শিরোনাম

বীর নিবাস’পেতে স্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধার টিনসেড বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২২ ৭:৩০:১৩ অপরাহ্ণ
বীর নিবাস'পেতে স্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধার টিনসেড বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ
বীর নিবাস’পেতে স্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধার টিনসেড বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ
মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিনিধি
 অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নির্মিত ‘বীরনিবাস’ পেতে স্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধার কোটি টাকার বাড়ি রেখে পরিত্যক্ত জমিতে টিনের অস্হায়ী ঘর নির্মাণ করেছেন।  অভিযুক্ত  মুক্তিযোদ্ধার নাম আবু-তালিব (৭২)। এছাড়াও তার দুই ছেলে সরকারি চাকরীতে কর্মরত আছেন।
রংপুরের মিঠাপুকুর  উপজেলার রানীপুকুর ইউনিয়নের নূরপূর গ্রামে এমন ঘটনা ঘটেছে।জানা যায়-“মুজিব শতবর্ষ “উপলক্ষে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ১৪০০০ মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য গৃহ নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। জাতীর পিতা ‘বঙ্গবন্ধু’ শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে মুজিববর্ষ উদযাপনের আওতায় এ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়।
প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা। এর আওতায়  ১ তলা বিশিষ্ট ৯০০ বর্গফুট আয়তনের প্রতি ঘরের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পের নীতিগত নকশার অনুমোদন দেওয়ার পরপরই কার্যক্রম শুরু করে।
প্রকল্পের আওতায় মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য যে বাড়ি নির্মাণ করা হয়,তার নামকরণ করা হয় বীর নিবাস। ১ তলা বিশিষ্ট বাড়িতে থাকবে তিন বেডরুম,ড্রইং-ডায়নিং এবং ৪ ডেসিমেল জমিতে বাড়িটি হবে  ৯০০ বর্গফুট আয়তনের। সে উপলক্ষে জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের আবেদন সংগ্রহ এবং তাদের সম্মতিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের তথ্য সংগ্রহের চিঠি পাঠানো হয়।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম-মোজাম্মেল হক জানিয়েছিলেন-অনেক মুক্তিযোদ্ধা নিজের বসত ভিটা ছেড়ে যেতে চাননি বলে যেসব ফ্ল্যাট নির্মান করে দেওয়া হয়েছিলো সেগুলোর অধিকাংশ ভাড়া কিংবা বিক্রি করেছেন। সেজন্য এবার মুক্তি যোদ্ধাদের নিজ বসত ভিটাতেই বীর নিবাস নির্মাণ করা হবে। এর জন্য গত ফেব্রুয়ারি মাসে মন্ত্রনালয় থেকে নির্দেশিকা ও নীতিমালা গ্রহন করা হয়। উল্লেখ্য করা হয়,বার্ষিক আয় মাসিক সম্মানী ব্যতীত  ৬০ হাজারের নিচে,নিজের বাড়িঘর নেই,অসহায়,দিনমজুর এমন নির্দেশ করবে।
মিঠাপুকুরে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা না হওয়ার পরেও অনেকে বীরনিবাসের জন্য আবেদন করেছেন বলে জানা যায়। নাম-প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান জানান, মুক্তিযোদ্ধা আবু-তালিবের বড় ছেলে ফারুক আহম্মেদ পুলিশ এবং ছোট ছেলে ফেরদৌস সরকারি খাদ্য গুদাম পীরগাছা উপজেলায় কর্মরত।গ্রামেই তাদের একটি বিশাল বাড়ি রয়েছে। যে বাড়িটি রয়েছে সেটাতেই থাকার লোক নেই।জায়গা জমিও রয়েছে কয়েক একর। তারপরেও আবু তালিব একটি পরিত্যক্ত জমিতে টিনসেডের অস্হায়ী ঘর দেখিয়ে আবেদন করেছেন।
 এ বিষয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তার পূর্বের বাড়ীতে প্রাচীরের কাজ চলছে। আর নতুন করে বীর-নিবাস পাওয়ার জন্য একটি টিনসেডের অস্হায়ী বাড়ি নির্মাণ করেছেন। এলাকাবাসী জানান, টিনসেডের বাড়িতে কেউ থাকেনা। পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা আবু-তালিবসহ তার ছেলেদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান,সবাই  বীর নিবাস পাবে। ইতিমধ্যে অনেকের ভালো অবস্থা থাকার পরও বীর নিবাস “নির্মাণের” কাজ চলছে। আমার বাবার বাড়ি হলেও,আমাদের দু-ভাই পাকা বাড়িতে থাকি। বাবার নামে কোন বাড়ি নেই।
এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের তত্ত্বাবধায়ক সজিব জানান, বিষয়টি তারা অবগত রয়েছেন। কোন ভাবেই স্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধারা ঘর পাবেনা বলে জানান ।
 মিঠাপুকুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদ হাসান মৃধা  জানান, নিখুঁত ভাবে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে। কোন অবস্থাতেই স্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধারা ঘর পাবেনা।
Spread the love
Facebook Comments

সাম্প্রতিক খবর

Contact Us