শিরোনাম

মাদকসহ ৩ জনকে আটক করেও ছেড়ে দিল পুলিশ!

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : শুক্রবার, জুলাই ২, ২০২১ ১:২৪:৩২ পূর্বাহ্ণ
মাদকসহ ৩ জনকে আটক করেও ছেড়ে দিল পুলিশ!
মাদকসহ ৩ জনকে আটক করেও ছেড়ে দিল পুলিশ!

মাদকের বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জিরো টলারেন্স নীতির বাইরে অল্পস্বল্প মাল দিয়ে মামলা ও করোনায় কষ্ট না দেওয়াসহ মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়া হলো জুয়া বোর্ডের সম্রাটসহ তিনজনকে। যশোরের শার্শা উপজেলার গোড়পাড়া ফাঁড়ি পুলিশের বিরুদ্ধে এই তিন আসামিকে প্রাইভেট কারে মাদকসহ আটকের পর ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল বুধবার রাত ৯টায় নিজামপুর ইউনিয়নের গোড়পাড়া-গাতিপাড়া এলাকার জুয়ার বোর্ড পরিচালনাকারীরা জুয়াড়িদের জন্য সরবরাহকালে প্রাইভেট কার ও মাদকসহ হাতেনাতে পুলিশের কাছে আটক হয়। পরে আর্থিক লেনদেনের পর ছেড়ে দেওয়ায় ফাঁড়ি পুলিশের বিরুদ্ধে এলাকার সাধারণ ও সচেতন মহলের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ফাঁড়ির এএসআই তৈয়েবুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্সসহ ফাঁড়ির সামনে রাস্তার ওপর অবস্থান করেন। এসময় সীমান্ত এলাকা শিকারপুর থেকে একটি সাদা রঙের প্রাইভেট কার আটক করে ফাঁড়ি অভ্যন্তরে তল্লাশি চালিয়ে কয়েক বোতল ভারতীয় বাংলা মদ উদ্ধার করা হয়। কারের ভেতরে থাকা নিজামপুর ইউনিয়নের আমতলা গাতিপাড়া গ্রামের হক আলির ছেলে জুয়া সম্রাট তরিকুল ইসলাম (৩০), মিজান ডাকাতের ছেলে নজরুল এবং চালক মৃত আব্দুল আজিজের ছেলে নাজিম উদ্দিনকে (২৭) আটক করা হয়।

সূত্রটি আরো জানায়, গোড়পাড়া গাতিপাড়া এলাকার কয়েকটি স্পটে দীর্ঘদিন ধরে জুয়া বোর্ড পরিচালনা করে আসছে সিন্ডিকেট প্রধান জুয়া সম্রাট তরিকুল ইসলাম। পুলিশ ফাঁড়ির এক কিলোমিটারের মধ্যে প্রকাশ্যে দিন-রাত চলে এ জুয়া বোর্ডের কর্মকাণ্ড। দূর-দূরান্ত থেকে আসা লাখ লাখ টাকার এই আসরে ভিআইপি জুয়াড়িদের জন্য সরবরাহকৃত মদ নিয়ে আসার সময় তারা পুলিশের হাতে আটক হয় বলে ধারণা স্থানীয়দের। পরে ওই রাতেই গাড়িসহ তরিকুলের লোকজন স্থানীয় ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের কতিপয় নেতা ও জনপ্রতিনিধির মধ্যস্থতায় ফাঁড়িতে বসে মোটা অঙ্কের অর্থের লেনদেনের পরে কারটিসহ তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

গোড়পাড়া ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ এসআই এজাজুর রহমান বলেন, হাফ লিটার বাংলা মদ প্রাইভেটকারসহ তিন জনকে আটক করা হয়। এএসআই তৈয়েবুর এ সময় কয়েকটা লাথি-চড় মারে। মামলা দেওয়ার জন্য পরিমাণমত মদ না পাওয়ায় ওসি স্যারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে তাদের নির্দেশে আটককৃতদের মুচলেকার মাধ্যমে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এখানে কোন প্রকার আর্থিক লেনদেন হয়নি।

শার্শা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বদরুল আলম খান বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করার পরে বলেছেন যে ‘অল্পস্বল্প মাল’ দিয়ে মামলা ও ‘করোনায় কষ্ট’ দেওয়ার দরকার নাই। মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দাও।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Facebook Comments

সাম্প্রতিক খবর

Contact Us