শিরোনাম

রিপোর্ট প্রকাশের পরে বানারীপাড়ায় সেই সরকারি পুকুর ভরাট কাজ বন্ধ করলেন পৌর মেয়র

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২২ ১০:৫৪:৩৭ অপরাহ্ণ
রিপোর্ট প্রকাশের পরে বানারীপাড়ায় সেই সরকারি পুকুর ভরাট কাজ বন্ধ করলেন পৌর মেয়র
রিপোর্ট প্রকাশের পরে বানারীপাড়ায় সেই সরকারি পুকুর ভরাট কাজ বন্ধ করলেন পৌর মেয়র

রাহাদ সুমন, বিশেষ প্রতিনিধি॥
১০ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার ও ১১ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার দৈনিক কালেরকন্ঠসহ বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকায় ‘ বানারীপাড়ায় সরকারি পুকুর ভরাট করে দখল’  শিরোণামে সচিত্র রিপোর্ট প্রকাশিত হলে বরিশালের বানারীপাড়া পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুভাষ চন্দ্র শীল সেই পুকুর ভরাট কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন।

শুক্রবার সকালে তিনি কাজ বন্ধ করে দিয়ে সন্ধ্যায় অভিযোগকারী ক্ষতিগ্রস্থ স্থানীয় জনসাধারণ ও অভিযুক্ত নাঈম মোল্লাকে নিয়ে পৌরসভায় বৈঠকে বসেন। এসময় তিনি ওই পুকুরের সম্পত্তির বিষয়ে দু’পক্ষের কাগজপত্র পর্যালোচনা করে প্রমান পান পুকুরের ৩০ শতক সম্পত্তির মধ্যে ১২ শতক সরকারি খাস সম্পত্তি রয়েছে।

এসময় পৌর মেয়র পৌরসভার অনুমতি না নেওয়া এবং সরকারি খাস সম্পত্তিসহ জনগুরুত্বপূর্ণ পুকুর ভরাট করায় নাঈম মোল্লাকে সর্তক করেন। এরপরেও ভরাট কাজ করা হলে পৌরসভার আইনানুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন।

এসময় তিনি পৌরসভার প্যানেল মেয়র অধ্যাপক এমাম হোসেন ও স্থানীয় ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফিরোজ ঢালীকে বিষয়টি দেখার দায়িত্ব দেন। বৈঠকে পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফিরোজ ঢালী ও সাবেক কাউন্সিলর আহসান কবির নান্না হাওলাদার উপস্থিত ছিলেন। প্রসঙ্গত বানারীপাড়া পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কুন্দিহার গ্রামে উপজেলা পরিষদ লাগোয়া হাল ৩১১ নম্বর দাগের ৩০ শতক সম্পত্তিতে একটি বৃহৎ আকারের পুকুর রয়েছে। যারমধ্যে প্রায় ১২ শতক সরকারি খাস সম্পত্তি রয়েছে।

ওই  পুকুরটি দীর্ঘ বছর ধরে পাশ্ববর্তী ২০-২৫টি পরিবার ব্যবহার করে আসছিল। গত কয়েকদিন ধরে ওই এলাকার  রিপন ঢালী ও নাঈম মোল্লা  এ পুকুরটি বালি ভরাট করে দখল করে নিচ্ছিল। স্থানীয়রা বাধা দিলেও তাতে তারা কর্নপাত না করে ড্রেজার মেশিন দিয়ে পাইপের মাধ্যমে  বালি ভরাট কাজ অব্যাহতভাবে চালিয়ে যাচ্ছিল।

এ ব্যাপারে ক্ষতিগ্রস্থ স্থানীয়রা বরিশাল জেলা প্রশাসক,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা,পৌরসভার মেয়র,উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও থানার ওসিসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার ৪ দিনেও কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পত্রিকায় রিপোর্ট প্রকাশের পরে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এদিকে ঐতিহ্যবাহী  জনগুরুত্বপূর্ন এ পুকুরটি ভরাটের ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টিসহ এলাকার জনসাধারণকে নানা ভোগান্তি পোহাতে হবে।

এছাড়া পুকুর কিংবা জলাশয় ভরাট করতে হলে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি নেওয়ার বিধান থাকলেও এক্ষেত্রে সেই বিধানও অমান্য করা হয়েছে। তাছাড়া প্রশাসনের নাকের ডগায় সরকারি পুকুর ভরাট করা হলেও রহস্যজনকভাবে তারা নিরব রয়েছেন।

এদিকে গত দুই দশকে বানারীপাড়া পৌর শহরে সরকারি ও ব্যাক্তিমালিকানাধীন শতাধিক পুকুর,জলাশয় ও ১৪/১৫টি সরকারি জনগুরুত্বপূর্ণ খাল ভরাট করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করায় বর্ষা মৌসুমে গোটা পৌর শহরে ব্যপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি ও পরিবেশ দূষনের কারনে পৌরবাসীকে অন্তহীন দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এদিকে পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট সুভাষ চন্দ্র শীলের এ পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতনমহল।

Spread the love
Facebook Comments

সাম্প্রতিক খবর

Contact Us