শিরোনাম

মহিপুরে ভূমি বন্দোবস্তোর নামে চলছে চাঁদাবাজী-দখল-সন্ত্রাস, যেনো চলছে মগের মুল্লুকের রাজত্ব ॥

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : সোমবার, এপ্রিল ১২, ২০২১ ৬:২৬:৩৩ অপরাহ্ণ
মহিপুরে ভূমি বন্দোবস্তোর নামে চলছে চাঁদাবাজী-দখল-সন্ত্রাস, যেনো চলছে মগের মুল্লুকের রাজত্ব ॥
মহিপুরে ভূমি বন্দোবস্তোর নামে চলছে চাঁদাবাজী-দখল-সন্ত্রাস, যেনো চলছে মগের মুল্লুকের রাজত্ব ॥

রাসেল কবির মুরাদ , কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি   ঃ  মহিপুর প্রকাশ্যে
চলছে অনিয়ম ও দুর্নীতি। অনিয়ম, অবৈধ উপায় ভূমি দখলের অভয়ারন্য মহিপুর ও
তার পার্শ্ববর্তী এলাকা, এ যেনো চলছে এক মগের মুল্লুকের রাজত্ব। নেপথ্যের
অন্তরালে রক্ষাকবচ অথবা সংশ্লিষ্ট  কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষরহীন নিরব
চুক্তিনামায় ভূমি বন্দোবস্তের নামে চলছে এই দখল-সন্ত্রাস-চাঁদাবাজী। এক
বছরের (চান্দিনা) বন্দোবস্তকৃত ভিটায় তোলা হচ্ছে বহুতল পাকা ভবন,
প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় বনবিভাগের ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছ কেটে পর্দার
অন্তরালে নামে-বেনামে করছে শিববাড়িয়া খালের চর দখল, কারো তোয়াক্কা না করে
সরকারী খাসজমি ও পাউবোর জমি ভরাট করে হচ্ছে বহুতল পাকা ভবন নির্মান,
প্রবাহমান নদীতে অবাধে প্রাচীর তুলে হচ্ছে জমি বিক্রি-বায়না। দীর্ঘদিন এ
অনিয়ম-দুর্নীতির কার্যক্রম অব্যাহত থাকলেও সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ রয়েছে
উদাসীনতার ভূমিকায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহিপুর সদর ইউনিয়নের নজীবপুর ৫ নং ওয়ার্ডে জমি
বন্দবস্তের নামে, বঙ্গোপসাগরের মোহনা সংলগ্ন বিশাল এলাকা জুড়ে ভেকু দিয়ে
মাটি কেটে ভরাট করে তৈরি হয়েছে অধিক স্থাপনা। এরফলে বিলিনের পথে জেলে
পোতাশ্রয় খ্যাত শিববাড়িয়া খাল এবং পাশাপাশি বিশালাকৃতির প্রকৃতির নিদর্শন
হাজারো ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছ কেটে ধ্বংস করা হয়েছে সবুজ বনাঞ্চল।
দখলদার, ভুমিদস্যুদের দাবি সরকারী বন্দোবস্ত পাওয়ার পরই তারা এসব ঘরবাড়ি
নির্মান করছেন। তবে অধিকাংশ দখলদারদের বন্দবস্তের কোনো সত্যতা পাওয়া
যায়নি। অপরদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন পুকুর দখল করে হচ্ছে পাকা
স্থাপনা নির্মান। মহিপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন পাউবো’র জমি কোন
অনুমতি ছাড়াই বালু দিয়ে ভরাট করে তৈরী হয়েছে শতশত অবৈধ স্থাপনা।
প্রভাবশালী-ক্ষমতাসীনদের ভয়ে পাউবো কর্তৃপক্ষ যেনো দেখেও না দেখার ভান
করছে, নেই কোনই তৎপারতা। প্রভাবশালী কয়েকটি মহল পাউবো’র একটি পুকুর
বন্দবস্তের নামে  বালুভরাট করে ভিটি তৈরী করে বিক্রী-বানিজ্যের পায়তারা
করছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট এক অসাধু কর্তাব্যক্তিদের সম্মতি
ও নিরব ভুমিকার জন্য বন্ধ হচ্ছে না সরকারী সম্পত্তি ও নদী দখলের মহোৎসব।
এ বিষয় গনমাধ্যম ব্যক্তিদের ধারনা , সঠিক তথ্য ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশের
পরও কর্তৃপক্ষের ইতিবাচক ভুমিকা নেয়া দরকার। প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে সরকারি
সংশ্লিষ্ট  কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা। প্রকাশ্যে চলছে অবৈধ দখল ও স্থাপনা
নির্মান। কোনো ধরনের নিয়মের তোয়াক্কা না করেই দৃষ্টিকটু এমন দখলদারীত্বে
যেমন প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে আইন, তেমনি ভাবিয়ে তুলেছে আগমী প্রজন্মকে।

কলাপাড়া পাউবো কর্তৃপক্ষ জানান, বর্তমানে সকল প্রকার বন্দবস্ত দেওয়ার উপর
নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এ বিষয় কলাপাড়া পানিউন্নয়ন বোর্ড’র (পাউবো) মহিপুর
শাখার দ্বায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: তারিকুর রহমান (তুহিন) জানান,
যারাই পুকুর/ জমি দখল করছে  তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা
হচ্ছে। ইতোমধ্যেই এসব অবৈধ দখলদার-ভুমিদস্যুদের থতিয়ান তালিকা করে উপরস্থ
কতৃপক্ষের নিকট পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, মহিপুর সদরের পূর্বপাশে স্লুইজগেট এলাকায় শিববাড়িয়া নদীর
মধ্যেই প্রাচীর তুলে দখল করছে কলাপাড়ার এক প্রভাবশালী বিএনপি নেতা।
অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় একটি ভূমিদস্যু সিন্ডিকেট এ দেয়াল তুলে নদী দখল করে
বিক্রি করে দিয়েছে। এবিষয় জানতে চাইলে বিএনপি নেতা এ প্রতিবেদককে বলেন,
দেয়াল নির্মান করা হয়নি, তবে নদীর মধ্যে ওই দেয়াল মানুষের চোখে দৃষ্টিকটু
হলে আমি ভেঙ্গে ফেলবো, যেনো ভাজা মাছটি উল্টে খেতে জানেননা তিনি। দেয়াল
তুলতে সংশ্লিষ্ট  কর্তৃপক্ষ কোন বাঁধা প্রদান করেছিলো কিনা জানতে চাইলে
তিনি বলেন, তা আমার জানা নেই। মহিপুর বাজারের বিভিন্ন স্থানে তোলা হচ্ছে
বহুতল ভবনসহ একাধিক পাকা ভবন। এদের অনেকেরই চান্দিনা ভিটির বন্দবস্ত
থাকলেও সরকারী নিয়ম উপেক্ষা করে তারা মহিপুর তহসিল অফিস ম্যানেজ করেই
দীর্ঘদিন যাবৎ চলছে এ নির্মাণ কার্যক্রম। নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক বহু
এলাকাবাসী এসব অভিযোগ করেন।

এসব দখল-চাঁদাবাজী-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কেনো কোনো ব্যবস্থা গ্রহন করা
হচ্ছে না এখানে দায়িত্ব কার এবিষয় জানতে চাইলে মহিপুর ভূমি কর্মকর্তা মো:
আজিজুর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, নজীবপুরের ব্যাপারে তিনি উপোরস্থ
কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন। এছাড়া বাজারের মধ্যে যেসকল ভিটিতে স্থাপনা
নির্মান করা হচ্ছে তারা ডিসিআর নিয়ে নির্মান করা হছে বলে তিনি জানান। তার
বিষয় কেউ কোনো  অভিযোগ করলে তা ভিত্তিহীন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে পাকা
ভবন নির্মানের ব্যাপারে তার জানা নেই বলে জানান ।

এবিষয় কলাপাড়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) জগৎবন্ধু মন্ডল গনমাধ্যমকে জানান,
বিষয়গুলো দ্রুত খতিয়ে দেখা হবে এবং তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Facebook Comments

সাম্প্রতিক খবর

Contact Us