শিরোনাম

বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলার হুমকি আর্মেনিয়ার, আজারবাইজান বলছে অসম্ভব

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৩, ২০২০ ১১:০০:৪৮ অপরাহ্ণ
বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলার হুমকি আর্মেনিয়ার, আজারবাইজান বলছে অসম্ভব
বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলার হুমকি আর্মেনিয়ার, আজারবাইজান বলছে অসম্ভব

বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারি আতঙ্কের মধ্যেই যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে মধ্য এশিয়ার দুই বৈরি প্রতিবেশী আজারবাইজান এবং আর্মেনিয়ার মাঝে। পুরোদস্তুর যুদ্ধের শঙ্কা তৈরি করে গত ১০ জুলাই থেকে আর্মেনিয়ার উত্তর-পশ্চিমে তাভুশ সীমান্তে দু’দেশের সেনাবাহিনী ট্যাংক এবং কামানের মতো ভারী অস্ত্র নিয়ে লড়াই করছে। এরই মধ্যে উভয় পক্ষে বেশ কিছু সেনা হতাহত হয়েছে। বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতেও গোলাবর্ষণ করা হচ্ছে। মারা যাচ্ছে সাধারণ মানুষ।

এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে এবার আর্মেনিয়ার সামরিক বাহিনী মিনগেচভিক শহরে অবস্থিত আজারবাইজানের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলা করার হুমকি দিয়েছে।

আজারবাইজান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কর্নেল ভাজিফ দারগিয়াখিল ককেশাসের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে আর্মেনিয়ান হামলার হুমকির বিষয়ে বলেছেন, এটা অসম্ভব এবং অবাস্তব একটি কল্পনা। আজারবাইজানের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ যেকোনো স্থাপনায় হামলা হলে পাল্টা আর্মেনিয়ার মেটসামোর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হবে বলে হুমকি দিয়েছেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, ‘মিঙ্গাচির জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র যে অঞ্চলে রয়েছে সেখানকার ভৌগোলিক অবস্থান,পাশাপাশি আমাদের আধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই মজবুত স্থাপনায় আঘাত করতে দেয় না। এটা অসম্ভব।’

কর্নেল ভাজিফ বলেন, আর্মেনিয়া যেন মনে রাখে যে আমাদের সেনাবাহিনীর হাতে এমন ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যা নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে সক্ষম। আমাদের কোনো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বিশেষ করে মিনগেচভিক জলাধারে আঘাত করলে, আর্মেনিয়াকে ট্র্যাজেডি ভোগ করতে হবে।

১২ ই জুলাই আর্মেনিয়া-আজারবাইজান সীমান্তে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আর্মেনিয়ান সেনাবাহিনী সীমান্তে অবস্থিত তোভুজ জেলায় অবস্থিত আজারবাইজানীয় অবস্থানগুলোতে ভারী কামান হামলা চালানোর পর উত্তেজনা আরো বেড়ে যায়। এই সংঘর্ষ কয়েক দিন স্থায়ী হয় এবং উভয় পক্ষের বেশ কিছু মৃত্যু ঘটে। সংঘর্ষে এক জেনারেলসহ আজারবাইজানের ১২ জন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। ১৩ জুলাই আর্মেনিয়ান বাহিনী বেসামরিক বসতিগুলোতে আঘাত করার সময় একজন বেসামরিক নাগরিককেও হত্যা করেছিল।

উল্লেখ্য, সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ থাকা দুই দেশের মধ্যে বিরোধ বহু পুরনো। দুই দেশের সীমান্তে অবস্থিত নাগোরনো-কারাবাখ এলাকা নিয়ে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে বিরোধ রয়েছে। সোভিয়েত ইউনিয়নের সময় থেকেই এলাকাটি আজারবাইজানের অন্তর্ভুক্ত থাকলেও, অঞ্চলের অধিকাংশ অধিবাসীই আর্মেনিয়ান। ১৯৮৮ সালে নাগোরনো-কারাবাখের স্বশাসিত সরকারকে উৎখাত করেছিল আজারবাইজান। তার পর থেকেই সেখানকার আর্মেনিয়ানরা বিক্ষোভ শুরু করেন। বিতর্কিত এলাকাকে কেন্দ্র করে ১৯৯২ সালে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে যুদ্ধ হয়। রাশিয়ার মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হলেও নাগোরনো-কারাবাখ এলাকার দখল নিয়ে নেয় আর্মেনিয়া। এরপর ২০১৬-তে ফের যুদ্ধ হয় দুই দেশের মধ্যে। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং ফ্রান্সের হস্তক্ষেপে যুদ্ধ থামে। চার বছর পর আবারও যুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Facebook Comments

সাম্প্রতিক খবর