শিরোনাম

রাজশাহীতে চাহিদার তুলনায় নগরীতে ওএমএস বরাদ্দের পরিমাণ অপ্রতুল

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : সোমবার, জানুয়ারি ৩১, ২০২২ ১১:৪১:০৬ অপরাহ্ণ
রাজশাহীতে চাহিদার তুলনায় নগরীতে ওএমএস বরাদ্দের পরিমাণ অপ্রতুল
রাজশাহীতে চাহিদার তুলনায় নগরীতে ওএমএস বরাদ্দের পরিমাণ অপ্রতুল
নিজস্ব প্রতিবেদক: নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত কল্পে এবং বাজারে চাল ও আটার মুল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার নিমিত্তে ওপেন মার্কেট সেল (ওএমএস) চালু করেছে সরকার।
দরিদ্র মানুষের জন্য চালু করা সরকারের খোলাবাজারে (ওএমএস) চাল-আটা বিক্রির কার্যক্রম চলে প্রতিদিন সকাল ৯ থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত। রাজশাহী মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে মোট ৩৪জন ডিলারের মাধ্যমে এই পণ্য বিক্রি কার্যক্রম চলমান  রয়েছে।
স্বল্পমূল্যে চাল ও আটা ক্রয় করার জন্য কাকডাকা ভোর থেকে নারী পুরুষ ও শিশুরা লাইন দিয়ে বসে থাকেন। প্রতিটি ডিলার পয়েন্ট থেকে একদিন পর পর চাল ও আটা বিক্রি করা হয়। এই পণ্যগুলো নিয়মতান্ত্রিকভাবে বিক্রির দিন নির্ধারিত ব্যক্তির নিকট বিক্রি করায় অনেকেই পণ্য না পেয়ে ফিরে যান। কারন জনগণের প্রতিদিন চাহিদা থাকলেও পণ্য না থাকায় ডিলারগণ ক্রেতাদের হাতে  পণ্য তুলে দিতে পারেন না বলে একাধিক ডিলার জানান। তারা নিয়মতান্ত্রিকভাবে যা পান তাই বিক্রি করেন বলে উল্লেখ করেন।
কিন্তু, চাহিদার তুলনায় ডিলার প্রতি বরাদ্দ ও সরবরাহ কম থাকায় অনেকেই বেলা শেষে খালি হাতে হতাশা নিয়ে ফিরে যান বাড়িতে।
সোমবাব নগরীর বেশ কয়েকটি ডিলার সেলস পয়েন্ট ঘুরে দেখা যায় শেষে অনেকেই খালি ব্যাগ নিয়ে ফিরে যাচ্ছে। এদের মধ্যে থেকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বলেন, তারা গরীব মানুষ। বাজারে চাল, আটা ও ময়দার যে দাম তা তাদের ক্রয় ক্ষমতার বাহিরে। শুধু চাল আটা হলেইতো আর খাওয়া হয়না।
এর সাথে অন্যান্য পণ্য সামগ্রী লাগে।
সেগুলোর মূল্যেও বাজারে আকাশচুম্মি।  এ অবস্থায় কিছুটা বাঁচতে এই চাল ও আটা ক্রয় করতে আসেন তারা। প্রচন্ড শীত উপেক্ষা করে এসেও শেষে পণ্য না পেয়ে ফিরে যান তারা। ক্রেতারা অনেকেই ওএমএস এর মাধ্যমে আরো বেশী করে চাল আটা বিক্রির জন্য সরকারের নিকট অনুরোধ জানান। উল্লেখ্য যে, উক্ত সেলস পয়েন্টগুলোতে প্রতি কেজি চাল বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা আর আটার বিক্রি মূল্য ১৮ টাকা।
সিটি কর্পোরেশন একাধিক ডিলার বলেন, ক্রেতা সংখ্যা ও তাদের প্রাত্যহিক চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ তুলনামূলক কম থাকায় আগত ক্রেতাদের শেষ পর্যন্ত সবাইকে পণ্য দেওয়া সম্ভব হয় না। অনেকেই পণ্য না পেয়ে খাঁর্লি হাতে ফিরে যান বাড়িতে। তারা আরো বলেন, চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম থাকায় বিক্রি শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চাল-আটা শেষ হয়ে যাচ্ছে।
এবিষয়ে রাজশাহী জেলার ভারপ্রাপ্ত খাদ্য নিয়ন্ত্রক অনির্বাণ ভদ্র জানান, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ডিলার আছেন ৩৪ জন। নিয়মানুযায়ী ‘বাই রটেশনে’ প্রতিদিন ১৫ জন ডিলারকে বরাদ্দ দেওয়া হয় জনপ্রতি দেড় টন চাল আর এক টন আটা। সে হিসেবে একদিনে নগরীতে ১৫ টন আটা ও প্রায় ২৩ টন চাল সরবরাহ করা হয়।
ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী উক্ত বরাদ্দকৃত চাল ও আটার পরিমাণ অনেক কম জানালে তিনি বলেন, এটা মন্ত্রণালয়ের বিষয়। মন্ত্রণালয় থেকে যখন যেভাবে বরাদ্দ আসে তাঁর ডিলারদেরকে সেভাবেই সরবরাহ করে থাকেন।
নগরীর অনেক এলাকায় ডিলার পয়েন্ট না থাকার কারণে অন্য এলাকাগুলো থেকে ছুটে আসে নিম্ন আয়ের মানুষেরা। যার কারণে নির্দিষ্ট সংখ্যক ডিলার পয়েন্টগুলোতে বৃদ্ধি পায় ক্রেতার ভীড়। এই সমস্যার কিছুটা হলেও লাঘব হবে যদি নগরীতে ডিলার পয়েন্টের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি বরাদ্দকৃত পণ্যের সরবরাহ আরো বৃদ্ধি করা হয়।
বিভিন্ন সেলস পয়েন্ট ঘুরে দেখাগেছে, চালের তুলনায় আটার চাহিদা বেশি। তাই প্রাত্যহিক চাহিদা ও আগত ক্রেতাদের সংখ্যা বিবেচনা পূর্বক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবিষয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করলে ভোগান্তি হ্রাস অনেকাংশে, কমে আসত বলে জানান নিম্ন আয়ের এই মানুষগুলো। কাউকে আর খালি ব্যাগ হাতে করে  ফিরে যেতে হতো না বাড়িতে।
Spread the love
Facebook Comments

সাম্প্রতিক খবর

Contact Us