৃধা ও বিদ্রোহী প্রার্থী আ.রাজ্জাক মাষ্টারের ব্যাপক প্রচার-প্রচারণায় নির্বাচনী মাঠ সরগরম থাকলেও অপর প্রার্থী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পাখা প্রতিকের  মাওলানা মো. কবির হোসেন খানের ছিটেফোটা পোষ্টার ছাড়া কোন তৎপরতা পরিলক্ষিত হচ্ছেনা।

অপরদিকে ৩টি সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ১৪জন ও ৯ টি ওয়ার্ডে   সাধারণ সদস্য পদে ৩৯জন প্রার্থী রাত-দিন একাকার করে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ইউনিয়নে নির্বাচন নিয়ে উৎসাহ,উদ্দীপনা ও উত্তেজনা থাকলেও এখন পর্যন্ত কোন অপ্রীতিকর ঘটনার অবতারনা হয়নি। তবে অবাধ,নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু ভোট নিয়ে জনমনে শঙ্কা রয়েছে।

ভোটারদের সবার একটাই প্রশ্ন ভোট ফ্রি-ফেয়ার হবে তো। এ প্রসঙ্গে উপজেলা  রির্টানিং ও নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, উৎসবমূখর, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণের জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে বানারীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, সৈয়দকাঠির ইউপি নির্বাচনে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখতে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

প্রসঙ্গত উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বৃহৎ এ ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা  ২০ হাজার ২৯৩ জন । এর মধ্যে নারী ৯ হাজার ৮৬৬জন ও পুরুষ ভোটার ১০ হাজার ৪২৭জন। আগামী ১১ নভেম্বর এখানে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। উল্লেখ্য গত ২১ জুন বানারীপাড়ার অপর ৭ ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ###

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Facebook Comments

সাম্প্রতিক খবর

Contact Us