শিরোনাম

ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়ে ‘একট্টা’ পাঁচ এমপি!

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : বুধবার, জুন ৯, ২০২১ ২:২২:৫৮ পূর্বাহ্ণ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়ে ‘একট্টা’ পাঁচ এমপি!
ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়ে ‘একট্টা’ পাঁচ এমপি!

একট্টা পাঁচ এমপি। ভাবতে শুরু করেছেন নিজ জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে নিয়ে। হেফাজতের সংগাত ও এর পরবর্তী অবস্থা, দলের সাংগঠনিক অবস্থানসহ নানা বিষয় নিয়ে ভাবনা তাঁদের। মতবিনিময় করেছেন কিভাবে কি করা যায়।

অবশ্য তাঁদের মতবিনিময় নিয়ে নানা কথাও ভেসে বেড়াতে শুরু করেছে। কেউ কেউ বলছেন জেলা আওয়ামী লীগকে ঢেলে সাজানোটাই মূল টার্গেট। আবার অনেকে মনে করছেন হেফাজতের সংগাতকে ঘিরে জেলার বর্তমান পরিস্থিতিকে সামাল দেওয়ার লক্ষ্যে এমপিদের একসঙ্গে বসা। যদিও এ নিয়ে স্পষ্ট করে কেউ মুখ খুলছেন না।

অবশ্য দুই এমপি’র সঙ্গে এ প্রতিবেদকের কথা হলে বিষয়টিকে তাঁরা স্বাভাবিকভাবেই দেখছেন বলে জানালেন। অন্যান্য সময়ের মতো স্বাভাবিক কারণে তাঁদের একসঙ্গে বসা দাবি করে এক এমপি বলেন, ‘করোনার কারণে বেশ কিছুদিনের একটা গ্যাপ পড়ে যায়।’

একাধিক সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় নেতা ও এমপিদের ওই বৈঠকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনের এমপি ও আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সঙ্গর্ষ ও পরবর্তী অবস্থা নিয়ে জানতে চান এবং করণীয় সম্পর্কেও আলোচনা করেন। দলের সাংগঠনিক বিষয়ের আলোচনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনের এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি র. আ. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে সবার সহযোগিতা ও সিদ্ধান্তকে মেনে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। আগামী জুলাইয়ে জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা ও পরবর্তীতে সিদ্ধান্তের আলোকে নতুন কমিটি গঠনের বিষয়েও আলোচনা হয়। তবে এমপিদের এ বসা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে নানা ধরনের আলোচনা হচ্ছে।

তবে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আল-মামুন সরকার অবশ্য বলেছেন তিনি জেলার সব এমপিদের একসঙ্গে বসার বিষয়টি জানেন না। তিনি বলেন, ‘জেলার উন্নয়নের ক্ষেত্রে যদি সব এমপি একসঙ্গে বসেন তাহলে সেটাতো ভালো লক্ষণ।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (বাঞ্ছারামপুর) আসনের সংসদ সদস্য ক্যাপ্টেন (অব.) এবি তাজুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘হেফাজত ইসলামের সংগাত ও সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আমাদের মাঝে আলোচনা হয়েছে। আগামী ৪ জুলাই বর্ধিত সভা করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় নেতা আবু সায়ীদ আল মাহমুদ স্বপন ও জেলা সভাপতি মোকতাদির চৌধুরী মিলে চূড়ান্ত তারিখ করবেন। জেলার সব এমপিদের সুবিধামতো সময়ে সে তারিখ করার কথা বলা হয়েছে।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনের এমপি বিএম ফরহাদ হোসেন সংগ্রাম সোমবার রাতে বলেন পাঁচ এমপি’র একসঙ্গে বসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা সব সময়ই এলাকার বিষয় নিয়ে আলোচনা করি। এটিও রুটিন বসা। তবে করোনার কারণে অনেকদিন ধরে বসা হচ্ছিল না। এবার আমরা সাংগঠনিক বিষয়সহ বিভিন্ন দিক নিয়েই আলোচনা করেছি।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যেহেতু মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে সেহেতু নতুন কমিটি গঠনে সম্মেলন তো হতেই পারে।’

এদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলা আওয়ামী লীগের একটি পক্ষ দলটির সাংগঠনিক দুর্বলতাকে দায়ী করে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগাযোগ করতে শুরু করেন। নতুন কমিটি গঠনের পক্ষেও তাঁরা মতামত দেন বলে আলোচনা আছে। ওই নেতারা উল্লেখ করেন, ২০১৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর সম্মেলনের পর পরের বছরের মে মাসে জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি কেন্দ্রীয় অনুমোদন লাভ করে। এ অবস্থায় সেই কমিটির মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ছয়টির মধ্যে পাঁচটি আসনের এমপিরা রবিবার দুপুরে সংসদ ভবনে একত্রিত হন। সেখানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফসহ কেন্দ্রীয় একাধিক নেতা উপস্থিত ছিলেন। মূলত কেন্দ্র্রীয় নেতাদের আহবানেই তাঁরা একত্রিত হন। জেলার একটি আসন (সরাইল-আশুগঞ্জ) বিএনপি’র দখলে।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Facebook Comments

সাম্প্রতিক খবর

Contact Us