শিরোনাম

বাবা ও সৎ মা হত্যার পর গরম পানি ঢেলে দিয়েছিল

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : বুধবার, সেপ্টেম্বর ৯, ২০২০ ২:৫৯:২৪ পূর্বাহ্ণ
বাবা ও সৎ মা হত্যার পর গরম পানি ঢেলে দিয়েছিল
বাবা ও সৎ মা হত্যার পর গরম পানি ঢেলে দিয়েছিল

তিন মাসের মাথায় ট্রাংক ভর্তি সেই অর্ধগলিত শিশুর লাশটির রহস্য উম্মোচন করলো পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন অব বাংলাদেশ-পিবিআই। সৎ মা ও বাবা মিলে শিশুটিকে হত্যা করে শরীর বিকৃত করার জন্য লাশে গরম পানি দিয়ে ট্রাংকে রেখে সিংগহাড়া নদীর তীরে ফেলে এসেছিল। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় বাবা ও সৎ মাসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানিয়েছেন পিবিআই।

পিবিআই পুলিশ সুপার জানান, গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছেন জিহাদকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার জন্য গরম পানি নিক্ষেপ করে তার শরীর বিকৃত করা হয়। গত ১৫ জুলাই সকাল বেলা হত্যার ঘটনা গোপন করতে তার বাসায় ব্যবহৃত একটি স্টিলের ট্র্যাংকে বাবা জিয়াউর রহমান, সৎ মা আলেয়া মনি ও শ্বশুর আইয়ুব আলী বেডশীট ও কাঁথায় শিশু জিহাদের লাশ পেঁচিয়ে ট্রাংকের ভিতরে ঢুকায়। আইয়ুব আলী পার্শ্ববর্তী মীম ভ্যারাইটিজ স্টোর হতে দুটি চাইনিজ তালা কিনে এনে ট্রাংকটি তালাবদ্ধ করে। এরপর জিয়াউর রহমান লাশ ভর্তি ট্রাংকটি অপসারণের জন্য বিরল হাসপাতালের গেটের সামনে হতে একটি নীল রঙের ছোট পিক আপ ভ্যান ১৩ হাজার টাকায় ভাড়া করে। এবং ওই রাতেই নীলফামারীর ডিমলার রামডাঙ্গা ফরেস্ট ও সিংগাহাড়া নদীর তীরে রেখে আসে।

এই পুলিশ কর্মকর্তা আরো জানান, বনিবনা না হওয়ায় সৎ মা আলেয়া মনি ও তার বাবা জিয়াউর রহমান গত ১৪ জুলাই রাতের ঘুমন্ত শিশু জিহাদকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।

মামলাটি পিবিআই রংপুর জেলায় কর্মরত এসআই মোঃ ইকরামুল হক তদন্ত করছেন। তাকে পিবিআই এর একটি স্পেশাল টিম সহায়তা করছেন। মামলার তদন্ত অব্যহত আছে। ১৬ জুলাই নীলফামারীর ডিমলার রামডাঙ্গা ফরেস্ট ও সিংগাহাড়া নদীর তীর থেকে স্থানীয়ভাবে খবর পেয়ে ট্র্যাংক ভর্তি লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশ ডিমলা থানায় অজ্ঞাতনামাদের নামে একটি মামলা করে। সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে পুলিশ ও পৌরসভার ব্যবস্থাপনায় অজ্ঞাত লাশ হিসাবে পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়। বিষয়টি স্পর্শকাতর, নৃশংসতম এবং ক্লু-লেস ঘটনা হওয়ায় পরবর্তীতে স্ব-উদ্যোগে পিবিআই রংপুর গত ২০ জুলাই তদন্ত ভার গ্রহণ করেন।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Facebook Comments

সাম্প্রতিক খবর