শিরোনাম

মেধাবী শাহিনের মা’র স্বপ্ন বাস্তবায়নে রূপ দিলেন জাতীয় ছাত্র সমাজঃ ভর্তি করালেন বেরোবিতে

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : রবিবার, জানুয়ারি ৯, ২০২২ ১০:৩৪:৪২ অপরাহ্ণ
মেধাবী শাহিনের মা'র স্বপ্ন বাস্তবায়নে রূপ দিলেন জাতীয় ছাত্র সমাজঃ ভর্তি করালেন বেরোবিতে
মেধাবী শাহিনের মা’র স্বপ্ন বাস্তবায়নে রূপ দিলেন জাতীয় ছাত্র সমাজঃ ভর্তি করালেন বেরোবিতে
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, রংপুর
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সি ইউনিটে ৬৮তম চান্স পাওয়া মেধাবী শাহীন আলমকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করায় দিয়েছেন জাতীয় ছাত্রসমাজের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন। রবিবার বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের ভর্তির সকল কাজ সম্পর্ন করে দুপুর সোয় একটায় ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা জমা দিয়ে  বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন শাহিন আলম। সোয় দুইটায় ঐ বিভাগের সহযোগী অধ্যাক ড. মোঃ নুর আলম সিদ্দিকের সঙ্গে দেখা করেন ছাত্রসমাজের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন। এসময় শাহিন আলম  বলেন, আমার মায়ের স্বপ্ন হলো প্রশাসন ক্যাডার হওয়ার। আমি আমার মায়ের স্বপ্ন পূরন করতে চাই। আমি যেন দেশের জন্য কিছু করতে পারি। আমি যেন ভালো কিছু করতে পারি।
শাহীন আলমের বাবা তাছির উদ্দিন বলেন, খুব কষ্ট করি ছাওয়াটাক পড়ালেখা করাওছো। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়োত ভর্তি করার মতো হাজার দশের টাকা হামার নাই। ওই তকনে খুব চিন্তাত আছনো। গতবারও এই ছাওয়াটাক টাকা না থাকার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়োত ভর্তি করেবার পারো নাই। এবার জাতীয় ছাত্রসমাজের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন মোর ছাওয়া আশ্বাস দিছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করায় দেবে। রবিবার দুপুরে মোর ছাওয়া মোক মোবাইল করি কইল, আব্বা মুই বিশ্ববিদ্যালয়ত ভর্তি হনু। মোক জাতীয় ছাত্র সমাজের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মামুন ভাই ভর্তি করি দিছে নিজে। ভবিষ্যতে কোনো সমস্যা হইলে মামুন ভাই হামার পাশোত থাকার আশ্বাসও দিছে।
শাহীন আলম বলেন, দরিদ্র মা-বাবার পক্ষে আমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করানোর সামর্থ্য নেই। সংসার চালানোই মুশকিল। তার মধ্যে আমার পড়াশোনার খরচ দেওয়া তো অসম্ভব। কিন্তু তার পর স্বপ্ন দেখেছি, কষ্ট করে পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছি। আমার স্বপ্ন ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হব। এবার ভর্তি হয়ে গেছি। আর পড়াশোনা করে মায়ের স্বপ্ন পূরণ করব।
জাতীয় ছাত্রসমাজের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আল মামুন  বলেন, আমি শাহিন আলমকে ৫ জানুয়ারি রাতে রংপুর নগরীর কাচারী বাজার এলাকায় সাবাদিকের মাধ্যমে ডেকে কথা দিয়েছিলাম শাহিনকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করায় দিবো। তার হোস্টেরের সিটের ব্যবস্তা করে দিবো। শাহিনের যে কোন সমস্যা হলে আমাকে ফোন করতে বলেছি। তার পাশে আমি সব সময়ে থাকবো ইনশা আল্লাহ্।
আল মামুন আরও বলেন, আমাদের দেশের সব খানেই মেধাবী শিক্ষার্থী থাকেন তাদের আর্থিক স্বচ্ছলতা না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়ার পরেও ভর্তি হতে পারে না অনেক শিক্ষার্থী। তিনি আরও বলেন, শাহিন আলম একজন বেধাবী ছাত্র। শুধু বেগম রোকেয়া নয়, বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছিলেন শাহিন। কিন্তু অর্থের অভাবে কোথাও ভর্তি হতে পারেন নাই।
সামান্য কিছু অর্থের কারণে শাহিনের পড়াশুনার পথ বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো। শাহিনের জীবন থেকে আলো চলে যেতে ধরেছে। গতকাল রবিবার দুপুরে আমি নিজেই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে মেধাবী শাহীন আলমকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করায় দেই।
শহীন বলেন, অবশেষে আমি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলাম। মা-বাবার স্বপ্ন আমি পুলিশে চাকরি করি, ইনশা আল্লাহ্ সেই পূরণে আমি চেষ্টা করব। আল্লাহর রহমত আর মিডিয়ার ভাইদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। তাদের লেখনির মাধ্যমে আজ আমি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারলাম। জাতীয় ছাত্রসমাসজের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সাধারণ সম্পাদক আল মামুন ভাইকে ধন্যবাদ জানাই। আমি কখনো কল্পনা করতে পারি নাই যে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারবো।
৫ জানুয়ারি রাতে রংপুর নগরের কাচারি বাজার এলকায় মামুন ভাই আমাকে ডেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করায় দিবে বলে আশ্বাস দিয়েছিলো। গতকাল রবিবার দুপুরে আল মামুন ভাই নিয়ে গাড়ী যোগে এসে আমাকে রোকেয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করায় দিয়েছে।
এরআগে শনিবার মেধাবী শিক্ষার্থী শাহীন আলমের পাশে দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির (পুনাক) সভানেত্রী জীশান মীর্জা। শাহীন আলমের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনার জন্য নগদ ২০ হাজার টাকা সহায়তা দিয়েছেন পুনাক।
এসময় শাহিন আলম বলেন, আমি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিশ্ববিদ্যালয়, শাহা জালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছিলাম ভর্তির তারিখ পার হয়ে গিয়েছিলো আমি ভর্তি হতে পারি নাই অর্থের অভাবে।  এর পরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার রেজাল্ট দেয় ১ জানুয়ারি। ফিনান্সিং ব্যাংকিং আসে প্রথমে আমি আমার রেজাল্ট দেখতে পারি নাই। আমার এক বন্ধু দেখে আমায় যানায়।
Attachments area
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Facebook Comments

সাম্প্রতিক খবর

Contact Us