শিরোনাম

যে শহিদ মিনারে ৫২ ভাষার ‘মা’

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : বুধবার, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২১ ১১:৩৫:২৪ পূর্বাহ্ণ
যে শহিদ মিনারে ৫২ ভাষার ‘মা’
যে শহিদ মিনারে ৫২ ভাষার ‘মা’
আব্দুল গফফার, সিলেট প্রতিনিধি : ৫২টি ভাষার বর্ণ দিয়ে লেখা অনন্য এক শহিদ মিনার নির্মিত হয়েছে সিলেটের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় লিডিং ইউনিভার্সিটিতে। শহিদ মিনারটি নির্মিত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অর্থায়নে। এ শহিদ মিনাররের একই ক্যানভাসে ৫২টি ভাষায় ‘মা’ শব্দটি লেখা হয়েছে। সেইসাথে রয়েছে ‘মা’ নিয়ে লেখা অনেক কবির লেখা কবিতার পক্তিমালা। এ শহিদ মিনারের স্থপতি রাজন দাস ব্যতিক্রমী এটির নাম দিয়েছেন ‘মা: অবাক আলোর লিপি’। প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত অনন্য এই শহিদ মিনারটি ২০ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) সন্ধ্যায় উদ্বোধন করেন লিডিং ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান সৈয়দ রাগীব আলী। পৃথিবীর সকল সন্তানের কাছেই মা’য়ের আবেদন একক ও অভিন্ন। ‘মা’ ধ্বনিতেই মানুষের কথা বলার শুরু, আর এই শব্দকে ঘিরেই মানবিকতার বিকাশ। “মা এক ‘অবাক আলোর লিপি’ নামের শহিদ মিনারটি যেন জানান দিচ্ছে গর্ভধারিনী জননীর নামের উচ্চারণ সন্তানের মুখে কেন ‘মা’ ধ্বনিতেই শুরু হয়। লিডিং ইউনিভার্সিটির স্থাপত্য বিভাগের স্থপতি ও সহযোগী অধ্যাপক রাজন দাস জানান, ‘পৃথিবীতে ২-৪টি ভাষা ছাড়া সব ভাষাতেই মা শব্দটা ‘ম’ দিয়ে শুরু হয়। এটা একটা অতভূত ব্যাপার এই জায়গা থেকে ভাষার আসলে কোন ধরণের শত্রু নেই, ভাষার কোন বাধা হয় না। এটাই আমাদের মূল চেতনার স্থল।’ তিনি বলেন, ‘ইতিহাসের পথ পরিক্রমায় বাংলা যেসব ভাষার সংস্পর্শ পেয়েছে, সেসব বর্ণমালায় ‘মা’ শব্দটি লেখা হয়েছে। সব মিলিয়ে বায়ান্নটি ভাষার নিজস্ব বর্ণমালায় ‘মা’ শব্দটি ইঁট সিমেন্টের গাঁথুনিতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এই মিনারে স্থান পেয়েছে বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নিজস্ব বর্ণমালও। বিলুপ্তির হাত থেকে এসব ভাষাকেও রক্ষার আহবান এই শহিদ মিনারে।’ রাজন দাস আরও বলেন, ‘অনেক ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠি আছে তাদের ভাষা আজ বিলুপ্ত হয়ে গেছে, সেইসব ভাষা আমরা এখানে প্রয়োগ করেছি। সব ভাষা বেঁচে থাকুক এই অঙ্গিকারের চিন্তা থেকে এটা একটা প্রতিবাদের জায়গাও আছে এই শহিদ মিনারে।’
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Facebook Comments

সাম্প্রতিক খবর

Contact Us