শিরোনাম

ভারতের পক্ষে কি চীনা পণ্য বর্জন করা আদৌ সম্ভব?

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : শুক্রবার, জুন ১৯, ২০২০ ২:৩০:০১ অপরাহ্ণ
ভারতের পক্ষে কি চীনা পণ্য বর্জন করা আদৌ সম্ভব?
ভারতের পক্ষে কি চীনা পণ্য বর্জন করা আদৌ সম্ভব?

চীন-ভারতের মধ্যে সীমান্তে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। ইতিমধ্যে সংঘর্ষে ভারতের ২০ সেনা নিহত হয়েছেন। চীনা সেনাদেরও হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। এই অবস্থায় ভারতের জনসাধারণ ও ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে চীনা পণ্য বর্জনের ডাক এসেছে। চীনা পণ্য ভাঙচুরের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরালও হয়েছে। কিন্তু ভারতের পক্ষে কি চীনা পণ্য বয়কট আদৌ সম্ভব?

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, চীন–নির্ভরতা কাটাতে এখনো পাঁচ থেকে দশ বছর সময় লাগবে ভারতের। সম্পূর্ণভাবে স্বনির্ভর হওয়ার পরিকাঠামো নেই দেশটির।

পূর্ব লাদাখের গালোয়ানে চীন আগ্রাসনের প্রতিবাদে ভারতজুড়ে চীনা পণ্য বয়কটের ডাক দিয়েছে একাধিক ব্যবসায়ী সমিতি। খেলনা, ফার্নিশিং ফ্যাব্রিক, টেক্সটাইল, বিল্ডার হার্ডওয়্যার থেকে শুরু করে ফুটওয়্যার, গার্মেন্টস, রান্নাঘরের জিনিস, লাগেজ, হ্যান্ড ব্যাগ, কসমেটিক্স, গিফট, ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স জিনিসপত্র, ঘড়ি, রত্ন ও গয়না, হেল্থ প্রোডাক্ট, মোটরগাড়ির যন্ত্রাংশ, দিওয়ালি ও হোলির জিনিসসহ দৈনন্দিন ব্যবহারের প্রায় তিন হাজারটি পণ্যের একটি তালিকা তৈরি করেছে ব্যবসায়িক সংগঠন ‘‌দ্য কনফেডারেশন অফ অল ইন্ডিয়া ট্রেডার্স’ (‌সিএআইটি)‌‌। লক্ষ্য, ২০২১ সালের মধ্যে এই ধরনের পণ্য সামগ্রীর ঘরোয়া উৎপাদনের পরিকাঠামো প্রস্তুত এবং আমদানি খাত থেকে প্রায় এক লাখ কোটি টাকার অংকটি ছেঁটে ফেলা।

এদিকে ২০১৮–১৯ অর্থবর্ষে চীন থেকে প্রায় ছয় লাখ কোটি টাকার পণ্য আমদানি করেছে ভারত। বিশেষজ্ঞদের দাবি, বণিকসভার ‘‌চীন বর্জন’ পদক্ষেপের সঙ্গে মোদি সরকারের ‘‌আত্মনির্ভর’প্রকল্পও যদি মিলিয়ে দেয়া যায়, তাহলেও হিসাব বলছে, মাত্র ৩০% চীনা পণ্যের আমদানি বন্ধ করা সম্ভব। অর্থাৎ আমদানির খাতা থেকে এখনই চীনকে মুছে দেয়া যাবে না।

এদিকে ভারতের অর্থনীতি তলানিতে। এই পরিস্থিতিতে কোনো চীনা সংস্থা বা বিনিয়োগকারীকে ভারতের বাজার ছাড়তে বলাও সম্ভব নয়। চীন থেকে মূলত কাঁচামাল এবং অনেক কম দামে তথ্যপ্রযুক্তি পণ্য আমদানি করে ভারত। আমেরিকা ও ইওরোপের দেশ থেকে সেই মাল কিনলে কম করেও তিন–চারগুণ বেশি খরচ হবে ভারতের। ফলে শুরুতেই উৎপাদনমূলক কারবারের সঙ্গে জড়িত দেশের ছোট–মাঝারি সংস্থাগুলোকে উৎসাহ জোগাতে হবে। দেশেই সেই কাঁচামাল তৈরি করে পণ্য উৎপাদনের পরিকাঠামো গড়তে হবে। ঘরে উৎপাদন শুরু হলেই চাহিদা বাড়বে। দাম একটু বেশি পড়লেও কুকার, ওভেন থেকে শুরু করে কৃত্রিম জুয়েলারি, দেশে তৈরি দেবদেবীর মূর্তি কেনার দিকেই মানুষের ঝোঁক বাড়বে। জোগান ও চাহিদা পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকলেই সেই পণ্য বিদেশের বাজারে বেচতে পারবে ভারত। রপ্তানির দুনিয়ায় চীনকেই তখন টেক্কা দেয়া সম্ভব হবে।

দিল্লির একটি গবেষণামূলক সংস্থা, দ্য রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম ফর ডেভেলপিং কান্টিস (‌আরআইএস) জানাচ্ছে, এরকম প্রায় ২৭০০ পণ্যের ঘরোয়া উৎপাদন বাড়িয়ে বিদেশি রপ্তানি করতে পারে ভারত।‌ বিশেষজ্ঞরা আরও জানাচ্ছেন, দেশীয় পণ্যের চাহিদা একবার বাড়তে শুরু করলেই অবাধ বাণিজ্যের পথে কাঁটা বিছিয়ে দেয়া সম্ভব। গুণমান খারাপ দেখিয়ে প্রায় ৩০০ চীনা পণ্যের আমদানি রুখে দেয়া যায়। তাতে বিশ্ব বণিক সভার নিয়মও অগ্রাহ্য করা হবে না। তবে ‘‌চীন বর্জন’ প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে হওয়া প্রয়োজন। দেশীয় কোম্পানিকে আরও সময় দিতে হবে। তাড়াহুড়ো করলে ক্ষতি ভারতের, বলছেন বিশেষজ্ঞরা। সূত্র: ইন্টারনেট

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Facebook Comments

সাম্প্রতিক খবর