শিরোনাম

মশার নতুন ওষুধ কবে আসবে বলতে পারছে না কেউ

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : বুধবার, জুলাই ৩১, ২০১৯ ৩:০৮:০৫ পূর্বাহ্ণ
ফাইল ছবি

এবছর ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তারের কারণে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মশক নিধন ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এমনকি আন্তর্জাতিক উদারাময় গবেষণা কেন্দ্র আইসিডিডিআরবির গবেষণায় দেখা গেছে, দুই সিটিতে মশার ওষুধে মশা মরে না। গবেষণার বিষয়ে আগে থেকে জেনেও মশা মারার ওষুধ পরিবর্তনে পদক্ষেপ নেয়নি দুই সিটি করপোরেশন। বরং বিদ্যমান ওষুধ দিয়েই মশা মারার চেষ্টা চালিয়ে গেছে। গত এক বছরে এ খাতে অর্ধশত কোটি টাকা খরচও করেছে দুই সিটি করপোরেশন। এতে মশা তো কমেনি, হয়েছে উলটোটা। দিন দিন ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েই চলেছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মানুষ মরছে।

রাজধানীর এমন পরিস্থিতিতে মশা মারার কোনো বিকল্প নেই। এজন্য বিদেশ থেকে নতুন ওষুধ আমদানি করাই ভরসা মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে দুই সিটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন ওষুধ আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরপরই নড়েচড়ে বসেছে সিটি কর্তৃপক্ষ। তবে কবে নাগাদ নতুন মশার ওষুধ আসছে—তা বলতে পারছে না সিটি করপোরেশন। দ্রুত সময়ের মধ্যে ওষুধ আমদানির প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন তারা।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, বর্তমানে মশার যে ওষুধ রয়েছে, সেটি শতভাগ অকার্যকর এমন না, এটারও কার্যকারিতা রয়েছে। কিছু অংশ অকার্যকর। তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নতুন ওষুধ আমদানি করা হবে। প্রয়োজনে কার্গো ফ্লাইটে করে নতুন ওষুধ আনা হবে। নতুন ওষুধের ব্যাপারে প্রক্রিয়া চলছে। যতক্ষণ না পর্যন্ত নতুন ওষুধ সংগ্রহ করতে পারছি, কোনো বিকল্প না থাকায় বর্তমান ওষুধ চালিয়ে যাচ্ছি। এর আগে তিনি স্বীকার করেন যে রাজধানীতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।

এদিকে গত সোমবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেছেন, মশার ওষুধ ক্রয় নিয়ে সকল সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে ডিএনসিসি সরাসরি ওষুধ আমদানি করতে পারবে।

জানা গেছে, গত ১৫ জুলাই উত্তর সিটি করপোরেশন তাদের ওষুধ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়ে একটি টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করেছে। মশা নিয়ন্ত্রণে কীটনাশক নির্বাচন ও কার্যকারিতা পরীক্ষার পাশাপাশি ক্রয় প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবে কমিটি। কিন্তু কমিটি গঠনের দুই সপ্তাহ পার হলেও এখনো কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়নি।

ঐ কমিটির সদস্য সচিব ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোমিনুর রহমান মামুন ইত্তেফাককে বলেন, নতুন ওষুধ যত দ্রুত সম্ভব আনার ব্যাপারে আমাদের কাজ চলছে। সর্বোচ্চ মহল থেকে আমাদের বলা হয়েছে, যত দ্রুত সম্ভব নতুন ওষুধ নিয়ে আসার জন্য। তবে কবে নাগাদ আসছে সে ব্যাপারে তিনিও কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

এরপর গত ২৩ জুলাই একই কমিটি গঠন করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। বলা হয়েছে, এই কমিটি প্রতি তিন মাস পরপর বৈঠক করে মশার ওষুধের বিষয়ে অভিমত দেবে। ঐ কমিটি গঠনের পর মেয়র সাঈদ খোকন জানিয়েছিলেন, সমালোচনা নিরসনে তারা সরকারের ম্যান্ডেট পাওয়া সংস্থা রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে (আইইডিসিআর) মশা মারার ওষুধ সরবরাহ করবে। তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনে ব্যবহার করা হবে নয়তো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) কাছে পাঠানো হবে। তবে এ পরীক্ষার ফল এখনো সিটি করপোরেশনে পৌঁছায়নি।

রাজধানীর এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত রবিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি) মো. আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে দুই সিটি করপোরেশনের প্রধান দুই স্বাস্থ্য ও ভান্ডার কর্মকর্তাসহ কয়েক জন কর্মকর্তার উপস্থিতিতে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় নগরীতে ডেঙ্গুবাহিত অ্যাডিস মশা নিধনে যত দ্রুত সম্ভব নতুন ওষুধ সংগ্রহ করে রেজিস্ট্রেশন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু ঠিক কবে নাগাদ এই ওষুধ দেশে এসে পৌঁছবে তা বলতে পারছে না কর্তৃপক্ষ।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Facebook Comments

সাম্প্রতিক খবর

Contact Us