শিরোনাম

বিএনপি-জামায়াতী সন্ত্রাস

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৯, ২০২০ ১১:৪৮:২৬ পূর্বাহ্ণ
বিএনপি-জামায়াতী সন্ত্রাস
বিএনপি-জামায়াতী সন্ত্রাস
  • দুই হাজার ফৌজদারি মামলায় এক লাখ আসামি
  • ২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচনে ঘটেছে এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড
  • কোন আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নজির নেই
  • সন্ত্রাসের হোতা, ইন্ধনদাতারাও ধরাছোঁয়ার বাইরে

শংকর কুমার দে ॥ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদেশে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসের ২ হাজার ফৌজদারি মামলায় প্রায় এক লাখ আসামির অধিকাংশই গ্রেফতার হয়নি। অনেকে জামিন নিয়ে পলাতক রয়েছে। পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি আছে। আদালত থেকে জামিন না নিয়ে পলাতক আছে, এমন আসামিও রয়েছে পলাতক থাকার তালিকায়। ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত নির্বাচনের আগে ও পরে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে এইসব মামলা হয়। পেট্রোলবোমা, অগ্নিসংযোগ, নাশকতা, ভাংচুর, পুলিশের উপর হামলা, খুনের আসামি তারা। ওই সময়ে তাদের সন্ত্রাসের শিকার হয়ে নিহত হয়েছেন দুই শতাধিক মানুষ। আহত হয়েছেন ৫ হাজারের জনের বেশি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুলিশের দায়ের করা ২ হাজার ফৌজদারি মামলার মধ্যে প্রায় অর্ধেক মামলার তদন্তই শেষ হয়নি। দীর্ঘ প্রায় ৬ থেকে ৭ বছরের মধ্যে একজন আসামিরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়ার নজির নেই। ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে রক্তক্ষয়ী সহিংস সন্ত্রাসের হোতা ইন্ধনদাতারা। এরই মধ্যে আবার নতুন করে খোদ রাজধানী ঢাকায় দিনে-দুপুরে জনাকীর্ণ সড়কে আবারও আগুন সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটেছে এবং এসব ঘটনায় অন্তত ৫ শতাধিককে আসামি করে মামলা দায়ের করে তদন্ত করছে পুলিশ।

ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচনের দিনে রাজধানী ঢাকায় দশ বাসে অগ্নিসংযোগের মোট ১৪টি মামলায় ৩২ জনকে গ্রেফতার করে আদালতের আদেশে ২৮ জনকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত করার ঘটনায় দীর্ঘ ৬ বছর আগের মামলাগুলোর তদন্তের চালচিত্রের অবস্থা সামনে এসেছে। ২০১৩ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্ব এবং ২০১৫ সালে নির্বাচনের পরও রক্তক্ষয়ী সহিংস আগুনসন্ত্রাসের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার মধ্যে পেট্রোলবোমা হামলা, অগ্নিসংযোগ, নাশকতাসহ সহিংসতার ঘটনায় প্রায় ১ হাজার মামলার চার্জশীট দেয়া হয়েছে। ছয় থেকে সাত বছর আগে ২০১৩ সালের এবং ২০১৫ সালের বিএনপি-জামায়াত জোটের ডাকা সারাদেশের টানা হরতাল-অবরোধের নামে পেট্রোলবোমার সহিংসতা ও সংঘটিত নাশকতা মামলাগুলোর তদন্ত ও আসামি গ্রেফতারের ঘটনা চলছে অত্যন্ত শম্ভুক গতিতে। বিএনপি-জামায়াত জোটের ডাকা পেট্রোলবোমা ও নাশকতার ঘটনায় দেশব্যাপী মামলা দায়ের করা হয় দুই সহস্রাধিক মামলা। এর মধ্যে অর্ধেক মামলার তদন্তই শেষ করা যায়নি। ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে এসব মামলার ঘটনার মদদদাতা হোতারা।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালে জাতীয় নির্বাচনের আগে-পরে যেভাবে বাসে আগুন দিয়ে নাশকতা সৃষ্টি করা হয়েছিল, ঠিক সেই একই কায়দায় ঢাকা-১৮ আসনের জাতীয় সংসদ উপনির্বাচনে রাজধানীতে বাসে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। বাসে আগুন দেয়ার জন্য দুর্বৃত্তরা গানপাউডার ব্যবহার করেছে। ‘আগুন জ্বালাও’, ‘জ্বালাও পোড়াও’ সেøাগানে বাস পোড়ার দৃশ্যে অগ্নিবোমায় ফের মৃত্যু আতঙ্কের পুনরাবৃত্তির ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে। ২০১৫ সালে টানা ৯২ দিনের নজিরবিহীন অগ্নিসন্ত্রাস, পেট্রোলবোমা, গানপাউডার সহিংস আন্দোলনের নামে সহিংসতার পর গত সাড়ে পাঁচ বছর রাজপথে আন্দোলন করেনি বিএনপি। ২০১৮ সালে খালেদা জিয়া কারাবন্দী হলেও মাঠে নামেননি দলটির নেতাকর্মী, সমর্থকরা অথচ সেই নেতাকর্মীরাই ঢাকা-১৮ আসনের উপ-নির্বাচনে ‘ব্যাপক কারচুপির’ অভিযোগ তুলে রাজধানীজুড়ে বিক্ষোভ করেছে! বিক্ষোভ চলাকালে রাজধানীর দশটি স্থানে একযোগে গণপরিবহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

পুলিশ সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ছয় বছর আগে বিএনপি-জামায়াতের ডাকে হরতালের নামে সহিংস সন্ত্রাস চালানোর অভিযোগে এসব মামলা করেছে পুলিশ। সারাদেশে এসব মামলায় আসামির সংখ্যা ১ লাখের বেশি। এসব পলাতক আসামির অনেকের বিরুদ্ধেই ওয়ারেন্ট জারি করা আছে অথচ গ্রেফতারের জন্য ওয়ারেন্ট তামিলও হচ্ছে না। সহিংস সন্ত্রাস, পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ, অগ্নিসংযোগ, নাশকতার মতো অভিযোগের মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছে সারাদেশের বিভিন্ন থানায়। এসব সহিংস সন্ত্রাসের নিহত হয়েছেন ২ শতাধিক ও আহত হয়েছেন ৫ হাজারের বেশিসংখ্যক নিরীহ নিরপরাধ মানুষজন। সারাদেশে যে ২ হাজার মামলা দায়ের করা হয়েছে এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার মামলার তদন্ত শেষে চার্জশীট দেয়া হলেও বিচারে শাস্তি কার্যকর করা সম্ভবপর হয়নি। অপর ১ হাজার ফৌজদারি মামলার তদন্তই শেষ হয়নি। এমনকি এসব মামলার কয়েক হাজার আসামি রয়ে গেছে অধরা।

পুলিশ সদর দফতর সূত্র জানা গেছে, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নাশকতার ঘটনাগুলোর মামলার তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে ২০১৩ সালের শেষভাগে বিএনপি নেতৃত্বাধীন হরতাল-অবরোধে নাশকতায় বহু মানুষ হতাহত হয়েছিল। নির্বাচন-পূর্ব পেট্রোলবোমার সহিংসতায় ২৫ দিনে পেট্রোলবোমা ও অগ্নিসংযোগে ১৩৩ মানুষ দগ্ধ হয়েছেন, নিহত হয়েছেন ২৬ জন। এ ছাড়া বিভিন্ন সহিংসতায় ৩৮২টি বাস-ট্রাকে আগুন, রেলে নাশকতামূলক ১৪টি ঘটনায় দুটি ট্রেন লাইনচ্যুত এবং তিনটি ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আহত এবং পুলিশের ওপর ৮৫টি আক্রমণের ঘটনা ঘটে বলে পুলিশের পরিসংখ্যানে উল্লেখ আছে।

পুলিশ সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রতিহত করতে বিএনপি ও জামায়াতসহ ২০ দলীয় জোটের টানা ৯৩ দিনের অবরোধে সারাদেশে ব্যাপক নাশকতা চালানো হয়। সারাদেশে পেট্রোলবোমা, ককটেল বিস্ফোরণ, বাসে আগুন ও পিটিয়ে মানুষ হত্যা করা হয়। তখন সারাদেশে নারী ও শিশুসহ অন্তত ৯৫ জনের মৃত্যু হয়। অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিহত হন ৬৪ জন। দগ্ধ ও আহত হয়েছেন আরও এক হাজার ৪১৩ জন। আহতদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পেট্রোলবোমার দগ্ধমুখ নিয়ে বন্দী জীবনযাপন করছেন তারা। মুখের আকৃতি পরিবর্তন হওয়ায় নিজের সন্তানও কাছে আসে না। এমন অসহনীয় জীবন তারা চান না। ক্ষমতার জন্য যারা মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করে তাদের ধিক্কার জানিয়ে এমন রাজনীতি পরিহার করারও অনুরোধ করেছে তাদের অনেকে। বিএনপি-জামায়াতের অবরোধের সময় নাশকতায় দায়েরকৃত অধিকাংশ মামলার তদন্ত চলেছে ধীরগতিতে।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত সারাদেশে নাশকতার অভিযোগে ১ হাজার ৭৭৫টি মামলা দায়ের করা হয়। আসামির তালিকায় রয়েছেন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতাসহ মাঠপর্যায়ের কয়েক হাজার কর্মী। এর মধ্যে যানবাহনে পেট্রোলবোমা ছুড়ে মানুষ হত্যার অন্তত চারটি ঘটনায় বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করে মামলা হয়েছে। এর মধ্যে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের জগমোহনপুর এলাকায় গভীর রাতে কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা আইকন পরিবহনের একটি বাসে পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করলে আট যাত্রী নিহত হন। চৌদ্দগ্রাম থানার পুলিশের এক এসআই বাদী হয়ে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে মামলা দুইটি দায়ের করেন। মামলায় ৫৬ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত ২০ জনের কথা বলা হয়। একটি মামলায় উস্কানিদাতা হিসেবে আসামি করা হয় বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে। এসব মামলায় যারা গ্রেফতার হয়েছেন তাদের অনেকে এখন জামিনে রয়েছেন। গাইবান্ধার তুলসীঘাট এলাকায় নাপু পরিবহন নামে একটি বাসে পেট্রোলবোমা হামলায় আট যাত্রী নিহত হন। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। এ মামলা হয় স্থানীয় থানায়। মামলার প্রধান আসামি মোস্তফা মঞ্জিল গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে গ্লোরি পরিবহনে পেট্রোলবোমা ছুড়ে মারে দুর্বৃত্তরা। এ সময় বাসের ভেতর ২৯ জন যাত্রী দগ্ধ হন, মারা যান একজন। এ ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় এক এসআই বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটি যাত্রাবাড়ী থানা থেকে ডিবিতে স্থানান্তর হয়। এই মামলায় খালেদা জিয়াসহ বিএনপির আরও ৩৮ নেতাকর্মীকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে। তবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এলাকায় দায়ের করা ৪৫৭টি নাশকতা মামলার মধ্যে তিন শতাধিক মামলার অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

পুলিশ সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, ছয় থেকে সাত বছর আগের দায়ের করা মামলাগুলোর ঘটনায় যারা হোতা তাদের এখনও বিচার হয়নি। এমনকি হোতাদের অনেকেই এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। নাশকতা ও পেট্রোলবোমার মামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার এবং তদন্তে অবহেলার কারণেই তদন্ত শেষ করে চার্জশীট দাখিল হচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে তখনকার ঘটনার মামলাগুলোর তদন্ত দ্রুত শেষ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ সদর দফতর। দেরিতে হলেও অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে পেট্রোলবোমার মামলাগুলোর তদন্ত শেষ করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পেট্রোলবোমার সঙ্গে অগ্নিসংযোগ ও নাশকতাসহ অন্যান্য ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলোর তদন্ত সম্পন্নসহ আসামিদের গ্রেফতারের বিষয়টি অগ্রাধিকার দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। রাজনৈতিক উদেশ্যে হরতাল ডেকে পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ, অগ্নিসংযোগ, বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো ও নাশকতা চালায় বিএনপি-জামায়াত জোট। এসব ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলো গত দুই বছরেও তদন্ত শেষ না হওয়া এবং আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাওয়ার ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ সদর দফতর সূত্র জানান, ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে টানা অবরোধ ও হরতালে অগ্নিসংযোগ, নাশকতা ছাড়াও শুধু পেট্রোলবোমা হামলাসংক্রান্ত মামলা হয়েছে ৫শটির মতো। এর মধ্যে চার্জশীট দেয়া হয়েছে মাত্র অর্ধশতটি। দেশব্যাপী ওই সময়ে সব ধরনের নাশকতার ঘটনায় ১ হাজার ৭১৭টি মামলা দায়ের হয়েছে। এসব মামলার মধ্যে মাত্র ৫২টি মামলার তদন্ত শেষে চার্জশীট দিয়েছে পুলিশ। ওই বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত তিন মাসের দায়েরকৃত মামলায় প্রায় ১৬ হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে দুই সহস্র্রাধিক ব্যক্তির নাম উল্লেখ আছে এজাহারে। এই সময়ের মধ্যে রেলপথে ৩৫ ও নৌপথে ছয়টি নাশকতার ঘটনা ঘটেছে। আর সারাদেশে দুই হাজার ২৮৬ ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের সদর দফতরের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত তিন মাসের নাশকতায় বোমা হামলায় মারা গেছেন ৫২ জন। অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন ২৮১ জন। ককটেল ও অন্যান্য কারণে আহত হয়েছেন ৫৪৯ জন। অন্যান্যভাবে নিহত ২১ জন। তবে বিভিন্ন সূত্রের খবরে নিশ্চিত হওয়া গেছে, তিন মাসে ১৩৮ জন মারা গেছেন, যাদের ৭৭ জনই পেট্রোলবোমার আগুনে নিহত। আহত হয়েছেন অন্তত ৮৩০ জন। পেট্রোলবোমায় যারা নিহত ও আহত হয়েছেন তাদের প্রায় সবাই দিনমজুর, পরিবহন শ্রমিক ও বাসের যাত্রী। মাগুরার মঘিরঢাল এলাকায় বালুবাহী ট্রাকে পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করলে সাতজন মারা যান। এই ঘটনায় জামায়াতের এক নেতা ছাড়া কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

পুলিশ সদর দফতরের একজন কর্মকর্তা বলেন, করোন্ভাাইরাসের কারণে বিএনপি-জামায়াতের ডাকা ছয় বছর আগের হরতালের নামে পেট্রোলবোমার সহিংসতা ও নাশকতার মামলাগুলোর তদন্ত ও বিচারকার্য বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। যেসব মামলার তদন্ত এখনও শেষ হয়নি সেগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এসব মামলায় যারা আসামি আছেন তাদেরও গ্রেফতার করে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে। হরতালের নামে রাজনৈতিক কর্মসূচী দিয়ে দেশব্যাপী পেট্রোলবোমার সহিংসতা ও নাশকতার ঘটনাগুলোর তদন্ত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যেসব মামলার চার্জশীট দেয়া হয়েছে তা আদালতের বিচারকার্যের সর্বশেষ অবস্থা কী তার খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। পলাতক, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামীদের গ্রেফতার ও বিচার না হওয়ার কারণে আবারও এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে বলে পুলিশ কর্মকর্তার দাবি।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Facebook Comments

সাম্প্রতিক খবর