শিরোনাম

লঞ্চে আগ্নিকান্ডের রাতে নিজের দুধ খাইয়ে অন্যের সন্তানকে বাঁচানো শিরিন উপহার পেলেন

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : মঙ্গলবার, জানুয়ারি ১১, ২০২২ ১০:৫৪:৩৬ অপরাহ্ণ
লঞ্চে আগ্নিকান্ডের রাতে নিজের দুধ খাইয়ে অন্যের সন্তানকে বাঁচানো শিরিন উপহার পেলেন
লঞ্চে আগ্নিকান্ডের রাতে নিজের দুধ খাইয়ে অন্যের সন্তানকে বাঁচানো শিরিন উপহার পেলেন
মোঃ সাগর হাওলাদার ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
ঝালকাঠিতে লঞ্চে আগ্নিকান্ডের বিভীষিকাময় সেই রাতে স্থানীয়  নিজের দুধ খাইয়ে অন্যের শিশু সন্তাকে বাঁচানো মমতাময়ী মা শিরিন বেগমকে সম্মাননা উপহার উপহার দিয়েছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
আরটিভিতে সংবাদ প্রচারে পরে বুধবার বিকালে লঞ্চে আগ্নিকান্ডের ঘটনাস্থল দিয়াকুল গ্রামের ওই নারীর বাড়িতে উপহার নিয়ে যান ছাত্রলীগ নেতা কর্মীরা। শিল্প মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাবেক শিল্প ও খাদ্য মন্ত্রী কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র আমির হোসেন আমু এমপি মহোদয় ও তার কন্যা ব্যারিস্টার সুমাইয়া অদিতির পক্ষ থেকে শিরিন বেগমকে একটি সেলাই মেশিন এবং তার শিশু সন্তানদের শিক্ষা উপকরণ দেয় হয়। জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক  শুভাশীষ সেন গুপ্ত, সাবেক সাহিত্য সম্পাদক মোঃ রাশেদ খান  ও খোকন হালদার তাদের হাতে এসব উপহার তুলে দেন।
লঞ্চে আগ্নিকান্ডের ঘটনাস্থল দিয়াকুল গ্রামের নারী শিরিন আক্তার বিপদগ্রস্ত যাত্রীদের নদীর তীর থেকে বাড়ি নিয়ে সেবা সুস্থতা করে হাসপাতালে পাঠাতেও সহযোগিতা করেছেন। কোন বিনিময়ে নয়, সন্তাানের প্রতি মায়ের ভালোসার দৃষ্টান্তমূলক এ কাজের জন্য এখন বিভিন্ন মহলের প্রশংসায় ভাসছেন এ নারী।
শুভাশীষ সেন গুপ্ত বলেন, শিরিন বেগম বিপদগ্রস্ত যাত্রীদের উদ্ধার ও সহায়তা করে মানবতার যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমরা এ উপহার দিয়েছি।
 এছারাও ঝালকাঠি জেলা  ছাত্রলীগের সাবেক সাহিত্য সম্পাদক মোঃ রাশেদ খান বলেন,ঝালকাঠি সুগন্ধা নদীতে গত ২৪ ডিসেম্বর ঢাকা থেকে বরগুনা গামী এমভি অভিযান ১০ আগুন লেগে শত শত মানুষ আহত হয়েছেন এদের মধ্যে থেকে সেই লঞ্চের এক মহিলা যাত্রী তার সাত মাসের শিশু বাচ্চাকে নদীতে ফেলে দেয় মহিলা বলেন আমি মরে গেলে আমার বাচ্চাকে বাঁচিয়ে কি হবে তাই সে বাচ্চাটিকে নদীতে ফেলে দেয় এর পরে বাচ্চাটি দিয়াকুল নদীর তীরে ভেসে উঠে এবং সেই দিয়াকুলের এক নারী শিরিন আক্তার তাকে বাঁচিয়ে তুলেন এবং নিজের বুকের দুধ খায়িয়ে বাচ্চাটিকে সুস্থ করেছেন। আমরা এই নারীর উদ্ধার ও সহায়তা করে মানবতার যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তার জন্য সামান্য উপহার দিয়েছি।
শিরিন বেগম বলেন, লঞ্চে আগ্নিকান্ডের দিন সেখানে গিয়ে দেখি আগুন থেকে বাঁচতে যাত্রীরা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে ভেসে ভেসে তীরে আসছেন মানুষ। পরে তাঁদের উদ্ধার করে নদী থেকে তুলে বাড়ি নিয়ে যাই। এসময় দেখি এক মা তার ৬ থেকে ৭ মাস বয়সী সন্তানকে বাঁচাতে নদীর তীরে ছুড়ে ফেলেন। আমি  শিশুটির কান্না শুনে নদী থেকে তুলে মাতৃ স্নেহে দুধ খায়িয়ে শিশুটিকে বাঁচানোর চেস্টা করেছি। কোন কিছুই পাবার আশায় নয়। এ উপহার দেয়া জন্য ধন্যবাদ জানান শিরিন বেগম।
গত ২৪ ডিসেম্বর অভিযান-১০ লঞ্চের অগ্নিকান্ডে এখন পর্যন্ত ৪৮ জনের প্রাণহানীর খবর পাওয়া গেছে। প্রাণ বাঁচাতে নদীতে পড়ে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন অনেকে। আগুনে পুড়ে যাওয়া ছাড়াও হাত-পা ভেঙে আহত হয়েছেন অনেকে। তবে নদীতে উদ্ধার কাজ শেষ করেছে জেলা প্রশাসন।
Spread the love
Facebook Comments

সাম্প্রতিক খবর

Contact Us