শিরোনাম

রহস্যের অতীত স্টাইল!

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : সোমবার, সেপ্টেম্বর ৭, ২০২০ ৬:৪১:১৬ অপরাহ্ণ
রহস্যের অতীত স্টাইল!
রহস্যের অতীত স্টাইল!

খুনের বিচার, গুমের বিচার, হত্যা চেষ্টার বিচার, ধর্ষণের বিচারসহ রাষ্ট্রের স্পর্শকাতর বহু ঘটনা তদন্ত আর আইনের ফাঁক গলিয়ে এ দেশে অপরাধীরা ছাড়া পেয়ে যায়। দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানকে হত্যার চেষ্টার ঘটনার পরও রহস্যময় নানা বক্তব্য উদ্বেগ বাড়ছে। তদন্তকালে অতীত স্টাইলে বক্তব্য উঠে আসছে।

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একজন ইউএনওর বাসায় নিরাপত্তা প্রহরী থাকে, সেদিন কুপানোর সময় নিরাপত্তা প্রহরী কোথায় ছিলো? এখন যে চুরির বিষয় আসছে তা হাস্যকর। এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাচেষ্টার ঘটনা।

এরসঙ্গে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির যোগসাজশ রয়েছে। একজনকে ইউএনওকে রাষ্ট্রের অনেক দায়িত্ব পালন করতে হয়। তার নিরাপত্তার বিষয়টি রাষ্ট্র থেকে থাকে। সেদিন ইউএনওর বাসায় কোনো নিরাপত্তা ছিলো না। এটির জবাবও হওয়া উচিত। এক কথায় বলা চলে পুরো বিষয়টিতে রহস্যে রয়েছে।

তারা মনে করছেন, এ ঘটনায় যে দৃশ্যপট এতে রহস্য মনে হচ্ছে। একজন রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির বাসায় সুরক্ষা সীমানায় কেউ চুরি করতে যাবে কাউকে কুপিয়ে আসবে এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। নানা অবিশ্বাসযোগ্য মন্তব্যের কারণে তদন্তে সঠিক বিষয়টি উঠে আসা নিয়ে শেষ পর্যন্ত কিছুটা সন্দেহ থেকে যায়।

চুরির বিষয়টির রহস্য কী বের করতে হবে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা আমরা দাবি করছি আশাও করছি এটার সঙ্গে যারা আড়ালেও জড়িত তাদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। এটাই হবে সঠিক প্রদক্ষেপ। সবচেয়ে বড় কথা ক্ষমতাসীন সরকারের সময়ে সারা দেশে এমন অনেক ঘটনা সৃষ্টি হয়েছে, ভিবিন্ন ধরনের অন্যায় হচ্ছে। অনেকে অপরাধ করে পার পেয়ে যাচ্ছে।

এর অবসান ঘটাতে হবে। আর তা হলে এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে। আজ ইউএনও হয়েছে কাল আরো রাষ্ট্রের বড় কর্তার ক্ষেত্রে হবে।  ইউএনও রাষ্ট্রের গুরুত্ব পূর্ণ ব্যক্তি যার পেছনে সরকারের সমর্থন আছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমর্থন আছে, তারা তো সর্ব অবস্থা নিরাপত্তায় থাকা উচিত। আর তাদের যদি নিরাপত্তা না হয় তাহলে অন্য সাধারণ মানুষ, সরকারবিরোধী যারা আছে তাদের কী হবে? বিচারের সংস্কৃতি চালু করতে হবে। অপরাধ করে শাস্তি না পেলে আমরা কেউ নিরাপদ থাকবো না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত ১০ বছরে প্রশাসনের সঙ্গে আওয়ামী লীগের একটা সুসম্পর্ক হয়েছে। বিশেষ করে প্রশাসনে পদোন্নতি, নতুন পে-স্কেলের মাধ্যমে বেতন বৃদ্ধি এবং বিসিএসের মাধ্যমে নিয়মিত সরকারি চাকরিতে নিয়োগ দানের ফলে সরকার প্রশাসনে শৃঙ্খলা এবং আস্থা তৈরি। সেই আস্থা নষ্টের চেষ্টাতেই ইউএনওর ওপরে হামলার নীলনকশা হলো কি-না তাও খতিয়ে দেখা উচিত।

তাছাড়া সামপ্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে, বিভিন্ন স্থানে প্রশাসনের সঙ্গে জনপ্রতিনিধি বা রাজনীতিবিদদের মধ্যে পরিকল্পিতভাবে একটা দ্বন্দ্ব সংঘাত ঘটানোর চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে, কোভিড-১৯ এর সময় থেকে এটা বেশ করে ঘটতে দেখা যাচ্ছে।

কোভিড-১৯ এর শুরু থেকেই প্রধানমন্ত্রী সকল দায়িত্ব দিয়েছিলেন প্রশাসনকে। জেলাতে জেলা প্রশাসক, উপজেলাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা সবকিছুর নেতৃত্বে থেকেছেন। প্রশাসনকে দায়িত্ব দেয়ার ফলে বিভিন্ন রকম অনিয়ম দুর্নীতি, চুরি বন্ধ হয়েছে, মানুষ ত্রাণটা ঠিকভাবে পেয়েছে।

কিন্তু এর উল্টো দিকে দেখা গেলো, মাঠ প্রদশাসনকে কর্তৃত্ব দেয়ায় রাজনীতিবিদরা মনোক্ষুণ্ন হলেন।  ইউএনকে হত্যা চেষ্টার সঙ্গে রাজনীতির সংঘাত রয়েছে কি-না তাও তদন্ত করার দাবি উঠেছে। যেহেতু ঘটনার সঙ্গে যুবলীগের নাম এসেছে।

এ বিষয়ে গবেষক ও মানবাধিকারকর্মী সৈয়দ আবুল মকসুদ আমার সংবাদকে বলেন, ‘বিষয়টি এখনো তদন্ত হচ্ছে। ভয়াবহতার কঠিন বিচার অবশ্যই হতে হবে। তবে আমরা এটি নিয়ে যা দেখছি এতে রহস্য মনে হচ্ছে। একজন রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির বাসায় সুরক্ষা সীমানায় কেউ ছুরি করতে যাবে, কাউকে কুপিয়ে আসবে এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। সব মিলিয়ে যদি বলি— এখনো তদন্তের বিষয়ের রহস্য বুঝতেছি না।

নানা অবিশ্বাসযোগ্য মন্তব্যর কারণে তদন্তে সঠিক বিষয়টি উঠে আসা নিয়ে শেষ পর্যন্ত কিছুটা সন্দেহ থেকে যায়। চুরির বিষয়টি যেটি উঠে আসছে তা বিশ্বাসযোগ্য নয়। এটির রহস্য কী বের করতে হবে। আমি মনে করছি এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সঠিক তদন্ত উপস্থাপন করে একটা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা আমরা দাবি করছি আশাও করছি।’

সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার আমার সংবাদকে বলেন, ‘এটা জঘন্য অপরাধ করেছে। প্রকৃত যারা তাদের শীঘ্রই বিচারের আওতায় আনা উচিত। যাদের গ্রেপ্তার করেছে তারা যদি দায়ি হয় তাদেরকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। এটার সঙ্গে যারা আড়ালেও জড়িত তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। এটাই হবে সঠিক পদক্ষেপ।

সবচেয়ে বড় কথা— ক্ষমতাসীন সরকারের সময়ে সারা দেশে এমন অনেক ঘটনা সৃষ্টি হয়েছে, বিভিন্ন ধরনের অন্যায় হচ্ছে। অনেকে অপরাধ করে পার পেয়ে যাচ্ছে। এর অবসান ঘটাতে হবে। আর তা হলে এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে।

আজ ইউএনও হয়েছে, কাল আরো রাষ্ট্রের বড়কর্তার ক্ষেত্রে হবে। আমি যদি বলি, ইউএনও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, যার পেছনে সরকারের সমর্থন আছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমর্থন আছে, তাদের তো সর্ব অবস্থায় নিরাপত্তায় থাকা উচিত।

আর তাদের যদি নিরাপত্তা না থাকে তাহলে অন্য সাধারণ মানুষ, সরকারবিরোধী যারা আছে তাদের কী হবে? বিচারের সংস্কৃতি চালু করতে হবে। অপরাধ করে শাস্তি না পেলে আমরা কেউ নিরাপদ থাকবো না।’

নারী ও পরিবেশবাদী খুশি কবীর আমার সংবাদকে বলেন, ‘একজন ইউএনওর বাসায় নিরাপত্তা প্রহরী থাকে, সেদিন কুপানোর সময় নিরাপত্তা প্রহরী কোথায় ছিলো। এখন যে চুরির বিষয় আসছে তা হাস্যকর। এটি পূর্বপরিকল্পিত।

অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির যোগসাজশ রয়েছে। একজনকে ইউএনওকে রাষ্ট্রের অনেক দায়িত্ব পালন করতে হয়। তার নিরাপত্তার বিষয়টি রাষ্ট্র থেকে থাকে। সেদিন ইউএনওর বাসায় কোনো নিরাপত্তা ছিলো না। এর জবাবও হওয়া উচিত। এককথায় বলা চলে— পুরো বিষয়টিতে রহস্য রয়েছে। এত বড় ঘটনাকে চুরির বিষয় সামনে আনায় রহস্য বুঝতেছি না।’

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Facebook Comments

সাম্প্রতিক খবর