শিরোনাম

রংপুর অমানবিক শিশু নির্যাতন,আইনী পদক্ষেপে – পুলিশের অবহেলা মুখ থুবরে মানবিকতা।

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ২৭, ২০২২ ৯:৪০:২৫ পূর্বাহ্ণ
রংপুর অমানবিক শিশু নির্যাতন,আইনী পদক্ষেপে - পুলিশের অবহেলা মুখ থুবরে মানবিকতা।
রংপুর অমানবিক শিশু নির্যাতন,আইনী পদক্ষেপে – পুলিশের অবহেলা মুখ থুবরে মানবিকতা।
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট রংপুর
রংপুরের কাউনিয়ায় টাকা চুরি সন্দেহে শামীম হোসেন (১০) ও রাসেল (৯) নামে দুই শিশুকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন চালিয়েছে  এক ইউপি সদস্য ও অভিযোগকারী দুই ভাই। কাউনিয়া উপজেলার টেপামধুপুর ইউনিয়নের রাজিব মোল্লা টারি গ্রামে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে টেপামধুপুর ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার ইউনুস আলীর বাড়ি থেকে দুই শিশুকে উদ্ধার করে পরিবারের জিম্মায় দেয়।
পরিবারের লোকজন নির্যাতনের শিকার  শামীমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও সেখান থেকে ইউনুস মেম্বারের লোকজন তাড়িয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন শামীমের মামা রাজু মিয়া।
বর্তমানে নির্যাতনের শিকার শিশু শামীম বিনা চিকিৎসায় বাড়িতে পড়ে আছে।
 নির্যাতনের শিকার  আরেক শিশু রাসেলকে সন্ধ্যায় কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
নির্যাতনের শিকার শিশু শামীম কাউনিয়া উপজেলার টেপামধুপুর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের রাজিব মোল্লাটারী গ্রামের সামসুল হকের এবং রাসেল ওই ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের চৈতারামোড় বাজেমজকুর গ্রামের মন্তাজ আলীর ছেলে।
শামীমের মা সোহাগী বেগম জানান, সংসারে অভাবের কারণে শিশু শামীম একটি পিকআপে সহকারী হিসেবে কাজ করে। চারদিন পর  মঙ্গলবার  রাতে নাওগা থেকে বাড়ি ফিরে খাওয়া শেষে গাড়িতে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে সে।
বুধবার সকালে লোকমুখে জানতে পারেন যে, সংশ্লিষ্ট ৩ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইউনুস আলী বাড়ীতে তার ছেলের হাত পা বেঁধে পেটাচ্ছে। পরে তিনি জানতে পারেন যে, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে  ওই এলাকার আকরাম হোসেন নামে এক ব্যক্তির ঘরের সিঁধ  কেটে ৭০ হাজার টাকা কে বা কারা চুরি করেছে। এ ঘটনায় আকরাম এবং তার ভাই ইয়াকুব ও ইউপি সদস্য ইউনুস আলী তার ছেলেকে সন্দেহ করে  অমানবিক নির্যাতন চালায়।
পরে খবর পেয়ে কাউনিয়া থানা পুলিশ ওই বাড়ি থেকে শামীম ও বাজে মস্কোর গ্রামের রাসেলকে উদ্ধার করে। পরে বিকেলে শামীমকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করতে গেলে ইউনুস মেম্বারের লোকজন তাকে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয়। চিকিৎসা না পেয়ে বাড়ি ফিরে আসে। বর্তমানে নির্যাতনের শিকার শিশু শামীম বিনা চিকিৎসায় সারা শরীরে ব্যথায় কাতরাচ্ছে। শামীমের মা সোহাগী বেগম বলেন, তার স্বামী কাজের খোঁজে কুমিল্লা গেছেন। এদিকে তার ছেলে বিনা চিকিৎসায় বাড়িতে কাতরাচ্ছে। তার নিরাপরাধ ছেলেকে যারা এভাবে নির্যাতন করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।
নির্যাতনের শিকার শিশু শামীম জানায়, ইউসুন মেম্বারের কথামতে প্রতিবেশী দুইজন তাকে ধরে নিয়ে মেম্বারের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে হাত-পা বেঁধে গাছের ডাল দিয়ে বেধড়ক মারপিট করে ইউসুফ মেম্বার চাচা। মেম্বার চাচার পা ধরে বলেছিলাম আমি টাকা চুরি করি নাই। আমার কোনো কথাই শুনিনি কোমর থেকে পায়ের গিরা পর্যন্ত গাছের ডাল দিয়ে মারপিট করেছে।
স্থানীয় লোকজন জানান, প্রভাবশালী মেম্বার ইউনূস ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা দাপটে নির্যাতনের শিকার শিশুদের দরিদ্র পরিবার আইনের আশ্রয় নিতে পারছেন না। বর্তমানে পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
নির্যাতনের শিকার আরেক শিশু রাসেলের বাবা মন্তাজ আলী জানান, বুধবার সকালে তিনি কাজে বেরিয়ে যান। বিকেলে বাড়ি ফিরে জানতে পারেন যে, সকালে দুটি মোটরসাইকেলে করে ৪/৫ জন লোক এসে তার ছেলেকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় এবং ইউনুস মেম্বারের বাড়িতে আটকে রেখে বেধড়ক মারধর করে। পরে পুলিশের সহায়তায় বাড়ি ফিরে আসে সে। তিনি বলেন তার ছোট শিশুকে কেমন ভাবে নির্যাতন করা হয়েছে এখন সে হাঁটতে পারছে না। কেউ কথা বলতে গেলে কোন কথা বলছে না, লোকজন দেখলেই সে আঁতকে উঠছে।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় সন্ধ্যায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন শিশু রাসেল জানায়, অনেক আকুতি মিনতি করেও মেম্বারের নির্যাতন থেকে রক্ষা হয়নি। টাকা চুরি করিনি বলার পরেও তাকে এবং শামীমকে বেঁধে পিটিয়েছেন মেম্বার এবং আকরাম ও ইয়াকুব।
শিশু রাসেল বলেন, অনেক কান্নাকাটি করেছি তবুও মেম্বার চাচা আমাদেরকে ছেড়ে দেয়নি। পানি খাইতে চাই পানিও দেওয়া হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই ইউপি সদস্য কারণে অকারণে বিভিন্ন বয়সী শিশু ও মানুষদের ধরে এনে মারধর করেন। তার ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পায় না। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
হাসপাতালের কর্তব্যরত  চিকিৎসক ওমর ফারুক জানান, শিশু রাসেলের দুই উরুতে চারটা সুঁই ফোটানো হয়েছে এবং বাম হাঁটুর নিচে ফোলা আছে। এছাড়া ডান পায়ের পাতায় রক্ত জমাট হয়েছে। তার এক্স-রে করার জন্য প্রস্তুতি চলছে। তিনি বলেন শিশুদের পরিবার জানিয়েছে যে গ্রামের এক বাড়িতে টাকা চুরি যাওয়ার সন্দেহে শিশু রাসেল ও শামীমকে এভাবে নির্যাতন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য ইউনুস আলী বলেন, আমি মারধর করিনি। আকরাম ও ইয়াকুবের বাড়িতে মারধর করা হয়েছে।
মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে আকরাম হোসেনে বলেন, প্রথমে শামীমকে নিয়ে আসা হয়। পরে তার কথামত রাসেলকে আনা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, মেম্বার শিশু দুইজনকে চর থাপ্পর মেরেছে।
কাউনিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুমুর রহমান বলেন, ৯৯৯ খবর পেয়ে টেপামধুপুর ইউনিয়নের সদস্য ইউনুস আলী বাড়ি থেকে শিশু দুটিকে উদ্ধার করে পরিবারের জিম্মায় দেয়া হয়। পরে শুনলাম একজন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং অপরজন বাড়িতে আছে।
এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে ঘটনাস্থল থেকে যেহেতু শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে এ ব্যাপারে থানায় একটি জিডি দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

আরও পড়ুনঃ

কলাপাড়ায় তুলা গাছ থেকে পড়ে এক বৃদ্ধের মৃত্যু ॥
বানারীপাড়ায় হাসপাতাল থেকে মৃত ঘোষিত শিশু দাফনের প্রস্তুতিকালে নড়ে ওঠায় বিক্ষোভ
জয়পুরহাট র‍্যাব ক্যাম্পের পৃথক অভিযানে ১টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৪ কেজি গাঁজাসহ আটক-২
রূপগঞ্জে আম পারাকে কেন্দ্র করে দু‘পক্ষের সংঘর্ষে নিহত-১ আহত-৪
জয়পুরহাটে আব্দুল গাফ্ফার চৌধরীর মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব ও বাংলা টিভির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত
মহিপুরে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত ॥
পরশুরামের শাহীন চৌধুরী হত্যা মামলায় সাবেক ইউপি মেম্বার যুবলীগ নেতা জাহিদ কারাগারে
শুরু হলো পাবনার ইছামতি নদী পারের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান।
Spread the love
Facebook Comments

সাম্প্রতিক খবর

Contact Us