শিরোনাম

বুশরাকে পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৭, ২০২২ ৩:৫৫:৩৯ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী ফারদিন নূর পরশ হত্যা মামলার আসামি আমাতুল্লাহ বুশরাকে পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। গতকাল বুধবার ঢাকা মহানগর হাকিম মো. আতাউল্লাহ জামিনের আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) মতিঝিল বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক মজিবুর রহমান রিমান্ড শেষে বুশরাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে রাখার আবেদন করেন। ডিবির তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফারদিন হত্যার সঙ্গে এখনো বুশরার কোনো সম্পৃক্ততা মেলেনি।
গতকাল পর্যন্ত এই হত্যায় জড়িত শনাক্ত করে কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। ছায়া তদন্তকারী ইউনিট র‌্যাব বলছে, তদন্তে অনেক অগ্রগতি আছে। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের চনপাড়ার আশপাশের এলাকায় ফারদিনকে হত্যা করেছে মাদক কারবারি রায়হান গ্যাং। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তবে হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং গ্রেপ্তারের খবর জানাতে পারেনি তারাও।

এদিকে গতকাল বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা দুরন্ত বিপ্লব এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফারদিন নূর হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে নোঙর বাংলাদেশ, স্বাধীনতা উদ্যান সাংস্কৃতিক জোট এবং দুরন্ত বিপ্লবের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধু মহল। এ দেশে মেধাবী নিধন এবং বুয়েটে কিলিং মিশন চালু হয়েছে মন্তব্য করে মানববন্ধনে ফারদিন নূরের বাবা কাজী নূরউদ্দিন বলেন, ‘স্বাধীনতার অর্ধশতক পরে উন্নয়নকামী দেশ হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য প্রধানমন্ত্রী চেষ্টা করে যাচ্ছেন। যেখানে মেধাবীদের কর্মসংস্থান করার জন্য শত শত ইকোনমিক জোন করা হয়েছে। পাশাপাশি এখানে বিদেশিরা বিনিয়োগ করতে এগিয়ে আসছেন। যখন বিশ্ব দেখবে যে এখান থেকে মেধাবীরা হারিয়ে যায়, তখন এটি তাদের একটি নেতিবাচক বার্তা দেয় যে এই দেশটি অরক্ষিত এবং মেধাবীদের সুরক্ষা দিতে পারে না। এই টার্গেট কোনো পরিবারকে নয়, বরং সমগ্র দেশের অগ্রযাত্রা রুখে দেওয়ার।’
ফারদিন নূরের বাবা আরো বলেন, ‘এই দিনটি আমার জন্য কখনো প্রত্যাশিত ছিল না। সেদিন বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসার পর ক্যাম্পাসে পড়ালেখা শেষে মায়ের সঙ্গে খাওয়াদাওয়া করার কথা ছিল ফারদিনের। কিন্তু সেই ছেলেটি যে কোথায় নিরুদ্দেশ হয়ে গেল আমরা কিছুই জানতে পারলাম না।’

ফারদিনের বাবা কাজী নূরউদ্দিন রানা বলেন, ‘আমি এখনো আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর ওপর আস্থা রেখেছি। আমার ছেলে হত্যার ন্যায়বিচার হবে বলে আশা করছি। তবে মামলার তদন্তকারীরা আমার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেন না। এমনকি বুশরাকে কোর্টে তোলার আগে আমাকে জানানো হয়নি। আমার ছেলে হত্যার বিচারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ আশা করছি।’

নিখোঁজের তিন দিন পর নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে গত ৭ নভেম্বর রাতে ফারদিনের লাশ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে চিকিৎসকরা জানান। গত ৯ নভেম্বর রাতে তার বাবা নূরউদ্দিন রানা রামপুরা থানায় মামলা করেন। সেই মামলায় ফারদিনের বান্ধবী বুশরাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

Spread the love
Facebook Comments

সাম্প্রতিক খবর

Contact Us